প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » ইতিহাস নিরবে নিভৃতে সত্যের জয়গান গেয়ে যায়

ইতিহাস নিরবে নিভৃতে সত্যের জয়গান গেয়ে যায়

প্রভাব’ ব্যাপারটা এতোটাই শক্তিশালী ও আনপ্রেডিক্টেবল যে আপনি কখন কার দ্বারা প্রভাবিত হবেন তা বলা মুশকিল। এ ক্ষেত্রে বয়স, শ্রেণী, পেশা বহুলাংশেই গৌণ। আপনি বঙ্গবন্ধু দ্বারা প্রভাবিত হলেই আওয়ামীলীগ  দল করবেন ব্যাপারটা হাস্যকর। কারন বঙ্গবন্ধু কোন গোষ্ঠী বা দলের নন। একজন ব্যাক্তির ব্যাক্তিত্ব সম্পূর্ণরুপে গড়ে উঠে তার উপর প্রভাববিস্তারকারী বিভিন্ন প্রভাবকের সমন্বয়ে। আমরা সেটাই বলতে পছন্দ করি যা নিজের শুনতে ভালো লাগে। তাই লিখি যা নিজের পড়ে ভালো লাগে। এজন্য একজন মানুষ কার দ্বারা প্রভাবিত হয় সেটা ব্যাপকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তার ব্যাক্তিত্ব গঠনে।

সম্প্রতি এমন একজন ব্যাক্তি না ফেরার দেশে চলে গেলেন যার দ্বারা আমি কৈশোর থেকেই ব্যাপকভাবে প্রভাবিত, যার বক্তব্য আমি তন্ময় হয়ে শুনতাম, যার ইতিহাস বিশ্লেষণে হতাম প্রতিনিয়ত বিস্মিত। তাঁর প্রতিটি কথাই আমি সবসময় হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করার চেষ্টা করতাম,তাঁর সান্নিধ্য সবসময়ই অমূল্য ছিলো আমার কাছে। হ্যাঁ! তিনি আর কেও নন ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন, সাবকে প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ কাজী জাফর আহমদ।

কাজী জাফর আহমেদ এর বর্ণিল রাজনৈতিক জীবনের অতিসামান্য অংশ দেখার সৌভাগ্য আমার হয়ছে। আমার হংকং প্রবাসী চাচা তাঁর পরম স্নেহের ছিলেন, হংকং গেলেই ওনার বাসায় যেতেন। এই কিংবদন্তী নেতা বাড়িতে আসলেই আমরা বন্ধুমহল উনার কথা শুনতে ছুটে যেতাম। একদিন কাকার কথা বললাম। আমার পরিচয় জানামাত্রই কাছে টেনে নিয়েছিলেন। সিএ পড়ি শুনার পর খুবই খুশী হয়েছিলেন, খুব এপ্রিশিয়েট করেছিলেন। কাজী জাফর আহমেদ সম্পর্কে মূল্যায়ন করার ন্যূনতম যোগ্যতা ও স্পর্ধা আমার নেই, এমনকি আমি এটাও জানি তাঁর সমন্ধে আমার সম্যক অনুভুতি প্রকাশে শব্দমালা অক্ষম। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম অনেকেই তার নাম পর্যন্ত আজ জানে না। তাই নিজের মনকে মুক্তি দেয়ার স্বার্থপরতা অন্তরে ধারন করে দুই কলম লিখার দুঃসাহস করছি, তাঁর বর্ণিল রাজনৈতিক জীবন নিয়ে অনেক লিখা আছে তাই এখানে আমি শুধুমাত্র আমার ব্যাক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু ব্যাপার তুলে ধরতে চাই যেগুলো আমার মনে হয় অনেকেরই অজানা। ভুল হলে আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে মূল্যায়িত হবো।

