প্রচ্ছদ » লাইফ স্টাইল » ফ্যাশন » ছেলেদের ফ্যাশন

ছেলেদের ফ্যাশন

ফ্যাশন এখন আর ছেলে-মেয়ে মানে না। সবাই সমানভাবে চান, যেন নিজেকে ফ্যাশনেবল দেখায় সবার সামনে। মেয়েদের জন্য যেমন আছে কিছু ফ্যাশন অনুষঙ্গ তেমনই কিছু আছে ছেলেদের জন্যও। তাদের ওয়্যারড্রোবেও কিছু জিনিস থাকাটা মাস্ট। তাহলে যেকোনো সময় নিজেকে একেবারে বিশেষ করে তুলতে পারবেন সহজে।

মডেলঃ বাচ্চা গ্রুপ

মডেলঃ বাচ্চা গ্রুপ

ছেলেদের ফ্যাশন নিয়ে টিপস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ের  ছাত্র আকিব আহাম্মেদ।

 ফ্যাশনেবল হতে হলে একটি ছেলেকে প্রথমেই  কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমনঃ

• ব্যক্তিত্বের সাথে যায়, এমন পোষাক নির্বাচন করা।

• পোষাকটি যেন মাপমতো এবং আরামদায়ক হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা। বয়স কম নাকি বেশি সেটি এখানে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

• কেবলমাত্র ফ্যাশন করার জন্য কোন পোষাক পরা যাবে না, যে পোষাকটি আপনাকে মানায় সেই পোষাকটিই পরতে হবে।

• শরীরের আকৃতি, গায়ের রঙ, চুলের রঙের দিকে খেয়াল রেখে পোষাক নির্বাচন করা।

• যা ব্যাক্তিত্বের সাথে মানায় সেটিই উপযুক্ত পোষাক, ফ্যাশনের শিকারে পরিণত করবেন না নিজেকে।

• কাপড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদি সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন তাহলে বন্ধু, বড় ভাই কিংবা আপনার ঘনিষ্ঠ কারো সাহায্য গ্রহণ করুতে পারেন যারা আপনার চাইতে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

জুতাঃ ছেলেদের ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ হিসেবে প্রথমেই আসে জুতার প্রসঙ্গ। আর এখন স্যান্ডেলের ট্রেন্ড হিসেবে একটু পা ঢাকা স্যান্ডেলের চলই বেশি।

শার্টের সাথে মিলিয়ে পড়তে পারেন সামনের দিকে গোলাকার শু বা একটু চৌকানো শু। রং কালো বা হালকা মেরুন হতে পারে। এছাড়া হালকা ডিজাইনের নানা স্যান্ডেল পরতে পারেন পাঞ্জাবীর সাথে। পাঞ্জাবির সাথে পড়বার উপযোগী পাতলা সোল এর ডিজাইন করা স্যান্ডেলেরও কাটতি রয়েছে কমবেশি।

এছাড়া যারা জিন্স দিয়ে হাই শোল্ডার পাঞ্জাবী পড়বেন তারা এর সাথে পড়তে পারেন বাহারী ডিজাইনের স্নিকার্সও। ছেলেদের এইসব স্টাইলিশ জুতার জন্য প্রথমেই ঢুঁ মারা যেতে পারে বসুন্ধরা সিটিতে। বর্তমানে এখানেই রয়েছে বাটা এবং এপেক্স এর সবচেয়ে বড় দু’টি শোরুম। সেই সাথে অন্যান্য শোরুম তো রয়েছেই।

বেল্টঃ জুতার পর ছেলেদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো বেল্ট।

বিশেষ করে যারা একটু ওয়েস্টার্ন লুকে নিজেদের ফুটিয়ে তুলতে চান তাদের ক্ষেত্রে বেল্ট কিংবা কোমরবন্ধনীটি স্মার্ট কিংবা স্টাইলিশ হওয়াই বাঞ্চনীয়। আর এ জাতীয় স্টাইলিশ বেল্টের জন্য ঢুঁ মারতে পারেন এক্সটেসি, সোল ড্যান্স কিংবা ডিজেল এর মতো ফ্যাশন আউটলেটগুলোতে।

মডেলঃ কবির

শার্টঃ ফ্যাশনে শার্ট ছেলেদের ফ্যাশনের মধ্যে টি শার্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় , বিশেষ করে কম বয়সের ছেলেদের জন্য।

যখন কোথাও ঘুরতে যাবেন বা বিশেষ কারো সাথে কিছু সময় কাটাতে পছন্দ করবেন তখন একটু দ্বিধায় পরে যান কি পরবেন । যদিও এটা যার যার পছন্দের ওপর নির্ভর করে তবুও অনেকেরই বেশি প্রিয় পুরোপুরি কালো শার্ট। মেয়েরাও ছেলেদের কালো শার্টে বেশি পছন্দ করে ।

কালো ছাড়াও নিজ নিজ গায়ের রং অনুযায়ী পছন্দ মত ফুল শার্ট পছন্দ করতে পারেন । হাফ শার্ট থেকে ছেলেদের ফুল শার্টে বেশি ভাল দেখা যায়। যারা নিয়মিত স্যুট পরেন তারা স্যুটের রঙের ওপর নির্ভর করে শার্ট পরবেন।

স্যুট গাঢ় রঙের হলে শার্ট পরবেন হাল্কা রঙের। গরমের সময় স্যুট পরতে না চাইলে শর্ট শার্ট, ফতুয়া এবং জিন্স পরতে পারেন।

