প্রচ্ছদ » উড়াল » জাগ্রত তরুণ, নব জাগরনের নতুন অধ্যায়

জাগ্রত তরুণ, নব জাগরনের নতুন অধ্যায়

জাগ্রত তরুণ একটি একতাবদ্ধ, সামাজিক এবং অরাজনৈতিক সংগঠন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে একটি অসাম্প্রদায়িক ও আদর্শ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে অধ্যয়নরত কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার অদম্য সাহসী, মেধাবী ও সৃজনশীল কিছু তরুণের হাত ধরে ২০০৮ সালে গড়ে উঠেছে সংগঠনটি । জাগ্রত তরুণ এর প্রত্যেকটি কার্যক্রম খুবই দৃঢ়তার সাথে করে থাকে। এর প্রত্যেক সদস্য মানবিক আদর্শে বলীয়ান হয়ে স্বেচ্ছায় মানবতার জন্য কাজ করে । মানুষের সত্যিকারের মূল্যবোধ জাগ্রত করে আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জাগ্রত তরুণ ৬ শতাধিক বই সম্বলিত ‘আলোক সমাবেশ’ লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করে। মানব সেবার মহান ব্রত হৃদয়ে লালন করে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে এর রক্তদান সংক্রান্ত অঙ্গসংগঠন ‘জীবন’। আবহমান বাংলার হারানো গৌরব ফিরে পেতে তথা বিলুপ্তি হুমকির মুখে পরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে জাগ্রত তরুণ প্রতিষ্ঠা করেছে ‘মুক্তমঞ্চ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক অঙ্গসংগঠন। এছাড়া সংগঠনটি বছরে অন্তত দুইবার বড় পরিসরে বড় পর্দায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বা শিক্ষা ও জনসচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে এবং প্রত্যেক শীতে গ্রামে গ্রামে গিয়ে খালি জায়গায় অথবা বাড়ির আঙ্গিনায় এই প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটির মূল কার্যক্রমও মূলত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ক্লাসের ব্যবস্থা করা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ফিরিয়ে এনে তত্ত্বাবধান করা, বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, উপজেলা ভিত্তক বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, দেশবরেণ্য গুণীজন ও শিক্ষার্থীদের লেখনী সম্বলিত বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘মশাল’ প্রকাশ করা।  সুজলা সুফলা বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বর্ষায় সংগঠনটি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপযোগী স্থানে ‘শ্যামলায়ন’ প্রোজেক্টের ব্যানারে বৃক্ষরোপণ করে থাকে। এর অন্যান্য কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো প্রতি শীতে গ্রামে গ্রামে ও ঢাকায় শীতবস্ত্র সংগ্রহ করা ও দেশব্যাপী শীতার্তদের মাঝে তা বিতরণ। ঈদে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে জাগ্রত তরুণের গৃহীত প্রোজেক্ট ‘একটি নতুন জামা,একটু প্রাণখোলা হাসি’ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। যথাযথভাবে জাতীয় দিবস সমূহ পালন ও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে আসছে সংগঠনটি। এর নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে আরও রয়েছে বিশিষ্ট ব্যাক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ, সামাজিক সমস্যা সমূহ যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করা, আলোচনা সভার আয়োজন, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা,দেয়াল লিখন, পোস্টারিং ইত্যাদি। এছাড়া নিজেদের সদস্যদের ব্যাক্তিত্ব ও মেধা বিকাশে জাগ্রত তরুণ নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা, সঙ্গীত আড্ডা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ইংরেজি চর্চা, ভ্রমন, টিশার্ট তৈরি, শীতের নির্জনতায় ফায়ার ক্যাম্প স্থাপন, খেলাধুলা সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কাযক্রম পরিচালনা করে থাকে । ৭ বছরে পদার্পণ করা সংগঠনটির ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি সাব্বির আহমেদ বলেন ‘ আমাদের ভবিষ্যৎ  গৃহীত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেয়াই দেয়াই এখন মূল লক্ষ। শুদ্ধ সাংস্কৃতিক বিকাশের সংগ্রামকে সামাজিক আন্দোলন রূপদান করতে চাই আমরা, সুশিক্ষার শক্তি আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মানবতার জয়গান ছড়িয়ে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যেতে চায় আমাদের তরুণেরা। জাগ্রত তরুণ বিশ্বাস করে সমাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে এবং এ লক্ষ্য অর্জনে জাগ্রত হয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে তরুণদের।’

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।