প্রচ্ছদ » সাইন্স ভিউ » জানা-অজানা » ভয়ঙ্কর রহস্যে ঘেরা জুজু (প্রথম পর্ব)

ভয়ঙ্কর রহস্যে ঘেরা জুজু (প্রথম পর্ব)

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৬১১:০৩:৪৬ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user ” pfaicolr=”” ] তানভীর আলম লিমন | বাংলা ইনিশিয়েটর

জুজু কি ? প্রথমেই বলে রাখি, ‘জুজু’ শব্দটা বাংলা সাহিত্যে একটা বাগধারার মত ব্যবহৃত হয় । ইংরেজি bogus boo এর মতই বাংলায় জুজু শব্দটি কোনো একটা কাল্পনিক ভয়াবহ জিনিস বুঝাতে ব্যবহৃত হয় । ছোট বাচ্চাদের পানির কাছাকাছি/বিপজ্জনক কোনো জায়গায় যেতে সব মায়েরাই নিষেধ করেন । বাচ্চারা না শুনলে ইংল্যান্ডের মায়েরা তখন বলেন, ওখানে যেয়ো না, ওখানে বোগাস বু আছে । বোগাস শব্দের আভিধানিক অর্থই হচ্ছে মিথ্যা/ভুয়া । পানির কাছে ভৌতিক কিছু নেই আসলে । বাচ্চাটাকে নিরুতসাহিত করতেই ওর মা বোগাস বু নামক কাল্পনিক ভূতের ভয় দেখাচ্ছে।

বাংলা সাহিত্যেও জুজু সেই রকম কাল্পনিক ভূতের অর্থে ব্যবহৃত হয় । উদাহরন স্বরুপ জুজু শব্দের ব্যবহারকে আরো ভালো কর বোঝানোর জন্য কয়েকটি বাক্য তৈরি করে দেখাচ্ছি ।

১. ‘প্রতিবেশী দেশ নিয়ে পুরনো জুজুর গল্প শুনতে শুনতে বিরক্তি ধরে গেছে’

২. ‘ছোটবেলা থেকেই আপনার ভেতরে যদি জুজু ঢুকে যায় যে আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা,আমি ভাল ছাত্রনা—তাহলে সেই জুজু আপনি কাটাতে পারবেন না । জীবনে উন্নতি করার জন্য সবার আগে মন থেকে জুজু তাড়াতে হবে’

এখানে জুজু শব্দের ব্যাবহার ১নং বাক্যে মিথ্যা ও ২য় বাক্যে এ ভয় এর বিপরীত এ ব্যাবহার করা হয়েছে।  আশা করি বাংলায় জুজু শব্দের অবস্থান পরিষ্কার হয়ে গেছে আপনাদের ।

বাংলায় এই  ‘সাহিত্যের জুজু’  বাদেও একটা  ‘আক্ষরিক জুজু’  রয়েছে ।  জুজু মূলত এটা একটা আঞ্চলিক শব্দ । সিলেট এলাকার মানুষ জুজু নামের এক বিশেষ প্রকৃতির রহস্যময় প্রানীর কথা বলে থাকেন । বাংলাদেশের অন্য এলাকায় এই ধরনের জুজুর কথা শোনা যায়না । মোটামুটি যা জানা যায় তা হল -জুজু লোমশ একটা জীব । এর চোখ লাল টকটকে । ছোট বাচ্চাদের দিকেই এর নজর বেশী ।

আরও পড়ুনঃ জেনে নিন ভূত ধরার আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্পর্কে

 

রেডিও ফুর্তির  ভূত এফ এম নামক প্রোগ্রামে সিলেট চা বাগানের এক লোক এসেছিলেন একবার । জুজুকে নিয়ে তিনি যা যা শুনেছেন তাই শেয়ার করেছিলেন । ভূত এফ এম এ বর্ননা করা গল্প থেকে জানতে যায় –

এক মহিলা তার বাচ্চা কে ঘুম পাড়িয়ে আরেক রূমে টিভি দেখতে চলে গেল । কাজের মেয়েটা বাচ্চার রূমে এসেই গলা ফাটিয়ে একটা চিত্কার দিল । মহিলা দৌড়ে রূমে এসে দেখলেন কাজের মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে , আর লোমশ একটা জীব বাচ্চাটাকে জানালা দিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে । বাচ্চাটা হাত পা ছোড়াছুড়ি করছিল । মহিলাকে দেখেই জীবটা বাচ্চাটাকে ফেলে লাফ দিয়ে চা বাগানের ভিতর হারিয়ে যায় ।

জুজু ব্যাপারে আরেকটা ঘটনায় জানা যায়,  এক বাচ্চা কোন কারণে খাবার খেতে চাইছিলনা । তার মা তাকে জোর করে খাওয়াতে চেষ্টা করছিলেন । এক পর্যায়ে মহিলা বললেন ,” তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও । না হলে জুজু আসবে ।” কাছেই একটা চা বাগান থেকে একটা শব্দ মহিলা শুনতে পেলেন , “জুজু আসবে ।” মহিলা এটাকে পাত্তা দিলেন না । মনের ভূল কথাটা উড়িয়ে দিলেন । খানিক পর বাচ্চাটা আবার বাহানা শুরু করলে মহিলা বিরক্ত হয়ে বললেন , “এই খাও বলছি । জুজু আসবে কিন্তু বলে দিলাম ।” এবার মহিলা আগের বারের মতই কিন্তু অনেক কাছে শব্দ শুনলেন যে ,” জুজু এসেছে !” মহিলা ভয় পেয়ে গেলেন । ব্যাপারটা তার স্বামীকে বলার জন্য বাচ্চাটাকে ডাইনিং রুমে বসিয়ে অন্য রুমে গেলেন । তিনি যখনই তার স্বামীকে শব্দের ব্যাপারটা বলছিলেন , হঠাত্ তারা দুজনই শেষ বারের মত শব্দটা শুনলেন । এইবার শব্দটা ছিল এরকম : “জুজু খাচ্ছে !” “জুজু খাচ্ছে !” তারা দৌড়ে ডাইনিং রুমে গেলেন । গিয়ে দেখলেন , কালো লোমশ একটা প্রাণী জানালা দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে । আর তাদের বাচ্চা ? বাচ্চাটাকে অর্ধেক খেয়ে ফেলা হয়েছে ! জুজু নিয়ে চা বাগানের এটাই সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা । চা বাগানে প্রায়ই কাজ করার সময় ছোট ছোট বাচ্চা নিখোঁজ হয় । পরে তাদের মাথা কাটা লাশ পাওয়া যায় । কার কাজ কেউই জানে না ।

ভূত এফ এম এর ওই প্রোগ্রামে সেই লোক বলেছিলেন, এই ধরনের জুজুর ঘটনা ঢাকার মীরপুরেও ঘটেছে বলে আমি শুনেছি । তবে স্পেসিফিক নাম ঠিকানা সময় তিনি জানাতে পারেননি । জুজু সর্ম্পকে কিছু সম্ভব্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ২য় পর্বে জানানো হবে।

বাংলা ইনিশিয়েটর/২৮/০৭/২০১৬/এস এস কে/ লাবিব/লিমন
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।