প্রচ্ছদ » উড়াল » তারুণ্য » কেমন কাটলো তরুনদের ঈদ?

কেমন কাটলো তরুনদের ঈদ?

বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে মুসলমানদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঐতিহ্যগতভাবেই দিনটি সম্ভবত সবচেয়ে বেশী আনন্দে কাটে শিশু-কিশোর আর তরুন-তরুনীদের। বাঁধভাঙা হৈ-হুল্লোড়, ঘোরাঘুরি, পাড়ায় পাড়ায় আড্ডার মাধ্যমেই তাদের ঈদ কাটে।

বাংলাদেশে ঈদ আনন্দের সংস্কৃতি বছরের পর বছর অনেকটা একই রকম। ঈদের দিনটিতে ঢাকার চিরচেনা যানজট-মুখর রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা। মাঝে মধ্যেই হুঁশ করে বেরিয়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেল আরোহী তরুণের দল। অনেকে বের হয়েছে পিকআপ ভ্যান নিয়েও। এই ঈদে ঘুরাঘুরি ছাড়া তরুন-তরুনীদের একটি অংশ ভিড় জমাচ্ছেন সিনেমা হল গুলোতে। কেউবা চুটিয়ে আড্ডা জমাচ্ছেন চা কিংবা কফি হাউজে। ফেনীর চাঁদগাজী’তে অবস্হিত কাদের টি হাউজে আড্ডারত জাহিদ ফয়েজুল্ল্যাহ ও তার আড্ডাদলের সাথে কথা বলে জানা যায়- ঈদে এখানে আড্ডা না জমালে ঈদ নাকি পূর্ণতাই পায়না। সারা বছর যে যেখানেই থাকুক ঈদের তাদের সবাই কাদের ভাইয়ের দোকানে একত্রিত হন। ঈদ মানে আনন্দ হলেও একেক জনের কাছে ঈদের আনন্দ একেক রকম। কেমন কাটলো তাদের ঈদ? চলুন আমরা জেনে নিই দেশ ও বিদেশে পড়ুয়া কিছু তরুন-তরুনীদের।

