প্রচ্ছদ » ভ্রমন » ঘুরে এলাম আহসান মঞ্জিল

ঘুরে এলাম আহসান মঞ্জিল

ছোটবেলা থেকেই আমরা রাজা-জমিদারদের গল্পশুনে বড় হই, বই পড়েও জানতে পারি অনেক কিছু। রাজাদের দামী পোষাক, বিশাল প্রাসাদ ইত্যাদি সম্পর্কে। কিন্তু রাজ প্রাসাদ বা জমিদার বাড়ির আসল স্বাদটা যে বই পড়ে নেয়া সম্ভব না তা আহসান মঞ্জিলে না গেলে বুঝতেই পারতাম না। আসলেই নিজে না দেখলে কোন জায়গা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা কখনোই পাওয়া সম্ভব নয়।

এই কারণেই কিছুদিন আগে ঘুরে এলাম রাজধানীর আহসান মঞ্জিলে। আহসান মঞ্জিল অবস্থিত বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে। গিয়ে প্রথমেই যেটা মনে হয়েছিল,সেটা হলো-“এটা আহসান মঞ্জিল!” কারণ দেখে কোনো নতুন দোতলা বাড়ির মতো লাগছিল। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝলাম,এটা সংস্করণের পরের চেহারা। ব্যাগটা নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে ঢুকে পড়লাম ভেতরে। ভেতরে ঢোকার আগেই সাবধান করে দিল যেন কোন ছবি না তুলি। আহসান মঞ্জিলের ভেতরে প্রবেশের পর নিজেকে যেন কেমন অন্য রকম মনে হচ্ছিল। কেমন যেন মনে হচ্ছিল যে নবাবদের সময়ে চলে এসেছি। যাই হোক, ঢুকে দেখতে পেলাম আহসান মঞ্জিল সম্পর্কিত কিছু বই কেনার সুযোগ আছে এবং যারা ক্লান্ত হয়ে গেছে তাদের জন্য আছে বসার সুযোগ। আমি দ্রুত দ্বিতীয় সুযোগটা নিলাম। কিছুক্ষণ বসার পর দেখতে শুরু করলাম পুরো বাড়ি। বিশাল একেকটি কামরার প্রতিটিতেই আছে এই বাড়ির ইংরেজ আমলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানুষের ছবি এবং তাঁর বিশদ পরিচয়। কিছু কামরার দেয়ালে লেখা আছে ইতিহাস। এছাড়া ঐ সময়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন তৈজসপত্রও দেখলাম। আরও দেখলাম চিকিৎসায় ব্যবহৃত সামগ্রী। তবে সবচেয়ে অবাক হলাম বাড়ির খাবার টেবিল দেখে। বিশাল এক খাবার টেবিল এবং এটি যেসব সামগ্রী দিয়ে সাজানো তা দেখলে ইংরেজ আমলের এসব জমিদারদের সৌখিনতা কিছুটা আন্দাজ করা যায়। আরও দেখলাম তাদের যুদ্ধে ব্যবহৃত সামগ্রী, বিভিন্ন শিকার করা প্রাণী আর নাচঘর।আহসান মঞ্জিলের সংস্কারের আগের ছবিও দেখলাম। সেই ছবি দেখার পর বুঝলাম,এই সংস্কার করাটা কত জরুরি ছিল। একতলা,দোতলা করে পুরো বাড়ি দেখা শেষ করে দোতলা থেকে বাইরে বের হওয়ার সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলাম।

আমরা তো কত ইতিহাসই পড়ি। কিন্তু এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে গেলে ইকিহাসের কিছু ধারণা স্পষ্ট হয়। আহসান মঞ্জিল তেমন একটি জায়গা। এতে ইংরেজ আমলে সম্পদশালী ব্যক্তিদের সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা হয়, বোঝা যায় কেমন ছিল তাদের জীবনব্যবস্থা।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।