প্রচ্ছদ » উড়াল » ফিচার » নাঈমের গল্প

নাঈমের গল্প

খবরের কাগজ শব্দটি আমাদের দৈনিক জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের খবর, দেশের বাইরের খবর, খেলার খবর, বিনোদনের খবর-কত রকম  খবরই না  পাওয়া যায় ওই একটা কাগজে। প্রতিদিন আমাদের বাড়িতে এই কাগজগুলো যারা দিয়ে যায়, তাদের এককথায় আমরা বলি হকার। এই হকারেরাই প্রতিদিন ভোরে আমাদের বাড়িতে খবরের কাগজ পৌঁছে দেয়, সমসাময়িক খবর জানতে পারি আমরা তাদেরই মাধ্যমে। এই খবর যারা বিলি করে তারা হয়তো অন্ধকারেই রয়ে যায়। ইদানিং খবরের কাগজ বিলি করার পেশায় শিশুদের দেখা যায়।

মো  নাঈম শেখ এমনই একজন শিশু । প্রতিদিন ভোর ৬ টায় ঘুম থেকে উঠেই চলে যায় বাসায় বাসায় খবরের কাগজ দিতে। সকাল ৮ টার মধ্যেই দ্রুত কাজ শেষ করে কারণ তার  স্কুলে যেতে হবে!  স্কুলপড়ুয়া নাঈমের বয়স ১১। পড়ে ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে।তার বাবা দুলাল শেখ একজন সিএনজি চালক। পাঁচ ভাইবোনের সংসারে আর্থিক অসংহতির কারণে তার লেখাপড়া হয়তো হতোই না!  কিন্তু তার আর তার মা-বাবার প্রবল ইচ্ছার কারণেই তার পক্ষে লেখাপড়া শুরু করা এবং চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

নাঈমকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে,”সংসারে অভাব দেইখাই কাম করা শুরু করছি। আব্বার সিএনজি চালানোর টেকায় সংসার ঠিকমতো চলে না, আর আমাগো লেখাপড়া চালানো তো দুরের কথা। তাই বড়ভাই আর আমি কাম  করি। এই টেকা দিয়া আমার পড়ালেহার  পাশাপাশি বাকি টেহা আম্মারে দিয়া দেই সংসারের লেইগ্যা।”

কচুক্ষেত ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রতিদিন খবরের কাগজ দেয় নাঈম। কিন্তু নিজের কখনও পড়ার সময় হয় না সেই কাগজ। কারণ কাজের পাশাপাশি পঞ্চম শ্রেণীপড়ুয়া নাঈম এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেবে। ভালো ফলাফল করে জীবনে অনেক বড় হতে চায় সে। “পঞ্চম শ্রেণী শেষ করে কোন স্কুলে পড়তে চাও,নাঈম?” এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে,”সেনাপল্লী স্কুলে পড়তে চাই।” নাঈমের যে বয়স এই বয়সে তার শুধু মন দিয়ে লেখাপড়া করা উচিত। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় আজ সে কাজ করছে এবং নিজের পড়াশোনা সেই অর্থের মাধ্যমেই চালাচ্ছে। বাবা-মার সহযোগিতা আর নিজের পড়াশোনার প্রবল ইচ্ছায় নাঈম ঝরে পড়েনি বরং সংগ্রাম করে নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

এমন হাজারো নাঈম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আমাদের চারপাশে । যে বয়সে মাঠে বন্ধুদের সাথে ঘুড়ি উড়ানোর কথা সে বয়সে নাঈমরা লড়াই করে নিজেদের মৈলিক অধীকার নিজেরাই পূরন করতে। যে অধিকার রাষ্ট্রের নিশ্চিত করার কথা সে অধিকার ওরা নিজেরাই পূরন করতে খেটে যাচ্ছে দিনের পর দিন।

আমরা বাংলাদেশের এই চিত্র দেখতে চাই না যেখানে কোমলমতি শিশুরা এই বয়সেই অর্থ উপার্জনের জন্য কঠিন সংগ্রামে নামবে । আমরা এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই,যেখানে নাঈমের মতো শিশু-কিশোরেরা জীবনের সব প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়াবে প্রতিনিধিত্ব করবে এই দেশের।

আরও পড়ুনঃ জুই আর ডলির গল্প

 

বাংলা ইনিশিয়েটর/২৯/০৭/২০১৬/এস এস কে/ সাব্বির/জান্নাত

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।