মডেলঃ আসিফ

ঘড়িঃ বেল্টের মতো ঘড়িও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাশন অনুষঙ্গ।

গোল এবং চৌকো ডায়ালের ঘড়ি ব্যবহার করতে পারেন। লেদার অথবা মেটাল বেল্টের ঘড়ি বেশ ভালোই মানায় সবাইকেই।

তাই খেয়াল রাখুন সেটাও যেন থাকে আপনার ওয়্যারড্রোবে। বিশেষ দিনগুলোতে নিজেকে একটা বিশেষ লুক এনে দিতে এই ঘড়িটাই হয়ে উঠবে খুব উপকারী।

সানগ্লাসঃ বিশেষ ডিজাইনের কিছু আকর্ষণীয় সানগ্লাসও সেই অবশ্যক এর তালিকাতে পড়বে।

আপনার সংগ্রহে নানা রকমের সানগ্লাস থাকতেই পারে। তবে সেসব থেকে নিজের জন্য বিশেষ কিছু সানগ্লাস আলাদা করে রাখুন। পূর্ণ হবে আপনার চাওয়া।

যেকোনো সময় সব জায়গায় নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা হবে সম্পূর্ণ।

চুল-দাড়িতে ফ্যাশনঃ যারা ক্যাজুয়ালি চুল কাটেন তারা মাসে দুবার চুল কেটে শেইপ ঠিক রাখুন।

আর যারা চুল ছোট রাখেন তারা প্রতিদিন চুলে জেল লাগিয়ে চুলগুলোকে গুছিয়ে রাখুন। আর আপনি যদি চুল লম্বা রাখতে চান তবে একটু ভেবেচিন্তে নিন। কারণ লম্বা চুলে সবাইকে মানায় না। আবার যাদের চেহারার গঠন লম্বাটে কিংবা পান আকৃতির তাদের চুল লম্বা রাখলে ভালো দেখায়। যাদের গায়ের রঙ কালো তাদের লম্বা চুল মোটেও ভালো লাগে না। যাদের লম্বা চুল তারা সব সময়ে পোশাকের সঙ্গে মানানসই গার্ডার দিয়ে চুল বেঁধে রাখুন। আর মাঝেমধ্যে চুলের আগা ছেঁটে দিন। সপ্তাহে অন্তত দুদিন শ্যাম্পু করে চুল পরিষ্কার রাখুন। যারা ক্লিন শেভে অভ্যস্ত তারা প্রতিদিন সেভ করে আফটার সেভ লোশন দিডে মুখটা ম্যাসাজ করে নিন। যারা দাড়ি রাখেন তারা সপ্তাহে নিয়ম করে দাড়িগুলো সাইজ করে নিন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।

মডেলঃ মামুন

চুলের স্টাইল, পোষাক, জুতো, রোদচশমা ইত্যাদি সব ব্যাপারেই ছেলেরা এখন আগের চাইতে অনেক বেশি সচেতন। ছেলেদের ফ্যাশন ইণ্ডাস্ট্রিও এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই কোন ছেলে যদি ফ্যাশনেবল হতে চায়, তাহলে তাকে কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন, কোন জিনিসগুলো তার সাথে মানায় কিংবা কোন ধরণের পোষাক পরলে তাকে ভালো দেখাবে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। তাই কোন ছেলে যদি ফ্যাশনেবল হতে চায়, তাহলে তাকে কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন, কোন জিনিসগুলো তার সাথে মানায় কিংবা কোন ধরণের পোষাক পরলে তাকে ভালো দেখাবে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। অনেক ছেলেই মনে করে দামী পোষাক কিংবা দামী পারফিউম তার ব্যক্তিত্বকে আরো ধারালো করে তোলে, যা সম্পূর্ণই ভুল ধারণা।

যে বিষয়ে সতর্ক থাকবেনঃ

-একই গেটআপের ক্ষেত্রে কালো এবং বাদামি রঙের পোশাক এক সঙ্গে ব্যবহার করবেন না। কারণ কালো জুতার সঙ্গে বাদামি রঙের বেল্ট অথবা বাদামি কোটের সঙ্গে কালো জুতা পরলে পরস্পর দ্বন্দ করতে পারে মানে খুব চোখে লাগে এই কম্বিনেশন্টা। প্রয়োজনে সবকিছুই কালো অথবা সবকিছুই বাদামি রঙের পরতে পারেন।

– পরিহিত পোশাক যেন খুব বেশি ঢিলেঢালা না হয় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।

– কথা বলার সময় মুখে দুর্গন্ধ থাকলে কেউ আপনাকে সমীহ করবে না। কেননা এটি অত্যন্ত খারাপ একটি ব্যাপার। এ সমস্যা থেকে দূরে থাকার জন্য প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন। দিনে অন্তত ২ বার ব্রাশ করুন। পার্টি কিংবা মিটিংয়ের আগে মাউথ ফ্রেশনার ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে আপনার গাড়ি অথবা অফিসের ডেস্ক ড্রয়ারেও মাউথওয়াশ রাখতে পারেন।

– পরিহিত পোশাক যেন ৩টির বেশি রঙ ধারণ না করে সেদিকে খেয়াল রাখুন। জুয়েলারি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের সতর্কতা বজায় রাখুন।

– একই স্টাইল দিনের পর দিন ব্যবহার করবেন না। সময়ের সঙ্গে নিজের স্টাইলকে বদলান। কেননা আপনি না বদলালেও দেখবেন আপনার পাশের জন বদলেছেন। সে ক্ষেত্রে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।