কিংবদন্তী কাজী জাফর আহমদ এর যেই দিকটা মেঘে ঢাকা

কাজী জাফর আহমদ গত ছয় দশকের বেশী সময় ধরে এ অঞ্চলের রাজনীতি ও আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ও বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করেন, এতো দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বর্তমান সময়ের আর কোন রাজনীতিবিদের নেই। বর্তমান সময়ের শীর্ষ ও প্রথম শ্রেণীর রাজনীতিবিদদের অনেকেই এই গুণী নেতার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছেন, তাঁর শিষ্য হিসেবে রাজনীতি করেছেন।  কাজী জাফর আহমেদ এর রাজনৈতিক সততা নিয়ে অনেকেই না জেনে মিথ্যা অভিযোগ তোলে কিন্তু তারা ভুলে যায় কাজী জাফর আহমদ ছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ধনী পরিবারের সন্তান, ব্রেড এন্ড বাটারের জন্য রাজনীতি করার সামান্যতম কারন তাঁর ছিলো না। রাজনীতিতে কাজী জাফরের স্ব-উদ্যোগী অভিষেক হয়েছিলো শুধুমাত্রই বিবেকের তাড়না থেকেই। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন দীর্ঘ ৩ দশক ধরে। সংগ্রামী এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের সিংহভাগই কাটে শ্রমিক আন্দোলনে। খুব অল্প বয়সে যোগ দেন ভাষা আন্দোলনে। রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা মেটাতে গিয়ে খুইয়েছেন পৈতৃক সুত্রে পাওয়া অঢেল সম্পত্তি। তাঁর সম্পর্কে যারা খোঁজ খবর রাখেন তারা ভালোভাবেই জানেনে শেষ বয়সে এসে কি নিদারুণ অর্থকষ্টে ভুগেছেন এই সংগ্রামী মানুষটি।  একজন ব্যাক্তি যিনি চাইলেই পৈতৃক সুত্রে শিল্পপতি হতে পারতেন বা অর্জিত ক্ষমতার অপব্যাবহার করে গড়তে পারতেন সম্পদের পাহাড়, তিনি এর কোনটিই করেননি। আফসোস! দুঃখজনকভাবে এই ব্যাপারটি নিয়ে কখনোই সেই ভাবে চর্চা হয়নি। তাঁর অবদান অনুযায়ী সেভাবে জয় করতে পারেননি আমাদের অকৃতজ্ঞ হৃদয়।কোন এক অজানা কারনে, অদৃশ্য ইশারায় সবসময়ই বিতর্কিত করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছেলি এই বর্ষীয়ান নেতাকে। যেমন চেষ্টা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে।

তাঁর রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও জীবন দর্শন   

কাজী জাফর আহমদের জীবদ্দশায়ই তাকে নিয়ে আমার স্পষ্ট বিশ্লেষন ছিলো তিনি আমাদের জনগোষ্ঠীর জন্য নেতা হিসেবে ‘টু গুড’ ছিলেন। তিনি আমাদের সময়ের উপযোগী ছিলেন না, তাঁর দূরদর্শিতা সবসময়ই ছিলো অভেদ্য। আমার মনে আছে বিভিন্ন জনসভায় এমনকি ঘরোয়া পরিবেশে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ একটা কথা বারংবার বলতেন ’ ইতিহাস নিরবে নিভৃতে সত্যের জয়গান গেয়ে যায়’। চারপাশে তাকিয়ে উপলব্ধি করতাম এযুগে এমন একটা উক্তির ভার নেয়ার মতো শ্রোতার সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে অতিনগণ্য। তাঁর দর্শন ও উপস্থাপনায় আমি ইতিহাসের প্রবল প্রভাব লক্ষ্য করেছি। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে শ্রমিক আন্দোলন, উনসত্তরের গন অভ্যুত্থানে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র যোদ্ধা হিসেবে তিনি অসীম বীরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।

