প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » শফিউদ্দিন আহমেদের জন্মদিন আজ

শফিউদ্দিন আহমেদের জন্মদিন আজ

চিত্রকর শফিউদ্দিন আহমেদ এর ৯৪ তম জন্মদিন আজ।তিনি ১৯২২ সালের ২৩ জুন,কলকাতার ভবানিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি ভবানিপুরের খুব জনপ্রিয় পরিবারের ছেলে ছিলেন।তার দাদা,আমিনউদ্দিন ছিলেন একজন জনপ্রিয় ডাক্তার।পাড়া-প্রতিবেশির সবাই ওনাকে ‘বাছু ডাক্তার’ নামেই চিনেন।দাদা মারা যাওয়ার পর ঐ পাড়ার নাম ছিল ‘বাছু ডাক্তার লেন’। চিত্রকর শফিউদ্দিন আহমেদ যখন ছোট ছিলেন তখন তার পিতা মতিনউদ্দিন মারা যান।তিনি তার চাচা আর মায়ের কাছেই বড় হয়ে উঠেন।

১৯৪২ সালে শফিউদ্দিন কলকাতার এক সরকারি আর্ট কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে যখন ভারত মহাদেশ ভাগ হয়ে যায়,তখন তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে কলকাতা ছাড়েন।

ঢাকায় এসে তিনি তৎকালীন চারুকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেকে খুব ভালো ভাবেই গুছিয়ে নিয়েছিলেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ছিলেন শফিউদ্দিন আহমেদ এর বন্ধু এবং সহকর্মী। তিনি বর্তমান চারুকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।১৯৪৮-১৯৭৯ প্রায় ৩১ বছর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টমেকিং বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

াকাতিনি বিস্তৃত দৃশ্য, মেষপালক সম্বন্ধীয়, ভূদৃশ্য, ১৯৭১ সালের দৃশ্যপট, ভাষারূপ সহ নানান বিভৎস দুর্ঘটনার চিত্র নিয়ে বেশি আকাঁআকি করতেন।তিনি বিশেষ করে কাঠে খোদাই করা ছবির জন্যে জনপ্রিয় ছিলেন।ঘোড়ার খুরের আঘাতে মাঠে যে খোঁদলের সৃষ্টি হয় তাতে তিনি বহু বার চিত্রাঙ্কন করেছেন।কালো রঙ তার অংকিত চিত্র সমূহের মধ্যে প্রাধান্যপূর্ণ।তার আকা প্রায় রঙ নিরবতা এবং ভবিষ্যতের সুরেলা ধ্বনির সম্মুখীন হয়।তার চিত্রপট সমূহ নানান কলাকৌশলের উপস্থাপনা করে।

শফিউর আহমেদ নরম এবংশান্ত মানসিকতা ছিল। তিনি নিঃসঙ্গ ভাবে বসবাস করতেন এবং ভিড় ও শব্দ হতে নিজেকে তিনি সবসময় সরিয়ে রাখতেন।

তিনি তার কৃতিত্বের জন্যে নানান সময় নানান সম্মাননা ও পদক পেয়েছেন যুব চিত্রকর হিসেবে ১৯৪৫ সালে কলকাতার একাডেমী অফ ফাইন আর্টস হতে ‘দি প্রেসিডেন্ট গোল্ড মেডেল’ পেয়েছিলেন।শফিউর

নয়া দিল্লীতে ১৯৪৬ সালে আন্তর্জাতিক সমসাময়িক চিত্র প্রদর্শনী অনষ্ঠানে সাদা-কালো বিভাগে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে আবার নয়া দিল্লীতে অনুষ্ঠিত চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এশিয়াদের মধ্যে তিনি তার স্কেচিং এবং ড্রইং এর জন্যে একই বিভাগে প্রথম হোন এবং’পাটনা মহারাজ গোল্ড মেডেল’ পেয়েছিলেন।

এছাড়াও তিনি একুশে পদক এবং দেশের সর্বোচ স্বাধীনতা পুরস্কারের গর্বিত প্রাপক।

বার্ধক্যজনিত কারণে ১৯ মে ২০১২ শনিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে শিল্পগুরু সফিউদ্দীন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন

 

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।