প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » জয় দিয়েই শুরু বাংলাদেশের

জয় দিয়েই শুরু বাংলাদেশের

নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা
বাংলাদেশগত নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই সর্বশেষ ওয়ানডে খেলা । এরপর প্রায় এক বছর বাংলাদেশের ওয়ানডে খেলার কোনো সুযোগ মেলে নি । অবশেষে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচ সিরিজের মাধ্যমে প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হলো ।আর জয় দিয়েই এ বছরের শুভ সূচনা করলো টাইগারবাহিনী ।

 

টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার ক্যাপ্টেন মাসরাফি । ওপেনিং জুটিতে তামিম ইকবালের সঙ্গী হন সৌম্য সরকার । তবে ব্যাট হাত নিজের স্বরুপ মেলে ধরতে পারে নি, ব্যক্তিগত শূন্য রানে দৌলত জাদরানের বলে আউট হয়ে যায় বামহাতি ওপেনার । এরপর তামিমের সঙ্গী হয় ইমরুল কায়েস । ইমরুল কায়েস কয়েকবার সুযোগের দেখা পেলেও দুজনই বেশ কিছু ফটোগ্রাফিক শর্ট দিয়ে মাতিয়ে রাখেন মিরপুর দর্শকদের ।গড়ে তোলে ৮৩ রানের পার্টনারশিপ ।তবে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে ইমরুলকেও মোহাম্মাদ নবির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় ।

 

এরপর রানের চাকা সচল রাখতে তামিমের পাশাপাশি মাহমুদুল্লাহও যথেষ্ট অবদান রাখে । দুজনই অর্ধশত পূর্ণ করেন । কিন্তু সেঞ্চুরির দেখা তাদের আর মেলে নি । অবশেষে তামিমের ৮০ মাহমুদুল্লাহ’র ৭৭ এবং সাকিবের ৪৮ এর উপর ভর করেই বাংলাদেশ ২৬৬ রানের টার্গেট দিতে সক্ষম হয় । তবে সৌম্যের মতো নিজেকে মেলে ধরতে পারে মুশফিক এবং সাব্বির । সাব্বিরের আউট নিয়ে দ্বিধা থাকলেও মুশফিকুর রহিম রশিদ খানের গুগলিতে ক্লিন বোল্ড হন । অবশেষে বাংলাদেশ ১০ উইকেটে ২৬৫ সংগ্রহ করে । পরে আফগানিস্তান ব্যাট করতে নামলে তাসকিন আহমেদ এর দ্বিতীয় অভারেই সুযোগ হয়েছিল আফগানিস্তানের অপেনার শেহজাদকে আউট করার । কিন্তু ইমরুল কায়েস একেবারে হাতের ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে সেই সুযোগকে গুড়ে বালি করে দিলেন । কিন্তু সুযোগ পেয়েও বেশ একটা কাজে লাগাতে পারলো না শেহজাদ । ইনিংস এর সপ্তম ওভারে মাশরাফির বলে মুশফিকের কাছে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরলো আফগান ওপেনার ।

 

পরের ওভারেই সাকিবের বলে নুরি এলবিডব্লিউ হলে অনেকটাই নির্ভার হয় টাইগাররা । কিন্তু টাইগারদের সামনে তখনো অনেক বিস্ময় অপেক্ষা করছিল । শাহিদী আর রহমতের ১৪৪ আফগানিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে । একের পর এক অসাধারণ কিছু শর্টের মাধ্যমে টাইগারদের নাস্তানাবুদ করে ফেলে । বোলারদের মধ্যে সাকিব ছাড়া সবাই ছিল বেশ খরুচে । ফিল্ডিং ছিল ছড়ানো ছেটানো । ৪০ নাম্বার ওভারের শেষ বলে শাহিদির মামুলি ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার পর ম্যাচটাই হাত থেকে ফসকে দিয়েছিলেন প্রায় । কিন্তু ম্যাচ কিভাবে পাল্টে দিতে হয় তা টাইগার ক্যাপ্টেন মাসরাফির ভালো করেই জানা । ৪১ নাম্বার ওভারে নিজেই বল করার স্বিদ্ধান্ত নেয় । তুলে নেয় উইকেট । এরপরের ওভারে বল তুলে দেয় আবারো সাকিবকে ।  সাকিবও তার দায়িত্ব বুঝে নেন । আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারের গৌরব অর্জন করে । এরপর জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পেছনে বেশি অবদান সর্বোচ্চ রান দেওয়া তাসকিনেরই !!! একের পর এক মোট ৪ টি উইকেট তুলে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় । তবে পেছন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল কিন্তু সেই মাসরাফিই ।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।