একজন কাজী জাফর আহমেদ কে যে মৃত্যু ঢেকে ফেলতে পারবে না, সেটা তিনি নিজেও জানতেন। ইতিহাসের অনুগত ছাত্র হিসেবে তিনি কাওকে ছেড়ে কথা বলতেন না, এমনকি নিজেকেও প্রতিনিয়ত ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাড় করাতে ন্যূনতম দ্বিধাবোধ করতেন না। তাঁর রাজনৈতিক চেতনা প্রবলভাবে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানি’র দ্বারা প্রভাবিত ছিলো। তিনি ছিলেন এই আধ্যাত্মিকতাসম্পন্ন মহান নেতার খুবই নিকটতম শিষ্য। তাঁর বর্ণীল রাজনৈতিক জীবনের একটি সোনালি অধ্যায় কেটেছে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে। তাঁর আলোচনায় প্রায়ই বঙ্গবন্ধুর কথা উঠে আসতো। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৃতিচারন করে আক্ষেপের সুরে বলতেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে ক্ষমতাসীন দল অনেক দূরে সরে গেছে’। নব্বইয়ের দশকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি ও এইচ এম এরশাদ এক্সপায়ারাড হয়ে যেত, যদি ত্রাণকর্তারূপে কাজী জাফর না থাকতেন। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহনের ফলেই বর্তমান রাজনীতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রনে জাতীয় পার্টির এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিগত কয়েক দশক ধরে উদ্ভূত বিভিন্ন জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতে এই রাজনৈতিক মহারথীর দূরদর্শীতা ও বিচক্ষনতা বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নিয়ন্ত্রন করে। বিভিন্ন জোট সৃষ্টির পিছনে তাঁর সরাসরি হস্তক্ষেপের কথা অনেকেরই অজানা। বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সাথে ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে এই দূরদর্শী নেতার ভুমিকার কথা উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করা হয় না। শেষ জীবনে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়ে শুধুমাত্র আদর্শগত অবস্থানকে অটল রাখতে ত্যাগ করেছেন নিজের হাতে গড়ে তোলা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল।

স্থানীয় রাজনীতির সঙ্কীর্ণ ফ্রেমে একজন কাজী জাফর

শেষ বছরগুলোতে তিনি প্রায়ই আক্ষেপ করে বলতেন আমার এলাকার মানুষকে আমার ব্যাপারে ভুল বোঝানো হয়েছে। আমাকে জাতীয় রাজনীতিতে এমনসব দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে যে স্থানীয় রাজনীতিতে নিয়মিত হওয়ার সুযোগ আমার ছিলো না। তিনি ঐক্যমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনিই বলেছিলেন চৌদ্দগ্রামের জনতা গড়ে তোল একতা। আমাদের সবসময় বলতেন, “আমি কখনোই কিছু রাস্তাঘাট বা স্থাপনা তৈরি করতে চাইনি,আমি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহন করেছিলাম যার বাজেট এইসব ছোটখাট কাজের চেয়ে অনেকগুণ বেশী, যাতে করে ভৌগলিকভাবে এই এলাকার বাণিজ্যিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, আমি  এই অঞ্চলকে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আকস্মিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জন্য বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আমার উদ্যোগ যদি সফল হতো তাহলে এই অঞ্চলে মানুষের বেকারত্ব থাকতো না উল্টো এই এলাকায় কর্মসংস্থানের জন্য মানুষ ভিড় করতো’’।

গ্যাস, বিদ্যুৎ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এইসব উন্নয়নে তাঁর অবদানকে একপাশে রেখে আমি নিরপেক্ষভাবে যখন পৃথিবীর অবহেলিত ও দলিত সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর দিকে তাকাই, তখন ভেবে অবাক হই চৌদ্দগ্রামের মতো একটা সীমান্তবর্তী উপজেলা কীভাবে বাংলাদেশের প্রথম সারির সমৃদ্ধ ও উন্নত উপজেলার মধ্যে স্থান করে নেয়। যে যাই বলুক একজন কাজী জাফর আহমেদের জন্ম না হলে সমৃদ্ধ চৌদ্দগ্রামের ইতিহাস অবশ্যই ভিন্ন হতো। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো এরকম একজন নেতা নিজের রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন বিন্দুতে পতিত হয়েছিলেন আমাদের অদূরদর্শি অবস্থান ও অকৃতজ্ঞত মানসিকতার বলী হয়ে। আমি এখানে নির্বাচনে জয় পরাজয়ের কথা বলছি না শুধু এটাই বলতে চাচ্ছি যিনি আমাদের গর্ব করার মতো পরিচয় দিয়েছেন, সমৃদ্ধির পথ সুগম করেছেন তিনি আরও অনেক ভালো কিছু প্রাপ্য ছিলেন।

শুধুই কি কাজী জাফর??