13644139_536082966584025_691764651_nশেখ মো: আশফাক
শিক্ষার্থী, নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,ঢাকা
প্রতিবারের মতো এই ঈদটাও ভালো কেটেছে আমার। সকাল ৬ টায় ঘুম থেকে উঠে ঈদের নামাজ পড়লাম। সেখান থেকে রিকশা করে কবরস্থানে গিয়েছিলাম। তারপর কবরস্থান থেকে বাসায় ফিরে এসে হালকা নাস্তা করলাম। আম্মুর রান্না করা পায়েস টা প্রতিবারের মতো আমার কাছে স্পেশাল। তারপর পাড়া-মহল্লার সকল পরিচিত আত্মীয়দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সালামি সংগ্রহ করতে করতে ১.৩০ বেজে গেলো। ঈদে সালামি নিতে  অনেক ভালো লাগে, অবশ্য সালামি নিতে কার না ভালো লাগে! তারপর বাসায় এসে আবারও গোসল করে ঈদের জামা পরা এবং খাওয়া-দাওয়া করতে করতে ২.৩০ বেজে গেল। এরপর বন্ধুদের সাথে  রমনা পার্ক ও ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরলাম। ফাকে ফাকে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রিট-ফুড খেয়েছিলাম। এরপর বন্ধুদের বিদায় দিয়ে আমি কাজিনদের সাথে দেখা করার জন্য ধানমন্ডি গেলাম, কাজিনদের সাথে ঘুরতে ঘুরতে রাত ৯টা বেজে গেলো। রেস্টুরেন্টে বসে রাতের খাবার সম্পূর্ণ করলাম এবং খাবার শেষে যে যার নিজের বাসায় চলে আসলাম। এটাই ছিলো আমার ২০১৬ এর ঈদ উত্‍যাপন।
13633391_536082416584080_1218499941_oসাইফুল্লাহ খালেদ
ইস্তানবুল এফ. এস. এম কলেজ, তুরস্ক
এবারের ঈদ অন্যান্য ঈদের থেকে একটু আলাদা। সকালটা এক চুমুক মিষ্টি দিয়ে শুরু তারপর নামাযে যাওয়া। নামায শেষে এক ভাইয়া হাত ধরে টেনে হিছড়ে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে একটু আড্ডা ীবং হালকা খাওয়ার পর বিদায় নিলাম।  বাসায় ফিরে ঈদি নেয়ার খেলা শুরু। অনেক দিন পর প্রবাস থেকে স্বদেশে ফিরে মা বাবার সাথে ঈদ করার মজাই আলাদা। মা’এর হাতের রান্না যেন এক অনন্য সৃষ্টির খেলা । মিস করি তখনই যখন প্রবাসে কাটে বেলা। তবে খুব মনে পড়ে সেই ছোটবেলার ঈদ যা কখনো হয়তো ভুলতে পারবো না। এখন আর শৈশবে কাটানো ঈদের মতো ঈদ কাটানো সম্ভব হয় না। যাওয়া হয়না আত্মীয় স্বজনের বাসায়। তবে এটা বলতে পারি যে প্রবাস থেকে স্বদেশে ফিরে ঈদ সত্যিই আনন্দময়ী যেন এক অসামান্য স্বস্তি।
13625080_536084203250568_515780816_nসানজিদা এশা
কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, নাটোর
ঈদের দিন সকালে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমার প্রথম কাজ হলো সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো। তারপরের কাজটা হলো ঘর গুছিয়ে গোসল করে এসে নতুন জামা পরে আব্বু-আম্মু আর ভাবিকে সালাম করা। তাদের থেকে নতুন চকচকে নোট সালামি নেয়েটা প্রতিবারের মতো এবারো বাদ যায়নি। এই পর্বগুলো শেষ হতেই বান্ধবীরা আসলো, ঠিক তখনি স্বস্তির বৃষ্টি নামলো! তখন আমরা রাস্তায় ছিলাম, সবাই মিলে ভিজতে লাগলাম। একটু বৃষ্টিটাকে উপভোগ করে এক বান্ধবির বাসায় গেলাম। খাওয়া-দাওয়া, সেলফি, গল্প-গুজব, আড্ডা সবই হলো। এবং সব শেষে বাসায় ফিরলাম। খুব ভালো একটা ঈদ কাটলো।
13624646_536082556584066_817576362_nনীহারিকা অহনা বারসাত
শিক্ষার্থী, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ,ঢাকা
এবার সবার ঈদ ই ভালো হয়েছে, কেননা আল্লাহ্’র রহমতে ঢাকাতে বৃষ্টি হয় নি যা  নিয়ে আমরা সবাই আতংকে ছিলাম।  সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গোসল, নিজে  নামাজ পরার পর বাবা, ছোট ভাইকে রেডি করে নামাজে পাঠিয়েছি এরপর মা কে সাহায্য , ঈদের নতুন জামা পরে সবার সাথে ঈদ এর আনন্দ ভাগাভাগি,সালামি আমাকে দিয়েছে,আমিও দিয়েছি। এরপর আমার বাসায় আমার একজন বৃদ্ধ ফকির এর দাওয়াত ছিল সে আসার পর তাকে খেতে দিয়েছি, কথা বলেছি। আমার বিড়াল গুলিকে খেতে দিয়েছি , কুকুর, পাখি, চিল, বিড়াল, কবুতর এইগুলি এর সাথে ঈদ পালন করলাম। এরপর দাদুর বাসা, চাচার বাসা, খাওয়া,  ঘুরাগুরি, বাবা ভাই র সাথে চক বাজার  মেলায় যাব কালকে, বড়মার কবর জিয়ারত করতে কবরস্থান যাব (আজ নাকি অনেক ভিড় হবে তাই বাবা নেয় নি আজ ) । আরও অনেক জায়গায় যাব আজ শেষ করতে পারি নি। তবে ঈদে পুরো ঢাকা শহর ঘুরার প্ল্যান আছে।
13626411_1849697588591244_3247991988322812874_nনোমান হোসেন
শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি ডেগলি স্টাডি ডি বারি আলদো মোরো, ইতালি
গত বুধবারে ঈদ ছিলো ইতালি তে। টানা চতুর্থ বারের মতো স্বদেশে ঈদ করতে পারলাম না। তাই মনটা টানা চতুর্থবারে মতো খারাপ ছিলো। ঈদে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, মা-বাবা কে ছেড়ে হাজার মাইর দূরে ঈদ করতে কার ভালো লাগে? তবুও মন কে সতেজ করতে নিজেই যতেষ্ট ছিলাম। এখানকার বন্ধুদের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করলাম। তারপর কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি, আড্ডা, গান, খাওয়া-দাওয়া করলাম। সবশেষে বাসায় এসে দীর্ঘ একটা ঘুম দিলাম! ঘুম থেকে উঠে স্বদেশের বন্ধুদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালাম। ঈদটা তেমন ভালো ছিলোনা, আবার খারাপও না! যাইহোক, স্বদেশবাসি কে ঈদের শুভেচ্ছা। ভালো থেকো বাংলাদেশ।

