প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কথা » মনে পড়ে সেই ঈদগুলো

মনে পড়ে সেই ঈদগুলো

আমার ঈদের স্মৃতি টা খুব বেশি দিনের না।

গত দশবছর আগেও ঈদে কত আমেজ ছিলো। ঈদ এলেই মনটা আনন্দে ভরে ওঠে। ফেনীতে ঈদের মজাটা বেশি হতো। শৈশবের সোনালি দিনগুলো কেটেছে সেখানে। চট্রগ্রামেও কিছু দিন ছিলাম। আব্বুর চাকরির কারণে সেখানে থাকতে হয়েছে। ফলে ঈদ আনন্দের কিছু স্মৃতি চট্রগ্রামেও রয়েছে। চট্রগ্রামের হালিশহরে বছর দুয়েক ছিলাম। তারপর ঢাকা চলে এসেছি।

ছোটবেলার সব ঈদই মজার ছিল। আত্মীয়-স্বজন সব মিলেমিশে ঈদে মহা আনন্দে শামিল হতাম। ছোটবেলা মা-বাবা যখন নতুন কাপড় চোপড় কিনে দিতেন মনটা খুশিতে ভরে যেত। জামা বানানোর সময় দর্জির দোকোনে গিয়ে বসে থাকতাম। যতক্ষণ পর্যন্ত জামা কাটা শেষ না হতো টুকরো কাপড়গুলো লুকিয়ে রাখতাম। বন্ধুরা যেন কোনোভাবেই ঈদের আগে জামা দেখতে না পায় সেজন্য এই কাজটি করতাম। টুকরো কাপড়গুলো দেখে কেউ যেন বলতে না পারে জামাটা কী রংয়ের ছিল। এগুলো অনেক মজার ছিল।

আমি যখন ক্লাস ফাইভে ছিলাম তখনকার একটা ঘটনা মনে পড়লে আমার খুব হাসি পায়। আমার বড় কাকু ফেনীতেই থাকতো। সেই বছর ঈদ করতে আমরা সবাই ঈদের পাঁচ-ছয়দিন আগে ফেনী চলে গিয়েছিলাম। আমরা কাজিনরা অনেকেই ছিলাম সেখানে। আমার বড় কাকু ঈদের চার দিন আগে ঘোষনা দিলেন- যার জামা কেউ দেখবেনা তাকে ১০০ টাকা সালামী দিবো, আর যার জামা দেখে যাবে তাকে ২০ টাকা, যে অন্যের জামা দেখতে পাবে তাকে বাড়তি ৫০ টাকা সালামী দেয় হবে। তো সবাই যার যার মতো জামা লুকাতে ব্যস্ত থাকলো। আমাদের অনেকগুলো ধানভরা গোলা ছিলো তখন। আমি কিছু না পেয়ে ধানের গোলাগুলোতে জামাটা লুকিয়ে রাখলাম। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আমার জামাটা ছাড়া বাকি সবার জামা কেউ না কেউ দেখে ফেলেছে। আমার জামাটা কেউ দেখেনি, এই জন্যে আমি মহানন্দে ভাসছিলাম! তো ঈদের দিন সবার সাথে গোসল আসলাম, এখন জামাটা গোলা থেকে এনে পরা বাকি, তারপর আব্বু আর বড় কাকুর সাথে ঈদগাহে যাবো। কিন্তু জামাটা গোলা থেকে বের করে দেখি পুরা জামাটা ইঁদুর একদম কেটে কুচিকুচি করে রেখেছে!সেই ঈদে আমাকে শুধু সবাই কাঁদতেই দেখেছে, বাকিরা আমার কান্ড দেখে শুধু হাসছিলো! .

নতুন জামাকাপড় পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যেতাম। সবার বাড়িতে গিয়ে সালাম দিয়ে সালামি নিতাম। আমাদের আত্মীয়-স্বজনের সার্কেলটা ছিল অনেক বড়। ছোটবেলা সালামি নিতাম। আর এখন আমাকেই সালামী দিতে হয়। ঈদে সবার বাড়িতে গিয়ে দল বেঁধে খেতে যেতাম। সবরকেমর সেমাই আমার খুব পছন্দের ছিল। মায়ের হাতের রান্না খেয়ে ঈদের দিন শুরু করতাম। খুব সকালে ঈদ কালেকশন (সালামি) করার জন্য বের হতাম। লাইন ধরে খালা, চাচা, মামাসহ বান্ধবীবের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরতাম। ঘুরতে ঘুরতে রাত গভীর হয়ে যেত। . আর এখন সেই আমেজ, ফুর্তির বালাই নেই। এই ঈদে জামাটা পরে ঈদগাহে যাবো, সবার সাথে কোলাকুলি করবো। তারপর বাসায় এসে ঘুম দিবো! সন্ধ্যায় এলাকার বড় ভাই এবং বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষন আড্ডায় মাতবো..এটুকুই। এখন চাইলেও আগের মতো মজা করতে পারবোনা, আগের দিন গুলো ফিরেও পাবোনা। হোক সেটা অল্প দিনের… তবুও সবই এখন স্মৃতি…

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।