প্রচ্ছদ » উড়াল » ‘হিমু পরিবহন’

‘হিমু পরিবহন’

হুমায়ূন আহমেদের ভক্তদের প্রানের সংগঠন হিমু পরিবহন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সবুজ মাঠে তাদের সাথে আমার প্রথম আড্ডা। মানবসেবায় তরুনদের এই উদ্দীপনা আমাকে সেদিন করেছিল মুগ্ধ। হিমু পরিবহন সম্পর্কে কিছু সাধারন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সংগঠনের অন্যতম সংগঠক আসলাম হোসেনঃ

আমার পরিচিত কিংবা অপরিচিত অনেকেই আমার কাছে হিমুপরিবহণ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করে। এই লেখায় আমি প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার
মতো করে দেয়ার চেষ্টা করবো। সর্বাধিক যে প্রশ্নের সম্মুখিন আমি হই তা হলো-

১।হিমু পরিবহণ কি? এই গাড়ি কোন
রুটে চলে? এইগাড়ির কাউন্টার
কোথায়?

এই প্রশ্নের জবাবে আমার উত্তর হলো-

# হিমু পরিবহণ আধুনিক  বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী লেখক হুমায়ূন
আহমেদ এর ভক্তদের একটি সংগঠন। এটি কোন বাস সার্ভিস নয়। পরিবহণ
শব্দটি আমরা রূপক অর্থে ব্যবহার করে থাকি এই কারণে যে হুমায়ূন আহমেদ এর সৃষ্টিগুলোকে প্রথমে আমরা সারাদেশেরপ্রতিটি বাড়িতে এবং পরবর্তীতে বিশ্বদরবারে পৌছে দিতে চাই ৷ হিমু পরিবহন এর অনেক গুলো কাউন্টার বা শাখা রয়েছে।
বর্তমানে হিমু পরিবহণের কার্যক্রম
বাংলাদেশের ৪০টি জেলায় বিস্তৃত।
বাকি জেলাগুলোতে হিমু পরিবহণের কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আশা করি অতি দ্রত
বাকি জেলাগুলোতে হিমু পরিবহণের
কার্যক্রম শুরু হবে।
বাকি প্রশ্ন ও উত্তরগুলো নিম্মরুপ:-

৩। হিমু পরিবহণের লক্ষ্য,উদ্দেশ্য ও
কার্যক্রমসম্পর্কে জানতে চাই?

# হিমু পরিবহণের প্রধান
উদ্দেশ্যহলো বাংলাদেশে একটি
আর্ন্তজাতিক মানেরক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কাজ করা। হুমায়ূন আহমেদ স্যারের
শেষইচ্ছা ছিলতিনি বাংলাদেশে একটি
আর্ন্তজাতিক মানেরক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবেন। স্যারেরশেষ ইচ্ছা পূরণের লক্ষ্যে কাজ
করছে হিমুপরিবহণ। তবে হিমু পরিবহণের আরও কিছু লক্ষ্যআছে। সেগুলো হলো :-

হিমু পরিবহণ সারা দেশের হুমায়ূন
আহমেদ ভক্তদের সংগঠিত করে দেশের তরুণসমাজকে হুমায়ূন আহমেদ এর সাহিত্য পাঠে উদ্বুদ্ধকরবে। দেশের সকল
মানুষকে হুমায়ূন আহমেদ এর
বিভিন্নসৃষ্টিকর্ম যথা- নাটক, সিনেমা ইত্যাদি দেখতে উদ্বুদ্ধ করবে। দেশের মানুষের মাঝে হুমায়ূন আহমেদ এর সাহিত্যও সৃষ্টিকর্ম পৌছে দেবার
লক্ষ্যে নিয়মিতসেমিনার, পাঠচক্র, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে এবং হুমায়ূন আহমেদ
বিষয়কপুস্তক, সাময়িকী, বুলেটিন প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণকরবে। দেশের সকল জেলায় হুমায়ূন আহমেদ
লাইব্রেরী ওসংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠার
মাধ্যমে তাঁরসৃষ্টিকর্মগুলো সংরক্ষণের
উদ্যোগ গ্রহণ করবে। যেহেতু হুমায়ূন
আহমেদ স্যার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন সেহেতু
ক্যান্সারসম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সামাজিকআন্দোলনের সূচনা করবে এবং ক্যান্সার আক্রান্তরোগীদের সহায়তার চেষ্টা করবে। হুমায়ূন আহমেদ এর জন্ম ও মৃত্যুদিবসরাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের
লক্ষ্যে সরকারের নিকটদাবি উত্থাপন
করবে এবং এইদাবি অর্জনে সহায়ক
কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

