প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কাছে দেশ মানে

আমার কাছে দেশ মানে

পৃথিবীতে আমাদের দেশই মনে হয় একমাত্র দেশ যেখানে চ্যারিটির নামে লাখ লাখ টাকা সংগঠনের হোতাদের পকেটে যায়।

বড় বড় সংগঠনের বড় বড় সমাজসেবীরা বিভিন্ন দেশ/প্রতিষ্ঠান থেকে ডোনেশন পায়। কোন প্রজেক্ট হাতে নিলে ৪০% মূল কাজে ব্যয় হয় বাকিটা আনুষঙ্গিক খরচ। নাম বললে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক বড় বড় সংগঠনের নাম বলা যাবে। কিন্তু কি দরকার?

যেখানে ওই সকল বড় বড় সংগঠন মানব সেবার নামে পকেটে টাকা ঢুকাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই দেশেই অনেক তরুনরা বন্ধুবান্ধব মিলে নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে মানব সেবা করে বেড়ায়, অনেকের মতে যা নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানো। এই দিকটা আমি নিজেই অনুভব করতে পারি, বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে কারন আমিও তাদের দলেরই একজন।

বড় বড় সংগঠনের সাথে আমাদের মত ছেলে মেয়েদের পার্থক্য কোথায় জানেন??

আসুন মাত্র ২ টা উদাহরন দেখাইঃ

১। অনুমোদনের কথায় আসি। বাংলাদেশে সরকারী যে সকল অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়  এসকল প্রাইভেট সংস্থাগুলোকে অনুমোদন দেয় তারা প্রথমেই দেখে বানিজ্যিক অফিস আছে কিনা। ভেরিফিকেশনে যেই অফিসার আসে তার হাতে কত টাকা দেয়া হল, কিংবা বড় কোন লিংক। স্বভাবতই দাপ্তরিক এই ঝামেলা আমাদের মত অনেক ছেলেমেয়েরাই করতে পারে না। কারন মাসিক ৭০/৮০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে অফিসের ব্যাবস্থা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া সরকারী ওসকল অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ে আমাদের কোন যোগ সূত্র নেই। তাই আমরা সরকারী কোন অনুমোদন পাই না। কিংবা অফিসের সামনে ১০/২০ হাজার টাকা দামের বিশাল সাইনবোর্ড লাগিয়ে শো আপ করাও হয় না আমাদের। আমরা পারি শুধু সাধ্যমত সাহায্য করতে। তাই আমাদের কাজ অবৈধ।

FB_IMG_1442314006409

১। রোজার মাসে বড় বড় সাত তারকা হোটেলে পথ শিশুদের জন্য ইফতার পার্টি আয়োজন করা। ১জন শিশুর বিপরীতে ১০ জন স্বনামধন্য ব্যাবসায়ী বা উপরের লেভেলের কোন নেতাকে দাওয়াত করা। কারন বক্তৃতা পর্বে কেউই লাখের নিচে ডোনেশন ঘোষনা করবে না।৩ ঘন্টা বক্তৃতা শেষে কিছুক্ষব সেল্ফি, খাওয়া দাওয়া (যেখানে অতিথিদেরই বেশী খেয়াল রাখা হয়) তারপর প্রজেক্ট শেষ।

কিন্তু বন্ধুরা মিলে যে সকল সংগঠন গড়ে তুলি আমরা সাত তারকা হোটেলে ইফতার পার্টির আয়োজন করতে পারি না। বড় বড় লোকদের দাওয়াতও দিতে পারি না। ইফতারের আগে ৩ ঘন্টা বক্তৃতা দিতে পারি না। হাজার হাজার সেল্ফি তুলতে পারি না। পারি না মিডিয়া এনে প্রচার করতে। আমরা পারি রেললাইনে বা রাস্তার পাশে আয়োজন করে কম দামী খাবার খুবই তৃপ্তির সাথে পথশিশুদের সাথে ভাগ করে খেতে। এজন্য আমরা কোন শিশুর কাপরে লেভেল লাগিয়ে ছবি তুলিনা। ওদের মুখের একটু হাসিই  আমাদের জন্য অনেক। কারন আমাদের এক একটি টাকা অনেক কষ্টে জমানো। হয়তো অনেকদিন ধরে হাত খরচ জমিয়ে জোগার করা, অথবা ঈদের কম দামী কাপর কিনে টাকা বাচানো ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আমাদের কাজ অবৈধ।

FB_IMG_1442313999359

আরো অনেক উদাহরন আছে যা হয়তো আপনিও জানেন বা দেখেন। তাই আর বললাম না। বুদ্ধিমানের জন্য অল্প কথাই যথেষ্ট

FB_IMG_1442314001618

মজার স্কুলের সম্পর্কে জেনেছি প্রায় ৮ মাস। ওরা পথশিশুদের জন্য পথেই একটি স্কুল পরিচালনা করত। হয়তো বিলাশ বহুল কিছু ছিলো না তবুও বাচ্চারা কিছু শিখতে পারত। বড় বড় সংগঠনের মত এখানকার শিক্ষকরা বেতন পেত না। উলটো নিজেদের পকেট থেকে খরচ করত।

FB_IMG_1442313996315

নিজের কাজ রেখে,  বাসায় বকা শুনে ফাউ কাজ করত। যারা স্টার কাবাবের সামনে সারাদিন ঘুরত ১ টুকরা মাংসের জন্য তাদের ভরপেট খাবার খাওয়ানোই ওদের দোষ। ওদের বড় দোষ হল ওরা শো-আপ করতে পারে নি। শুধু শিশুদের কথা না ভেবে শো আপ করা উচিত নাহলে পাপ হয়। তাই আজ ওই স্কুলের উদ্যোক্তারা রিমান্ডে। কারন অত্যন্ত সুস্পষ্ট যা উপরে লিখেছি। আসলে মজার স্কুলের বিষয়টা দেখে আফসোস হচ্ছে কেন ওরা নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়াল??

FB_IMG_1442313994245

যাক এই থেকে আমি কিছু শিক্ষা পেয়েছি কাল থেকে তা কাজে লাগাব। সবুজছায়া শিক্ষাকেন্দ্র নামে আমার একটা ছোট্ট স্কুল আছে। বন্ধুরা মিলে করেছিলাম। ২০/৩০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু আছে আমার স্কুলে।

সবুজছায়া শিক্ষাকেন্দ্র

সবুজছায়া শিক্ষাকেন্দ্র

২০১৪ সাল থেকে স্কুলটা চালাচ্ছি। মজার স্কুলের মতই ফ্রি স্কুল। মাসে মাসে খাতা, কলম,  পেন্সিল, রাবার সব আমরাই দিতাম।

IMG_20150915_163538

যাই হোক কাল থেকে স্কুলটা আর খুলব না। কি লাভ? মজার স্কুলের উদ্যোক্তার’ তো অনেক স্বপ্ন দেখেছিল পথশিশুদের নিয়ে কিন্তু কি হল তাদের? রিমান্ড হল সাথে বদনামও। যতদিন দেশে ভালো কাজের জন্য রিমান্ড দেয়া হবে তত দিন আর কোন ভাল কাজ নয়। আমরা তো সরকারের কাছে বা অন্য কোন বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাহায্য চাচ্ছি না। নিজেরা যতটুকু সম্ভব করছি, তারপরও যদি শিশু পাচার কারীর তালিকায় নাম উঠাতে হয় তাহলে নিজের খেয়ে ঘরে বসে থাকাই শ্রেয়। এগুলো আমাদের কাজ না। এগুলো করতে নেই পাপ হয়………………

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।