যে জাতি তার গুণীজনদের অবদান অস্বীকার করে, তাদের প্রাপ্য সম্মান দেয় না সে জাতি ইতিহাসের নির্মম চক্রে পতিত হয়ে দুঃখ দুর্দশা কবলিত হয়ে একসময় তাদের স্মরণ করতে বাধ্য হয়। আমরা বড্ড স্মৃতিভ্রষ্ট জাতি, এই অভিযোগ একদিনে প্রতিষ্ঠা পায়নি। অনেকেই ভাবতে পারেন শুধুমাত্র ব্যাক্তিগত ভালো লাগার বশবর্তী হয়েই আমি লেখাটি লেখেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক সত্য এটাই আমাদের অকৃতজ্ঞ মানসিকতার বলী শুধুমাত্র একজন কাজী জাফর আহমেদ হননি।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিদেশি কোন এক বুদ্ধিজীবী বলেছিলেন ‘ বাঙালি জাতিকে আর বিশ্বাস করা যায় না’। আমরা কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রণী সেনানী ও সংগঠকদের অবদান এই প্রজন্মের কয়জন জানে? বঙ্গবন্ধুর ছবিসম্বলিত ব্যানার পোস্টারে আকাশ ঢেকে ফেলা হলেও বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পাঠ ও তা থেকে শিক্ষা নেয়ার প্রয়াস মোটেও দেখা যায় না। নিপীড়িত মানুষের জন্য বারংবার কারাবরণ করা এই মহান নেতার আদর্শের থেকে বিচ্ছিন্নরা বুক ফুলিয়ে তাঁর আদর্শের কথা বলে। আমি নিশ্চিত আমার প্রজন্মের বেশীরভাগ তরুণেরই জানা নেই নিউক্লিয়াস বা চার খলিফা সম্পর্কে।এই প্রজন্মের থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছেং স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান স্বপ্নপুরুষ মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানীকে, জাতীয় চার নেতা হয়তো জেলে শহীদ হওয়ার কারনে ইতিহাস বইয়ে মাথা গোজার খানিকটা জায়গা পেয়েছেন, এইটুকুই যা। মুক্তিযুদ্ধের মহাবীর আতাউল গণি ওসমানীদের অবদান বন্দী হয়ে গেছে কুইজ বইয়ের ছোট্ট ধাঁধায়। তরুন প্রজন্মের কয়জন জানে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রণী সংগঠক শাজাহান সিরাজ বা সিরাজুল আলম খানদের, যারা নীরবে নিভৃতে চোখের জল ফেলে কাটাচ্ছেন নিজদের শেষ বেলা। এই পতাকা এই মানচিত্রের স্থপতিরা আজ আমাদের সৃষ্ট ওল্ডহোম। আ স ম আব্দুর রবদের মতো মহাবীর অ্যাকিলিসরা এই কলি যুগের নির্মম ট্র্যাজেডির শিকার। নিরবে নিভৃতেই চলে গেছেন সংগ্রামী মেজর জলিন, জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখনরা। প্রজন্মের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের চূড়ান্ত পতনের অপেক্ষায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকির মতো বাঘা বীররা।

বর্তমান সময়ে অনেকেই স্বার্থবাদী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও প্রকৃত ইতিহাস চর্চার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কোন দৃশ্যম্যান উদ্যোগ দেখা যায়না। সার্বিকভাবে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরে শিক্ষা ব্যাবস্থায় কোনরূপ কার্যকরী পরিবর্তন আনার উদ্যোগ গৃহীত হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে জীবনভর আমাদের জন্য সংগ্রাম করে আমাদের অজ্ঞতা,অবহেলার শিকার হয়েই একে একে অমর্যাদাকর বিদায় বরন করছেন কাজী জাফর আহমদের মতো কিংবদন্তীরা। এমন ঘোর অমাবস্যায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কোন পথই আমাদের সামনে অবশিষ্ট নেই হে নেতা, ইতিহাস একদিন অবশ্যই এই অসত্যের মেঘকে কেটে হেসে কথা বলবে,আপনি তো জানেন একদিন নীরবে নিভৃতে সত্যের জয়ধ্বনি বাজবেই। সেদিন আপনি হাসবেন চৌদ্দগ্রামের গণমানুষের ঐক্যের মিছিল দেখে, অনুকরণীয় অনুপ্রেরণা হয়ে উদ্দীপ্ত করবেন প্রজন্মকে। কারন ‘ইতিহাস নিরবে নিভৃতে সত্যের জয়গান গেয়ে যায়’।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।