৩। বাংলাদেশে একটি আর্ন্তজাতিক
মানেরক্যান্সার হাসপাতাল
প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?
এটা তো একটা অলীক স্বপ্ন।

# তরুণরা চাইলে সবই সম্ভব।
তাছাড়া আমরা হুমায়ূন স্যারের ভক্ত।
তিনি যে কাজ করতে চাইতেন তা অবশ্যই সম্পন্নকরতেন। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ নেত্রকোণার
একঅজপাড়াগাঁয়ে তিনি শহীদ
স্মৃতি বিদ্যাপিঠনামে একটি বিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাংলাদেশের অন্য
কোন গ্রামে এত সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং আধুনিক বিদ্যালয় নেই। তাছাড়া আমি মনে করি যে কোন ভালো কাজেরসূচনা হয় স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে।
আমি যদি স্বপ্নই না দেখি তবে ভালো কাজ করবো কিভাবে?
ইংরেজীতে একটি কথা আছে
“A dream you dream alone is only a dream but a dream we dream together is
reality”
আজ আমরা ৮,০০০ তরুণ- যুবা স্বপ্ন দেখছি। কয়েক বছর পর ৮,০০,০০০ মানুষদেখবে। তখন অবশ্যই সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২,০০,০০০ মানুষক্যান্সার আক্রান্ত। এছাড়া প্রতিবছর অসংখ্যমানুষ ক্যান্সার
আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। ক্যান্সার
চিকিৎসার খরচ বাংলাদেশী টাকায় ৮,০০,০০০ থেকে ৩,০০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত। কে জানে কাল হয়তো আপনি কিংবা আমি ক্যান্সার আক্রান্ত হবো। তাই নিজেদের বাঁচার তাগিদেই বাংলাদেশে একটি আর্ন্তজাতিক মানেরক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। কথা প্রসংগে বলি, হুমায়ূন স্যারের মা জনাবা আয়েশা ফয়েজ যখন আমাদের মাথায়হাত রেখে বলেন ৮,০০০ ছেলে-মেয়েরসদিচ্ছা যে কোন ভালো কাজকরতে পারে, পৃথিবী বদলে দিতে
পারে তখন আমরা অনুপ্রাণিত হই। বিশ্বাস করি আমরাওপারব। তাই তো আমরা স্বপ্ন দেখি এবং সকলকে স্বপ্ন দেখতে বলি। স্বপ্নই সম্ভাবনা। আপনিওজোরে- শোরে মহব্বতের সহিত স্বপ্ন দেখুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:- হিমু পরিবহণ শুধু
স্বপ্নই দেখছে না। স্বপ্নকে বাস্তবায়নের
লক্ষ্যে কাজকরে যাচ্ছে।

৪। ক্যান্সার হাসপাতাল করার জন্য এখন পর্যন্তদৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ
তো লক্ষ্য করা যায় নি। হিমু পরিবহণ
কি কাজ করছে?

