প্রচ্ছদ » আমাদের সাহিত্য » চল আমরা বল খুঁজি

চল আমরা বল খুঁজি

আমি কাদঁছি, চোখের পানি পড়ছে তো পড়ছেই। একটি মেয়ের জন্য কাদঁছি…..

আমার সপ্নের পরী। প্রথম দেখাতেই ওর প্রেমে পড়েছিলাম। বন্ধুত্বটা ভালবাসাতে রূপ নিতে শুরু করলে ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি।

জানাতে পারছিলাম না বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাবে বলে । সে আমার খুব কেয়ার করত , ফোন করে জানতে চাইত খেয়েছি কিনা , পড়ছি কি না , এমনকি ওর বাসায় যেতাম গ্রুপ স্ট্যাডির জন্য।

এভাবেই শুরু। দুজনের বন্ধুত্বটা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে সবাই সন্দেহ করা শুরু করে যে আমাদের মধ্যে কিছু চলছে। কিন্তু আমি একপায়ে খাড়া হলেও সে তো দুই পায়ে স্থির।

এমএফসি, মান্দারিন, এবিসি, রেড চিলি, হান্ডি তে আমাদের পদ চিহ্ন পড়েছে। পেটে চিকেন রোস্ট, গ্রিল, তন্দুরি, পুডিং, থাই সুপ, শর্মা পড়েছে। সবই বন্ধুত্বের খাতিরে। আমার তেমন খরচই ছিল না রিক্সা ভাড়াটা ছাড়া। প্রাইভেটের নোট আদান – প্রদান হত।

কখনো ইচ্ছে করে টাচ করি নি । কিছু অাদান প্রদান হলেও সাবধানতার সাথে হয়েছে। রিক্সায় হয়তবা একসাথে বসা হয়েছে কিন্তু হাতটা হাতে রাখা হয়নি।

সবসময় তুই করে কথা বলতাম, দুষ্টামি করতাম। ওকে কেও প্রপোজ করলে জানাত, হাসাহাসি করতাম। নিজের ক্রাশ সম্পর্কে বলতাম। সে নিজেই হাসত আমার করুন অবস্থা দেখে।

মাঝেমাঝে ঝগড়া হত, অভিমান, রাগ, বকা দেওয়া সবই হত। নিজে কখনো তেমন ভাবে রাগ করতে পারিনি, কিন্তু সে রাগ করলে নিজেই রাগ ভাঙাতে চলে আসত। সে বলত সে নাকি একটি ছেলেকে খুবই ভালবাসে, বর্ণনা দিত ছেলেটি খুবই এলোএলো, অগোছালো। মাথার চুলে স্টাইল নাই, কাপড়ে স্মার্টনেস নাই।

সেই থেকে ওইরকম হতে চেষ্টা করেছি। জানতাম না আগেও সেরকম ছিলাম।

আজকে যখন সে আমাকে এমএফসিতে ডাকল, না করলাম না। রিক্সাভাড়াটা যথারীতি আমি দিলাম। গ্রিল আর পরটার সাথে ফালুদা অর্ডার করলাম।

গ্রিল শেষ করেই সবে ফালুদাতে চুমুক দিয়েছি, হটাৎ এমন কিছু কথা শুনলাম যেটাতে আমি ‘থ’ ।

‘ বিয়াদব কোথাকার, বদমাইশ, ফালতু, টাংকি বাজ, কুত্তা। ‘

পাশেই ওয়েটার ছিল, ইতস্তত করে চলে গেল। হয়ত সে লজ্জিত। এদিকে আমি মুখ তুলতে পারছিলাম না।

পরক্ষণেই আবার সেই কন্ঠে বলে উঠল, ” এতদিন কই ছিলি? কুত্তা কিছু বলস নাই কেন? মেয়েরা কি সব পারে? নিজে কষ্ট পাচ্ছস আর আমাকেও কেন কষ্ট দিচ্ছস? তুই না আমার কষ্ট সইতে পারস না? ”

ফালুদার চুমুকটা তখনো শেষ হয়নি। কিছু বলতে পারছিলাম না। সে চুপ হয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। ওয়েটার এসে দেখে আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। আবার চলে গেল সে।তার আগে টিসুর বক্সটা রেখে গেল, হয়তবা এর আগেও এমএফসিতে এরকম কান্ড ঘটেছে।

