প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কথা » গ্যাসের বিল চুলার হিসেবে নয় মিটার অনুযায়ী নিন

গ্যাসের বিল চুলার হিসেবে নয় মিটার অনুযায়ী নিন

আমি গ্রামের ছেলে, গ্রামে সহজে গ্যাস পৌছায় না।  আমাদের ৩ জনের পরিবারে চাকুরিজীবি বাবা মা সারাদিনের ব্যাস্ততার পর যে চুলায় জ্বাল দিবেন সেটা আর হয়ে উঠে না। তাই গ্যাসের চুলা কেনা হয়েছে।  কিন্তু এখানে তো আর লাইনের গ্যাস নাই যে শহরের মত ৪০০-৪৫০ টাকায় গ্যাস পাব।  বাধ্য হয়ে গ্যাস ট্যাংকার কিনতে হয়েছে। কিন্তু প্রায় দেড় হাজার টাকার গ্যাসে তো আমাদের ২০ দিনও যায় না।  তখন ভাবতাম কি চমৎকার বিচার শহরে মাসে ৪০০-৪৫০ আর আমরা ২০০০-২৫০০।

কয়েকদিন আগে দেখলাম শহরে গ্যাসের দাম বেড়েছে ,  আর কি হইছই। সরকার এই করেছে সেই করেছে। সবার মুখে একি কথা জ্বালানি তেলের দাম কেনা দামের প্রায় দ্বিগুণ, নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী।

গ্যাসের ক্ষেত্রে আসি, আমরা খুব বাচিয়ে গ্যাস খরচ করি। প্রয়োজন ছাড়া গ্যাসের চুলায় রান্না হয় না তারপরো খরচ অনেক। কিন্তু শহরে গ্যাস ছাড়া উপায় নেই, তাহলে  চিন্তা করুন তো একবার শহরে কি পরিমাণ গ্যাসের প্রয়োজন?  বলতে গেলে দ্বিগুণ কিন্তু দাম প্রায় ৪ গুণ কম। একটা জিনিস কি জানেন?  আমরা যেখানে বাচিয়ে গ্যাস খরচ করি সেখানে শহরের অনেকেই গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখে। সকালে রান্না হওয়ার পর দুপুর পর্যন্ত জ্বলতে থাকে এরপর আবার রাত পর্যন্ত এরপর আবার সকাল পর্যন্ত এরপর আবার….. এই জ্বলতে থাকা তাদের ক্ষেত্রে কখনোও নিভে না আর তারাই গ্যাসের দাম বাড়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করে।  কেন এভাবে জ্বালিয়ে রাখে জানেন?  শুধু একটি দেয়াশলাইয়ের  কাঠির জন্য।   এটা কিনে আনতে তাদের মনে থাকে না ঠিকই তবে গ্যাসের চুলা
বন্ধ করতে কখনো ভুলে না। এভাবে ২৪ ঘন্টা জ্বালালেও তাদের বিল একি না জ্বালালেও একি তাই হয়ত তাদের ওই ১ টাকার দেয়াশলাইয়ের কাঠির ধার ধারতে হয় না। কিন্তু গ্রামে?  মাসে হয়ত ৩০ টা বাক্স খরচ হবে কিন্তু অর্ধেক টাকা তো বাচবে।

পরিচিত একটা ভাইয়ের কথা বলি,  তিনি এক বাসায় টিউশনি করাতেন। তো পড়ার রুম থেকে কিচেন দেখা যেত। তিনি খেয়াল করতেন যে প্রায় সময়ই গ্যাসের চুলা বেকার জ্বলতে থাকত। একদিন তিনি ছাত্রের মায়ের কাছে জানতে চাইলেন ব্যাপারকি।  তিনি জানালেন যে দেয়াশলাইয়ের কাঠি ছিল না। পরের দিন আবারো জ্বলতে দেখায় পড়ানো শেষ করে নিচে নেমে এক ডজন দেয়াশলাইয়ের বক্স কিনে দিলেন।  ওনার ভাষ্যমতে গৃহিণী নাকি খুব কড়া চোখে তাকিয়েছিলেন।  পরের দিন পড়াতে গেলে ছাত্রের মা মাসের অর্ধেকেই টিউশন ফি দিয়ে বলে দিলেন আর পড়াতে হবে না। ওনি টাকা তো নিলেনই না বরং বলে এলেন টাকার লোভ ওনার নাই।

এরকম হাজারো ঘটনা হয়ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আশে পাশে আর অজান্তে নয় বরং চোখের সামনেই অপব্যবহার হচ্ছে হাজারো ঘনফুট গ্যাসের যে গ্যাসের যোগান সীমাবদ্ধ আর চাহিদা বাড়ছে দিন দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে স্টক ফলে বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে ।

বাড়তি দামের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করার জন্য আমার এই লেখা নয় আমি শুধু বলতে চাচ্ছি দেশে সবারই বিত্ত এক না।  কেও যেমন নিম্ন মধ্য বিত্তের কেও তেমন উচ্চবিত্ত বা বিত্তশালী।  তাদের আয়ে পার্থক্য আছে,  সম্মানে পার্থক্য আছে,  পোশাকে পার্থক্য আছে,  খাবারে পার্থক্য আছে কিন্তু যে গ্যাস দিয়ে খাবার রান্না করা হয় সে গ্যাসের দামে কোন পার্থক্য নেই। কেন এই বৈষম্য?  কেন এই বিভেদ?  এটা কি ডিশ কানেকশনের বিল যে সবার ব্যবহার একি?

সিএনজি গ্যাসের দামও বেড়েছে ফলে বাস বা অটোতে স্বাভাবিকভাবেই ভাড়া বেশি নিবে।  মিটারের ব্যাবস্থা থাকলেও তারা মিটারে ভাড়া নিবে না।  সিএনজিতে যদি মিটারের ব্যাবস্থা থাকে তাহলে বাসায় গ্যাসের লাইনের জন্য কি মিটারের ব্যাবস্থা করা যায় না? বিদ্যুত সংযোগের জন্য প্রতি বাসায় যেমন  মিটারের ব্যাবস্থা করা আছে তেমনি যদি গ্যাসের জন্যও মিটারের ব্যাবস্থা করা হয় তাহলে হয়ত গ্যাসের ব্যবহারে অনেকটা লাগাম টানা যাবে তার অাগে নয়।
আসুন আমরা নিজেরাই গ্যাসের অপব্যবহার বন্ধ করি এবং অন্যদেরও এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলি।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।