প্রচ্ছদ » ভ্রমন » সিলেট ভ্রমন

সিলেট ভ্রমন

এস এস সি পরক্ষার আগেই আমরা কয়েকজন বন্ধু চিন্তা করেছিলাম সিলেট যাওয়ার । পরীক্ষা শেষ হতেই তার আয়োজন শুরু । মোট ৮ জন। ৬ই এপ্রিল ২০১৫, বিকাল ৫ টায় কালনী এক্সপ্রেস এ আমাদের যাত্রা শুরু । আমাদের মাঝে একজনের দাদাবাড়ি কুলাউড়া হওয়ায় আমরা সেখনেই অবস্থান করার চিন্তা করি।
৭ই এপ্রিল সকালে কুলাউড়া থেকে মাধবকুণ্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি । পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় ১০ টা বাজে । মাধবকুন্ড ইকোপার্ক থেকে পায়ে হাঁটা পথে ১৫ মিনিটের দূরত্বে  মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। হাঁটার সময় নানা প্রজাতির পাখি , বানর ও সরীসৃপ দেখা যায় । জলপ্রপাতে পৌঁছানোর আগেই এর শব্দ শোনা যায় । জলপ্রপাতের নিচের পানিতে  নামা নিষেধ তবে বিপদসীমার বাইরে থেকে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য অবলোকন করার সাথে সাথে পা ভিজিয়ে নেই । বেলা ৩ টার পর সেখান থেকে ফেরার পথ ধরি । এক হোটেল এ খাওয়া-দাওয়া করে সোজা কুলাউড়া ।
৮ই এপ্রিল সকালে রওনা হই জাফলং এর উদ্দেশ্যে । লম্বা রাস্তা অতিক্রম করে যখন জাফলং এ পৌঁছাই তখন প্রায় ১২ টা বাজে । গাড়ি পার্ক করে হেঁটে অথবা নৌকায় করে মূল স্থানে যাওয়া যায় । সামনেই ভারত । পানিতে নামার অনুমতি থাকলেও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বেশী দূর যাওয়া হয় না । নাফ নদীর স্বচ্ছ পানিতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় পাহাড়ের গায়ে ক্ষুদ্র বাড়িঘর দেখতে পাবেন । নদীতে ভারতীয় নৌকা মাছ ধরছে এমন দৃশ্য দেখা যায় । দেখতে দেখতে সময় কেটে যায় । ফেরার পথে শামুক বা পাথরের সামগ্রী কিনি প্রিয়জনদের জন্য ।
পরদিন ৯ই এপ্রিল আমরা যাই শ্রীমঙ্গলে । যাওয়ার পথে একটি চা বাগানে কিছুক্ষন ঘুরি । পরে যাই শ্রীমঙ্গল এর রূপশপুর নামক স্থানে অবস্থিত বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন এ । সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ চিড়িয়াখানায় নানা প্রজাতির পশুপাখি রয়েছে । শ্রীমঙ্গলে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষে রওনা হই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এর উদ্দেশে । পথে Grand Sultan Tea Resort & Golf এ যাত্রা বিরতি করি । লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পৌঁছাই যখন বিকাল হয়ে এসেছে । বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এ উদ্যানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু বিধি রয়েছে । নিরবতা বজায় রাখা এবং সন্ধ্যার আগে ফিরে আসার কথা কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়ে দেয় । বেশ কিছু প্রাণীর দেখা সহজেই পাই । বাঘ ছাড়া অন্য অনেক প্রাণী থাকলেও সবার দেখা পাওয়া সহজ নয় । সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসি এবং কুলাউড়ার পথ ধরি।
পরদিন বিকালে পারাবত এক্সপ্রেস এ চিরচেনা ঢাকায় ফিরে আসি ।
অসাধারন সুন্দর এ শহরে বারবার যেতে ইচ্ছে করে । সুতরাং ঘরে বসে অলস সময় না কাটিয়ে ছুটিতে সিলেট যাওয়ার কথা চিন্তা করতেই পারেন ।

কীভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে প্লেন , বাস অথবা ট্রেন সব উপায়েই সিলেট যাওয়া যায় । প্লেনের ভাড়া জনপ্রতি ২০০০/- বাসে যেতে চাইলে ভাড়া ৬০০/- থেকে ১০০০/- এবং ট্রেনে ভাড়া ২১৫/- থেকে ৪০০/- পর্যন্ত ।

থাকাঃ সিলেট অথবা শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য মাঝারি থেকে উচ্চ মানের হোটেল রয়েছে । এগুলোর ভাড়া দৈনিক ৫০০/- থেকে ৩০০০/- টাকা পর্যন্ত । কোনো সার্কিট হাউজে থাকার ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয় । হোটেল থেকেই চা-বাগান দেখার ইচ্ছা থাকলে Grand Sultan Tea Resort & Golf  এ থাকতে পারেন ।

যাতায়তঃ যেখানে যাবেন মাইক্রোবাস ভাড়া করে যাওয়াই ভালো । হোটেল থেকেই মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা করে নিতে পারেন । আর বাসে করে যেতে চাইলেও যাওয়া যায় । তবে সময় ও পরিশ্রম দুটোরই বেশী প্রয়োজন হবে ।

দর্শনীয় স্থানঃ মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত , জাফলং , বিছানাকান্দি , হামহাম ঝর্ণা , রাতারগুল জলাবন , লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান , বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন , বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রভৃতি ।

 

>