# এই প্রশ্ন যারা করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি ভাইয়া/আপু সকল পদক্ষেপ কিন্তু সবসময় দৃশ্যমান হয় না। ক্যান্সার হাসপাতাল করা হিমুপরিবহণের
প্রধান লক্ষ্য একথা সত্য কিন্তু হিমু
পরিবহণের আরও কয়েকটি লক্ষ্য আছে। আমরা আমাদের বাকি লক্ষ্যগুলো অর্জনে কিন্তুকাজ
করে যাচ্ছি। তাছাড়া হিমু পরিবহণের
সদস্য সংখ্যা অতি দ্রুত বাড়ছে।
ফলে সংগঠনেরকাঠামো নির্ধারণ, নিবন্ধন, কমিটি গঠন প্রভৃতি কাজেও আমাদের যথেষ্ট সময় ব্যয়করতে হচ্ছে। আমরা নিজেদের
পুরোপুরি সংগঠিত করে তারপর ক্যান্সার হাসপাতালের কাজে হাতদিতে চাই। নিজেদের পায়ের তলার
মাটি শক্তনা করে এত বড় কাজে হাত
দিলে আমাদের এইপ্রচেষ্টা তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ারসম্ভাবনা প্রবল। তাই আমরা নিজেদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পাদন করে এই কাজে হাত দেব। ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে – slow and steady can win the race .
তাই ক্যান্সার হাসপাতালেরকাজে আমরা খরগোশের মতো দ্রত দৌড়ে ক্লান্ত হয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে আবারলক্ষ্যের দিকে এগুতে চাই না।
আমরা কচ্ছপেরমতো ধীর-স্থিরভাবে পথ চলার মাধ্যমে লক্ষ্যঅর্জন করতে চাই। হুমায়ূন আহমেদ ক্যান্সার হাসপাতাল অনেক বড় একটি কার্যক্রম। আমরা আমাদের এই কাজের সাথে হুমায়ূন
স্যারের পরিবার, বন্ধুবর্গ, আপনজন এবং হুমায়ূন স্যারের ভক্তদের একত্রিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
ইতোমধ্যে তাদের অনেকেই
আমাদের সাথে থাকার সম্মতি ব্যক্ত
করেছেন। হিমু পরিবহণ এই অল্পদিনের পথ পরিক্রমায় হুমায়ূন স্যারেরপ্রায় ১০০ জন
ভক্তের লেখা নিয়ে একটি বইপ্রকাশ
করেছে। হুমায়ূন আহমেদ এর জন্ম
ও মৃত্যুদিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনেরলক্ষ্যে সরকারের নিকট দাবি উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
যা অতি শীঘ্রই দৃশ্যমান হবে।
ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য হিমু পরিবহণএকটি বুকলেট প্রকাশ করবে। যার কাজ চলমানরয়েছে। এই কাজের জন্য
ইতোমধ্যেই দেশেরস্ব নামখ্যাত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞগণ অভিবাদন জানিয়েছেন
এবং তাদের সহযোগীতা প্রাপ্তিরপূর্ণ
আশ্বাস প্রদান করেছেন।
সবশেষে বলি হুমায়ূন আহমেদ
ক্যান্সারহাসপাতাল বাংলাদেশে হবেই এ ব্যাপারে কোনসন্দেহ নেই। We beleave we can do it. তাইপ্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে এগিয়ে আসুন,হিমু পরিবহণের পাশে থাকুন। দৃষ্টি আকর্ষণ – আমি লেখকহিসেবে অতি সাধারণ। তাই লেখার মাঝে কোনভুল হলে আশাকরি ক্ষমাসুন্দর
দৃষ্টিতে দেখবেন।আর আমার
ভুলগুলো আমাকে ধরিয়ে দিলে
অবশ্যই শুধরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবো।
আমার এই অতি উৎকৃষ্ট মানের
বাজে লেখা ধৈর্য ধরে পড়ারজন্য
আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ।

জয়
হুমায়ূনআহমেদ,
জয় হিমু পরিবহণ,
জয়
হিমুত্বের জয়।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।