প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কথা » পয়ালগাছা পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ জাতীয় করনের আবেদন

পয়ালগাছা পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ জাতীয় করনের আবেদন

সবুর আহমেদ খান
14302808_1088689874512847_1898042540_n_fotor
কুমিল্লা চাদঁপুর মহাসড়কের পাশে বরুড়া -কচুয়া-শাহরাস্তি উপজেলা সঙ্গমস্থল খাজুরিয়া-জগতপুর বাজারের ৩ কি.মি উত্তরে বরুড়া উপজেলার দক্ষিন পশ্চিমে পয়ালগাছা বাজারের সন্নিকটে অবস্থিত পয়ালগাছা পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ। বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার বরুড়া, লাকসাম, শাহরাস্থি,হবিগঞ্জ এবং কচুয়া উপজেলার জনগোষ্ঠীকে উচ্চ শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে অর্থমন্ত্রনালয়ের সাবেক উপ-সচিব,বিশিষ্ট কবি ও শিক্ষাবিদ পয়ালগাছার কৃতি সন্তান মরহুম মোঃ নূরুল হক সাহেবের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সার্বিক সহযোগিতায় পয়ালগাছা বাজারের সন্নিকটে প্রায় ৪.৫ একর যায়গায় স্থাপিত পয়ালগাছা পোস্টগ্রাজুয়েট কলেজ।

 

এই কলেজটি কুমিল্লা জেলার দক্ষিণ -পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সর্বপ্রথম স্থাপিত কলেজ। ১৯৬৯ সালে কলেজটি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান,মানবিক ও বানিজ্য বিভাগে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধিভূক্তি লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্তি লাভ করে বি. এ/ বি. এস. এস/ বি. কম/ বি.এস.সি(পাস) কোর্স চালুর মাধ্যমে কলেজটি ডিগ্রি কলেজে উন্নীত হয়। ১৯৯৫ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স এ পাঠদানের মাধ্যমে কলেজটি পোস্টগ্রাজুয়েট কলেজে পরিচিতি লাভ করে।

 

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, প্রায় ৪৬ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি পয়ালগাছা পোস্টগ্রাজুয়েট কলেজ। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কলেজের মধ্যে পয়ালগাছা কলেজ ছিল অন্যতম। কারন মুক্তিযুদ্ধকালে এই কলেজের ১ম ও ২য় বর্ষ মিলে প্রায় অসংখ্য জন ছাত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন এর মধ্যে বর্তমান কুমিল্লা-৮ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলনও ছিলেন। এদের  মধ্যে ৩ জন ছাত্র শহীদ হন যাদের নামে বরুড়াতে শহীদ মীনার রয়েছে।

 

এই কলেজে এখনও ২০০০ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে। এই কলেজটি জাতীয়করণের সকল শর্তপূরন করে। প্রায় ৪.৫ একর যায়গায় প্রতিষ্ঠিত বরুড়া উপজেলা, কুমিল্লা জেলায়। এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর কেন্দ্র রয়েছে। আজ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকার মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি এই কলেজটিকে জাতীয়করণের জন্য। আর তা না হলে এই সরকারের জাতীয়করণের এই মহৎ উদ্দেশ্যের মধ্যে এক বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হবে। আশা জাতীর জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এই দিকে খেয়াল রাখবে।
লেখক কলেজের লেকচারার
>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।