যাই হওক আমি ওকে বললাম, দেখ অথৈ তুকে আমি হারাতে চাই না। আমরা যদি এসবে যাই তবে তো বন্ধুত্বটা নষ্ট হয়ে যাবে। তুর মা কিন্তু আমাকে বিশ্বাস করে, আমি ওনার বিশ্বাস ভাঙতে পারব না। আমার তত বড় ক্ষমতা নাই। আমি হয়ত তোপ কে ভালবাসি কিন্তু এর জন্য যদি আমাদের দূরে সরে যেতে হয় তাহলে? তুই নিজেও আমাকে হারাবি আর আমিও। তার চেয়ে বরং এটাই ভাল রে।

কথাগুলো বলতে পারছিলাম না , ইচ্ছে করছিল চিৎকার করে কাদিঁ। না, চুপ করে রইলাম মাথা নিচু করে।

মাথা তুলে দেখি সে নেই। বেরিয়ে আসার আগে জানলাম বিলটা পেইড। ওয়েটার আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।

রাতে বাসায় এসেই ঘুমাতে চেষ্টা করলাম, ২ টার দিকে আন্টির ( ওর মা) ফোন। ভয় করছিল রিসিভ করতে। প্রথমবার আমলে নিলাম না, ভাবলাম হয়ত ওর ফোনে টাকা ছিল না বিধায় আন্টির ফোন থেকে কল করেছে। নাহ, পরপর ৫ বার ভাইব্রেট হতে লাগল। শেষ পর্যন্ত রিসিভ করেই নিজেকে সামলাতে পারলাম না, অান্টি কাদঁছে। দৌড়ে বের হলাম, গায়ে রাতের কাপড়। উদ্দেশ্য মেডিকেলের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ড। অথৈ যে হাসপাতালে। তখনো জানতাম না কি হয়েছে। যখন পৌছঁলাম ওকে আর দেখতে পেলাম না। ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আংকেল এসে আমাকে একটা চড় মারলেন। অপরাধ মাথা চাড়া দিয়ে উঠল।

আন্টি জানালেন, ঘুমের ঔষধ খেয়েছে ৫ পাতা। সাথে পিপড়ার ঔষধ। অবস্থা ভাল না। জানতে চাইলেন কি হয়েছে। আন্টিকে তখন সবই বললাম ধরা কন্ঠে। শেষ পর্যন্ত কেদেঁ দিলাম। দেখি আন্টিও কাদঁছে, আংকেল জানাল রাতেই নাকি অথৈ সব ওদের জানিয়েছে । আমার আর ওর বক্তব্যে পার্থক্য নেই মোটেও।

আমি কাদঁছি, চোখের পানি পড়ছে তো পড়ছে। একটি মেয়ের জন্য কাদঁছি। তার বাবা – মায়ের সামনে কাদঁছি। তার মা আচঁলে মুখ লুকিয়েছে। বাবা পাশের ওয়েটিং চেয়ারে বসে পড়ল। নিজেকে সামলাতে পারছিনা।

পাশ দিয়ে এমএফসির সেই ওয়েটারকে হেটেঁ যেতে দেখলাম। আবারো আমাকে দেখে হাসছিল।

একটু পরেই ওটিএর লাল বাতি নিভে গেল। জ্বলে উঠল সবুজ বাতি। রেড এলার্ট থেকে গ্রিণ সিগনাল। টুংটাং শব্দে দড়জাও খুলে গেল। এপ্রোন পড়া দুজন ভদ্রলোককে দেখলাম বেরিয়ে আসতে । নাহ আমি শুনতে পারব না ওরা কি বলবে, দৌড়ে বেরিয়ে এলাম রাস্তায়। হর্ণ দিতে দিতে প্রবল বেগে মাল বোঝায় ট্রাকটি আমার দিকেই এগিয়ে আসছে……. আমি আসছি অথৈ তোর কাছে। দুজন আবারো একসাথেই হাটঁব এবার কিন্তু হাত ধরতে মানা নেই।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।