প্রচ্ছদ » অনিয়ম » আখের রস বিক্রি করে চলে মুক্তিযোদ্ধা আলীর সংসার

আখের রস বিক্রি করে চলে মুক্তিযোদ্ধা আলীর সংসার

নাহিদ হাসান নিলয়, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

আকবর

মিরপুর ১৩ নাম্বারে পুলিশ স্টাফ কলেজ সংলগ্ন রাস্তায় আখের রস বিক্রি করে জীবন অতিবাহিত করছেন মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর।

দেশে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের “মুক্তিযোদ্ধা ভাতা”দেওয়া হলেও এই সুবিধা থেকে এখন পর্যন্ত বঞ্চিত এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।  মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম দেন নি? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন  “আজ ১৫ বছর যাবৎ এই সব নিয়া ঘুরতাছি। কোন লাভ হয় নাই”। আস্তে আস্তে উনার মুখ থেকে শোনা গেলো এক করুন কাহিনী। দুঃখের সাথে বললেন “অনেক নেতা/ এমপির সাথেই দেখা হইছে, কারো সাথে আবার এক টেবিলে বইসা খাইছি। কিন্তু এতদিন এই কষ্টের কথা কারো কাছে কই নাই। কারন যে/যারা কথার কোনো মূল্যায়ন করে না তাদের এই সব কওয়ার থেকে না কওয়াই ভালো” । স্ত্রী,ছয় মেয়ে ও  এক ছেলেকে নিয়ে অভাবের সংসার তার। ছেলে টুকটাক কাজ করে। আখের রস বিক্রি করে যা উপার্জন করে তা দিয়েই সংসারের খরচ চলে।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতার কাগজ নিয়ে  তাকে  অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সব কিছু ঠিক কিন্তু গ্যাজেট পাস হয় না। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কাগজ আটকে আছে। নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে নাকি তার পিওনরা আকার ইংগিত এ ঘুষ দেওয়ার কথা টা বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু আখের রস বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয় আলী আকবর এর। তাই টাকা দেওয়া হয়নি বলে এখনো তার কাগজ ছাড়া হয়নি। উনি আরো বলেন “অনেকে এই নিয়া আমারে অনেক কিছু জিগাইছে। কোনো দিন কই নাই। কি হইবো কইয়া। আপনারা স্বাধীন ভাবে চলতাছেন। কিন্তু আমরা ওই সময়ে একটা গামছা গায়ে দিয়া শীতের মধ্যে কোনোরকম ঘুমাইছি তাও আবার এক কান সজাগ রাইখা। কখন আবার মিলিটারি আইসা পরে। এত কষ্ট কইরা দেশ স্বাধীন কইরা আজ মানুষ আমাগোরে ঝাড়ি দেয়। রস ১০ টাকার বিক্রি করি। কেউ কেউ ঝারি দিয়া কয় ৮ টাকায় বেচো। কি লাভ হইলো? আমরা দেশ স্বাধীন করলাম আর আজকে আমরাই সবার নিচে। কোনো দিন কোন কথা কই নাই। কিন্তু এখন আর পারি না। এখন আমি চাই সবাই জানুক। সবাই মুক্তিযোদ্ধাদের কথা জানুক। কেনো তারা এই সব সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত।”

আজ শেষ বয়সে এসে এত দিন এর চাপা কষ্ট সবার কাছে প্রকাশ করতে চায় এই মহান বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের মৌলিক অধিকার চায়। সবার কাছে সত্য প্রকাশ করতে চায়। স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধা দের যথাযথ সম্মান এবং সুবিধা দেখেই শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করতে চান আলী আকবর।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।