13618089_536083139917341_634685639_nতাসফিয়া ফেরদৌস মাইশা

শিক্ষার্থী, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ,ঢাকা

ঈদ মানে খুশির বন্যায় ভেসে যাওয়া, ঈদ মানে চারদিকে উত্‍সবের হাওয়া! ছোটকাল থেকেই কথাটা শুনে আসছি। আমিও জানি ঈদ মানেই খুশি, আনন্দ আর ঘুরাঘুরি। কিন্তু সব ঈদ যে খুশিতে কাটাবো এমন কোন কথা নেই! হ্যাঁ, একটু অভিমানের সাথে বলছি, গত কয়েকদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমার খুব একটা ভালো কাটেনি।ঢাকাতে এটা আমার প্রথম ঈদ। এর আগে রাজশাহীতে অনেক আনন্দে ঈদ পালন করতাম সবাই মিলে। আমার ঈদ ভালো না কাটার প্রধান কারন হচ্ছে: আমার বাবা এই ঈদে ছুটি না পাওয়ায় আসতে পারে নি। তাই আব্বুর জন্য খারাপ লাগছে, আব্বুকে মিস করছি ভীষন। দ্বিতীয় কারন হচ্ছে, আমার আদরের ছোট্র ভাইটার অনেক জ্বর। প্রতিদিন যে পুরো বাসা আমেজে ভরে দিতো আজ আমেজের দিনেই সে বিছানায় কাটাচ্ছে। আর একটু বড় হওয়ার কারনটাও আছে। এখনকার ঈদে এমনিতেই আগের মতো মজা পাইনা। তবে সব কিছু খারাপ ছিলো, এটাও কিন্তু না। আম্মু হাতের রান্না করাটাও দারুন একটা ব্যাপার। তাছাড়া ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মজেছিলাম কিছুক্ষন। বাইরে আমার তেমন যাওয়া হয়না, তাই ভার্চুয়াল আড্ডাটাই ভরসা। তবে যাই হোক, ভালো থাকার চেষ্টা করছি। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।

13625040_536088889916766_483907885_nমোহাম্মদ বকুল হোসেন

শিক্ষার্থী, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব ক্যাপিটেল মেডিকেল ইউনিভার্সিটি,চায়না

ঈদের আনন্দ টা বাড়াতে পাশে প্রিয়জনদের পাওয়া টাই যতেষ্ট। হ্যাঁ, এবার ঈদটা প্রিয়জনদের পাশে কাটাতে সূদুর চীন থেকে বাংলাদেশে আসলাম। অনেক ভালোই কাটলো ঈদটা। গত ঈদটা আব্বু-আম্মু কে ছাড়াই কাটাতে হয়েছিলো। তবে এই ঈদে তাদেরকে পাশে পেয়ে পরিপূর্ণতা পেয়েছি। ঈদের আমেজ এখনো যায়নি, যতদিন আমেজ থাকবে ততদিন ভালো কাটবে আশা করছি।

মেহেদি হাছান রাহাদের সাথে লেখক (বামে)

মেহেদি হাছান রাহাদের সাথে লেখক (বামে)

মেহেদি হাছান রাহাদ

শিক্ষার্থী, ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজ, ফেনী

বয়স যতই বেড়ে চলছে, নিজের দ্বায়িত্বও বাড়ছে। আর দ্বায়িত্ব যতটা বাড়ছে ঈদের আনন্দট ততটা কমছে মনে হয়। তবে যাই হোক ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। শত খারাপের মাঝেও অনেক ভালো কাটলো ঈদটা। বন্ধুদের মাঝে অনেকে এখন গ্রামে থাকেনা, ঈদের সুবাধে তাদের কে সান্নিধ্যে পাওয়ার আনন্দটাও কম না! সব মিলিয়ে ঈদটা ভালোই কাটলো, সবার সুন্দর ঈদ উত্‍যাপন কামনা করছি।

অনেকের কাছে অনেক রকম অনূভূতিতে ঈদ কাটলেও আমার (লেখক) কাছে ঈদটা অনেক ভালো কেটেছে। ঈদের আমেজ যতদিন আছে ততদিন ভালো কাটবে আশা করি। আপনার ঈদটাও ভালো কাটবে সেই আশা করি আমি এবং বাংলা ইনিশিয়েটর পরিবার।

বাংলা ইনিশিয়েটর/০৮/০৭/২০১৬/এস এস কে/করিম

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।