প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » সৌরভের পর হাফিজার বাড়িতে ঢুকে গুলি চালান সাংসদ লিটন

সৌরভের পর হাফিজার বাড়িতে ঢুকে গুলি চালান সাংসদ লিটন

ইশিয়েটর ডেস্কঃ  মাতাল অবস্থায় স্কুলছাত্র সৌরভকে গুলি করার ঘটনায় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে ছয় দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে সুন্দরগঞ্জের সর্বত্র চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অতীতে অনেক অপকর্ম করে পার পেয়ে যাওয়া এই সংসদ সদস্য এবারও কি পার পেয়ে যাবেন-এই প্রশ্ন এখন জনমনে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দিন সৌরভকে গুলি করে উত্তর সাহাবাজ গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে হাফিজারের বাড়িতে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করেন সাংসদ লিটন। ভয়ে হাফিজারসহ পরিবারের লোকজন অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন। আর তার বৃদ্ধা মা খুকী বেওয়া সাংসদ লিটনের পা জড়িয়ে ধরেন। তাকে লাথি-ঘুষি দিয়ে গুলি করতে উদ্যত হন সাংসদ লিটন। এরপর তার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট চালান বলেও অভিযোগ হাফিজার পরিবারের।  এ ব্যাপারে হাফিজার রহমান থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

স্কুলছাত্রকে গুলি করে ব্যাপক সমালোচিত হলেও এই সাংসদের অপকর্মের শেষ নেই। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত অনুদানে লুটপাট, চাকরিতে নিয়োগের নামে অর্থ হাতানো,  মুক্তিযোদ্ধাসহ দলীয় নেতাকর্মীদের নানাভাবে লাঞ্ছিত করাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এই অভিযোগগুলো শুধু বিরোধী নেতাকর্মীরাই করছেন না; নিজ দলের নেতাকর্মীরাও তার অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্ছার।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মজনু হিরোসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতাকর্মীরা বাংলা ইনিশিয়েটরকে বলেন, সাংসদ লিটন ও তার বাহিনীর সদস্যদের ৫০টিরও বেশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। সেই অস্ত্রগুলো বিভিন্ন সময় নানা অপকর্মে ব্যবহার করা হয়েছে। সাংসদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হলেও এই অস্ত্রগুলো নিয়ে তারা এখন আতঙ্কে রয়েছেন। সাংসদের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে এলাকার কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হন না।

তারা বলেন, সাংসদ লিটন নিজের স্বার্থে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জামায়াত-শিবির বানিয়েছেন। আবার জামায়াত-শিবিরের লোকদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাদেরকে আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযোদ্ধা সাজিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া কয়েকটি লোকাল ও মেইল ট্রেন লিজ নেন এই সাংসদ। ইসলাম শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানেরও তিনি স্বত্বাধিকারী। রেলের বিভিন্ন পদে চাকরি দেয়ার নাম করে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকে চাকরির জন্য তাকে টাকা দিয়ে আর ফেরত পাননি। তার দাপটের কারণে টাকা না পেয়েও কেউ মুখ খুলতে সাহস করেননি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এমদাদুল হক বাবলু বাংলা ইনিশিয়েটরকে বলেন, “সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাকারিয়া হোসেন খন্দকারকে সাংসদ লিটন রাজাকার ও জামায়াত বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি নিজ স্বার্থে দলীয় নেতাকর্মীদেরকেও জামায়াত-শিবির বা রাজাকার বানাতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। আমরা তার এই কর্মকাণ্ডে বিব্রত।”

গত শুক্রবার সকালে মাতাল অবস্থায় স্কুলছাত্র সৌরভকে গুলির ঘটনার পর থেকে সাংসদ লিটন ও তাঁর পিএস আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের মোবাইলফোনও বন্ধ রয়েছে। মোবাইলে বারবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসরাইল হোসেন বাংলা ইনিশিয়েটরকে বলেন,  “হাফিজার রহমানের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ বাংলা ইনিশিয়েটরকে বলেন, সাংসদের আগ্নেয়াস্ত্র দুইটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।