প্রচ্ছদ » উড়াল » ফিচার » জুই আর ডলির গল্প

জুই আর ডলির গল্প

ছিন্নমূল শিশু বা সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু বা পথশিশু যে নামেই ডাকি না কেন শহরের চলার পথে সন্ধান মিলবে এমন হাজারো শিশু। ছিন্ন, নোংরা বস্ত্র আর হাত- পায়ে ময়লা, কাদা লাগানো এসব শিশুর। সবাই কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত থাকে। দৃষ্টি পড়লেও হয়তো খেয়াল করা হয় সেসব শিশুদের বা তাদের কার্যক্রম। ভাবা হয় না সেসব শিশুর জীবন নিয়ে। কিভাবে চলে ওদের জীবন? কিভাবে বেঁচে আছে ওরা?

নতুন বাসায় ওঠার পর রাস্তায় বের হলে প্রায়ই  একদল শিশুকে দেখি, রাস্তার পাশের ভাঙা রেলিং এ রশি দিয়ে  দোলনা বানিয়ে খেলতে । অবাক দৃষ্টিতে দেখি ওদের। তাকিয়ে থাকি বেশ কিছুক্ষণ। কত অল্পতেই তৃপ্ত ওরা। সময় সল্পতায় কোনদিন কথা বলা হয়ে ওঠে না। আজ তাই একটু সময় করে চলে গেলাম ওদের সাথে কথা বলতে ।

দলের প্রধান দু’জন। জুই আর ডলি। ৭ থেকে ৮ বছরের কোমল দুটি শিশু। সম বয়সী ওরা। রাজধানীর সাতরাস্তার মোড়ের রাস্তার পাশেই ফুটপাতে ছোট চালা ঘরে ওদের বসবাস। সারাদিন খেলতে খেলতেই কাটে ওদের। কোনো বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি জুই আর ডলির। সন্ধ্যা হলে নাকি  কুনিপাড়ার শিক্ষিত যুবক জিহাদ ওদের  বিন্যামূল্যে শিক্ষা দান করে।

PicsArt_07-13-10.03.14জুই আর ডলির স্বপ্ন ওরা বড় হয়ে ডাক্তার হবে। জুই আর ডলির বাবা রিক্সাচালক। বিদ্যালয়ে কেন ভর্তি করা হয়নি জানতে চাইলে ডলির মা জানান বছরের অর্ধেক সময় তারা গ্রামে এবং বাকি অর্ধেক সময় শহরে কাটান। আমাগী ঈদ-উল-আযহার সময় গ্রামের বাড়িতে পাড়ি দেবে জুই আর ডলির পরিবার। গ্রামের বাড়ি জামালপুর। জুই আর ডলি উভয়েরই শহরের চেয়ে গ্রামের খোলা মনোরম পরিবেশ পছন্দের। আগামী ঈদে তারা গ্রামে যাবে বলতে বলতে একটা আনন্দের ছাপ লক্ষ্য করলাম জুই আর ডলির চেহারায়।

গত ঈদ-উল-ফিতরে তারা নতুন জামা কিনেছে, মামার সাথে শাহবাগে ঘুরেছে, অনেক কিছু খেয়েছে, বলতে লাগলো ডলি। শহুরে জীবনে কিছুটা বিরক্তই বোঝা গেল দলনেত্রীদের কথায়। বেশ কিছুক্ষণ গল্প করার পর ছবি তোলার কথা বললে এক মিনিটেই প্রস্তুত হয়ে এলো তারা, সাথে যুক্ত হলো দলের বাকি সদস্য শারমিন, শাহনাজ এবং হৃদয়। হালকা খাবার ও সেরে নেয়া গেল দলটির সাথে। হাসি ফুটলো কোমল চেহারা গুলোতে। মৌলিক অধিকার থেকে কেন বঞ্চিত এসব নিষ্পাপ শিশু গুলো? জানতে চাই।

বাংলাইনিশিয়েটর/১৩/৭/২০১৬/এসএসকে/মুগ্ধ

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।