প্রচ্ছদ » ক্যাম্পাস » জ্ঞানতাত্ত্বিক দেনা-পাওনার সম্পর্কের বাইরে

জ্ঞানতাত্ত্বিক দেনা-পাওনার সম্পর্কের বাইরে

সবুজ শাহরিয়ার খান

ক্লাশ রুম

ছাত্র-শিক্ষক অথবা গুরু-শিশ্য। শিক্ষকদের সাথে ছাত্রদের জ্ঞানতাত্ত্বিক দেনা-পাওনার সম্পর্ক।  নিছক এই  জ্ঞানতাত্ত্বিক দেনা-পাওনার সম্পর্কটুকু বাদে কে কার কতটা আপনজন হয়ে উঠতে পেরেছেন?  একজন শিক্ষক ও ছাত্রের হৃদয়গ্রাহী, সহজ ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে উঠার পেছনে কার কী ভূমিকা রয়েছে তাই জানতে চেয়েছিলাম সুশিল সমাজ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে। তারা জানিয়েছেন তাদের ভাবনার কথা।।

কাজী মোয়াজ্জমা তাসনিমIMG_20160617_8

দ্বাদশ শ্রেণি

বিসি আই সি কলেজ, মিরপুর, ঢাকা

ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্কটা হওয়া উচিত বন্ধুত্বপুর্ণ। তবে সেই বন্ধুত্ব যেন শ্রদ্ধার জায়গাটা নষ্ট করে না দেয়। শিক্ষকের যেমন উচিত ছাত্রকে সন্তানের মত স্নেহ করা, ছাত্রেরও শিক্ষককে বাবার মতই সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে হবে। আর উভয়কেই যে কোন ধরনের রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে একসাথে কাজ করতে হবে।

শাহিন IMG_20160617_6শেখ

উপজেলা শিক্ষা অফিসার, গাইবান্ধা

ছাত্রদের সাথে শিক্ষকদের সম্পর্কটা নির্ভর করে তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের উপর। আসলে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদেরকে এক ধরনের বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখেন। এই বলয়টা ভাঙ্গা দরকার। তবে অবশ্যই তাদের প্রতি ছাত্রদের শ্রদ্ধার জায়গাটাও বজায় রাখতে হবে। তাই ছাত্রশিক্ষক সুন্দর সম্পর্কের জন্য শিক্ষকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদেরকে বলতে দিতে হবে, তাদের সাথে কথাবার্তা বা ক্লাসের আলোচনাগুলোও প্রাণবন্ত হতে হবে, যেখানে পেশাদারিত্ব ফুটে উঠবে উভয় পক্ষের কাছ থেকেই।

তাসনিম বাকির রাফা12313521_1527907194195137_3229896496528569083_n

শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল

কখনো কখনো তাদের অবস্থান ঠিক বাবা মা এর পরেই  আবার  কখনো কখনো তারা বন্ধু , তবে সেই বন্ধুত্বের অবশ্যই একটা সীমারেখা থাকবে। কিছু শিক্ষক আছেন যারা  বড় ভাই বোনের মতন , যে কোনো বিপদে পাশে থাকার জন্য যথার্থতা রাখে।

পার্থ সারথী মজুমদারIMG_20160617_5

যন্ত্রকৌশল বিভাগ, ২য় বর্ষ

সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

মানুষের আচার-আচরণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনকে শিক্ষা বলে। আর যিনি শিক্ষা দিবেন তিনি হলেন একজন শিক্ষক। একজন শিক্ষক ছাত্রের মধ্যে সহজেই শিক্ষা প্রেরন করতে পারেন বন্ধুর মত একটা সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে। যেখানে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে কোনো দিদ্বাবোধ, লজ্জা, ভয় থাকবে না। থাকবে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সহযোগী মনোভাব।

পরশ মুন্সিIMG_20160617_9

 অফিসার

সোনালী ব্যাংক, চাদপুর

ছাত্র- শিক্ষক সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত কিন্ত ছাত্র- শিক্ষক পরস্পর বন্ধু হওয়া উচিত নয়। শেয়ারিং, কেয়ারিং, বুঝাপড়া ব্যাপারগুলো তাঁদের মধ্যে থাকবে, তবে চলাফেরায় বন্ধুর মতো এতোটা খোলামেলা নয়। একজন শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব ও নৈতিকতা এবং একজন ছাত্রের মূল্যবোধের জায়গা থেকে দুজনের পারস্পরিক চলা উচিত।

ইমতিয়াজ কবির প্রত্যয়17728_1562272784050372_1009572989858143633_n

দশম শ্রেণি

গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা

আমি আসলে এমন একজন শিক্ষক চাই যিনি আমার বন্ধু নন; কিন্তু আমি আমার অনুভূতিগুলো নির্দ্বিধায় তাকে জানাতে পারবো। আমি তার ছাত্র হলেও তিনি আমাকে বন্ধুর মতোই সাহায্য করবেন। আমি মনে করি শিক্ষাগত এবং অন্যান্য লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটা অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিৎ। তবে উভয়ের মধ্যেই এমন একটা অদৃশ্য দেয়াল থাকা উচিত যা ছাত্র বা শিক্ষক কেউই অতিক্রম করবে না।

শোভন কয়ালPicsArt_06-17-10.40.16

পদার্থবিদ্যা বিভাগ, ২য় বর্ষ

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কলকাতা

পড়াশোনার সময় বোঝানো টা হবে আন্তরিক । দরকার হলে একশ বার একশ রকম ভাবে রিপিট করতে হবে । নরম ভাবে । কিন্তু অনুশাসনের সময় কঠিন । এটায় ঢিলেমি দিলে হবে না । তবে শিক্ষকের ছাত্রকে শারীরিক প্রহার বা এমন কোনো কথা বলা উচিত নয় যাতে সে মানসিকভাবে অপমানিত বোধ করে।

পিয়ারুল ইসলামIMG_20160617_4

প্রভাষক, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ

ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে একটা ইতিবাচক বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ক্লাসের পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও বাড়াতে হবে। শিক্ষকসুলভ চিন্তাটা পরিহার করতে হবে। পড়াশোনার বাইরে দৈনন্দিন জীবনের অনেক বিষয়ও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা যেতে পারে। নিজেদের মধ্যে একসাথে খাওয়া-দাওয়া কিংবা শিক্ষাসফরের মতো বিষয়গুলোও একটা ভালো সম্পর্ক তৈরী করতে পারে। তবে শিক্ষকের প্রতি সম্মানের বিষয়টাও থাকতে হবে। কেননা একটা সুশৃঙ্খল পরিবেশেই আমাদের এই প্রত্যাশা পূরণ হওয়া সম্ভব।

অন্ত দাশ12472454_615367121944797_3347144510789722201_n

দ্বাদশ শ্রেণি

সরকারী বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা

যেহেতু শিক্ষক আমাদের পিতা-মাতার পরের স্থানটিতে অবস্থান করেন,আমাদের উচিত পিতা-মাতার মতো তাকেও শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা দেয়া। শিক্ষককে হতে হবে আমাদের গাইড লাইনার।যিনি আমাদের জীবনের পথ বেছে নিতে সাহায্য করবেন এবং ঐ পথের রোড ম্যাপ হিসেবে বড় দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদেরও উচিত গুরুদক্ষিণা হিসেবে শিক্ষকের কথা মেনে সেই পথটাকেই অবলম্বন করা।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।