প্রচ্ছদ » সাইন্স ভিউ » জানা-অজানা » ভয়াংকর লেক ন্যাট্রন

ভয়াংকর লেক ন্যাট্রন

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৬৯:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন

তানভীর আলম লিমন | বাংলা ইনিশিয়েটর

ছবিতে দেখানো অসম্ভব সুন্দর লেকটির নাম ন্যাট্রন। এর সৌন্দর্য দেখে মোটেও আকর্ষিত হবেন না। হ্রদটি দেখতে আর দশটি সাধারণ হ্রদের মতো হলেও এর রয়েছে ভয়াবহ কিছু বৈশিষ্ট্য। তাই বেশিরভাগ প্রাণীই এটিকে এড়িয়ে চলে। এই হ্রদের পানির তাপমাত্রা ভয়াবহ রকমের বেশি, প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। মাঝে মাঝে এটি ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট অতিক্রম করে। এছাড়া এই হ্রদের পানির pH এর মাত্রা ৯ থেকে ১০.৫, যা সমুদ্রের পানির pH থেকেও বেশি। আর ক্ষারত্ব এমোনিয়ার কাছাকাছি।

IMG_20160617_2ন্যাট্রন তানজানিয়ার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত একটি লবণাক্ত হ্রদ। কেনিয়া আর তানজানিয়া সীমান্তের মাঝে অপরূপ সুন্দর এক জায়গা। হ্রদটি ১০ ফুট গভীর, আর প্রশস্ততা পানির তলের উচ্চতা অনুযায়ী হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে হ্রদের পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে থাকে। এর ফলে পানিতে লবণাক্ততা বাড়তে থাকে। এরকম লবণাক্ত পরিবেশে জন্ম নেয় এমন কিছু অণুজীব, যারা যাদের পুষ্টির উৎস হচ্ছে লবণ। খুবই উত্তপ্ত বলে, এখানে কোন বন্যপ্রাণীর বসবাস নেই।

তবে কিছু বিশেষ প্রজাতির শৈবাল আর ফ্লেমিঙ্গো পাখির একটি গুরত্বপূর্ণ আবাসস্থল হচ্ছে এই হ্রদ। অবাক হওয়ার মতো ব্যপার হছে, পূর্ব আফ্রিকার ২.৫ মিলিয়ন ফ্ল্যামিঙ্গো পাখির একমাত্র আবাসস্থল বা জন্মস্থান হচ্ছে এই হ্রদ। লবণাক্ততা বাড়ার সাথে সাথে হ্রদে সায়ানোব্যকাটেরিয়া নামের শৈবালও জন্মাতে থাকে। ফ্লেমিঙ্গো পাখিগুলো মূলত স্পিরুলিনা নামে নীলাভ-সবুজ শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে। আর এই হ্রদে তাদের বাচ্চাগুলো অন্য প্রাণীদের থেকে সুরক্ষিত থাকে কারণ অন্যান্য প্রাণীরা এ হ্রদের তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না।IMG_20160617_1

মাঝে মাঝে ফ্লেমিঙ্গো বা অন্য প্রাণীগুলো হ্রদের পানিতে পড়ে যাবার সাথে সাথে মারা যায়, তাদের দেহের টিস্যুগুলো ক্যালসিয়ামে পরিণত হয়। এর ফলে তারা ক্যালসিয়ামের মূর্তিতে পরিণত হয়। একে বলে ক্যালসিফিকেশন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আজো জানে না, কেন ফ্লেমিঙ্গো পাখিগুলো হ্রদের পানিতে পড়ে যায়। সম্ভাব্য ব্যখ্যা হলো, হ্রদের পানিতে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হলে সেটা ফ্লেমিঙ্গো পাখিকে আকৃষ্ট করে। এর ফলে তারা পানিতে ঝাঁপ দেয়,যার পরিণতি হয় করুণ। হ্রদের তীর জুড়ে ফ্লেমিঙ্গো, স্টার্লিং, হর্নবিল, ঘুঘুসহ অনেক পাখির মৃতদেহ এমনভাবে পড়ে থাকে, যেন তাদেরকে মমি করে ফেলা হয়েছে। এছাড়া কিছু অমেরুদণ্ডী প্রাণী, মাছ আর বাদুরের এমন অনেক প্রাণীর মৃতদেহের মূর্তি দেখা যাবে, মারা যাবার পরের অবস্থা।

হ্রদের তলদেশের মাটিতে রয়েছে সোডিয়াম কার্বনেট আর সোডিয়াম বাইকার্বনেট। এই হ্রদের অতিরিক্ত তাপমাত্রা আর লবণাক্তটা এই হ্রদকে পরিণত করেছে ভয়াবহ এক হ্রদে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।