প্রচ্ছদ » অনিয়ম » প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে

প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে

নিউজডেস্ক, বাংলাইনিশিয়েটর

Screenshot_4

মোঃ সোহেল , শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ থেকে এবার এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়েছে। স্বপ্ন ছিল বুয়েটে ভর্তি হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে। কিন্তু এইচ এস সি ফলাফলের পড় তার স্বপ্নে ভঙ্গ হয়।  বুয়েটসহ দেশের কোন ভালো ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে সে পরীক্ষায়ই  বসতে পারবে না। সব কিছু ঠিকই ছিল সমস্যাটা বাধিয়েছে পদার্থ বিষয়। পদার্থ দুই পত্র মিলিয়ে সে পেয়েছে ১৫৮ (একশত আটান্ন) মানে ৭৯% । পদার্থে  তার লিখিত পরীক্ষা নাম্বার ৪০ এর মধ্যে ৩৯ এবং নৈর্ব্যাত্তিকে ৩৫ এর মধ্যে ৩১। শুধুমাত্র ব্যাবহারিক পরীক্ষায় ২৫ এর মধ্যে ১৬ পাওয়ায় জিপিএ-৫এর  স্বপ্ন ছুতে পারে নি সে।

শুধু সোহেল না শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের এমন প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী শুধুমাত্র পদার্থ ব্যাবহারিক পরীক্ষায়র কম নাম্বার পাওয়ায় দুই বা এক নাম্বার এর জন্য জিপিএ ৫ পায়নি। এদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় ৮৫% নাম্বার পেয়েও ব্যবহারিক পরীক্ষায় মাত্র (৩৬-৫০)% নাম্বার পেয়েছে।

শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অভিযোগ এইচ এস সি পরীক্ষার কেন্দ্র পার্শ্ববর্তী বি এন (বাংলাদেশ নেভী) কলেজ, ঢাকার কর্তৃপক্ষ হিংসার বশবর্তী হয়ে পুলিশ স্মৃতি কলেজের ছাত্রদের ব্যাবহারিক পরীক্ষায় নাম্বার কম দেয় ।

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায় পরীক্ষা শুরুর দিন থেকেই বি এন কলেজের শিক্ষকরা তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করতে শুরু করে। পরীক্ষার হলে শিক্ষকেরা পরিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রকম নিরুৎসাহমূলক কথা বলে , পুলিশ বাহিনীকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন রকম কথা বলে। পাশাপাশি হলের ইনভিজিলেটরগন বিভিন্ন সময় চিৎকার চেঁচামেচি করে পরীক্ষার হলের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করেছে।

সোহেল নামক ওই শিক্ষার্থী বাংলা ইনিশিয়েটরকে জানায় ” আমি প্রতিটা ব্যবহারিক পরীক্ষা খুব ভালো দিয়েছি। পদার্থ ব্যবহারিক পরীক্ষার দিন পরীক্ষক ভাইবাইয় ডেকে মোবাইলে কথা বলায় ব্যাস্ত হয়ে যান। অনেক্ষন ফোনে কথা বলার পর তিনি আমাকে যা যা প্রশ্ন করেছেন আমি সবগুলোই সঠিক উত্তর দিয়েছি। কিন্তু তারপরও তারা কেন এমন করল আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। আমার বুয়েটে ভর্তি হওয়া স্বপ্নই থেকে যাবে “।

এ বিষয়ে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের ২০১৬ এইচ এস সি ব্যাজের ক্লাস ইনচার্জ জনাব ফরিদ আল হোসাইন বলেন “প্রথম পরীক্ষার পর শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অভিযোগ নিয়ে আমরা কয়েকবার বি এন কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তত্বীয় পরীক্ষা শেষে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেন যে , তারা সৌহার্দ্যপূর্ন পরিবেশে ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহন করবেন। ব্যাবহারিক পরীক্ষা শেষেও তারা আমাদের জানায় প্রত্যেক পরিক্ষার্থী খুবই ভালো পরিক্ষা দিয়েছে। কিন্তু ১৮ আগস্ট ফলাফল প্রকাশের পর আমাদের শিক্ষার্থী -অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা সবাই হতবাক। কারন তত্বীয় পরীক্ষায় (৮০-১০০)% পাওয়া শিক্ষার্থীদেরকেও বি এন কলেজ প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষায় মাত্র (৩৩-৫০)% করে নাম্বার প্রদান করেন যা নিতান্তই অমানবিক এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথ সম্পূর্নরুপে বন্ধ করে দিয়েছে।”

শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ সূত্র হতে জানা যায় ২০১২ সালেও একবার বি এন কলেজ পুলিশ স্মৃতি কলেজের এইচ এস সি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল এবং সেই সময়েও অপ্রত্যাশিত ব্যবহার এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় কম নাম্বার দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যানের বরাবর উক্ত কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করার জন্য আবেদন করলে শিক্ষা বোর্ড থেকে পুলিশ স্মৃতি  ও অন্য যেসকল কলেজের সাথে এমন হয়েছিল তাদের আশ্বস্ত করেন যে, পরীক্ষা উৎসবমুখর ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় এর পর কোন শিক্ষার্থী প্রতিহিংসার শিকার হবে না এবং সেই আশ্বাসেই এবার বি এন কলেজ কেন্দ্রে পুলিশ কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে কিন্তু অবস্থার এতটুকু উন্নতি হয় নি।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।