প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » হাসু থেকে শেখ হাসিনা হয়ে ওঠার গল্প

হাসু থেকে শেখ হাসিনা হয়ে ওঠার গল্প

 খাতুনে জান্নাত (১৩), বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

hasina_asem সালটা ছিল ১৯৪৭  যখন  শেখ ফজিলাতুন্নেসার কোল আলো করে জন্মগ্রহন করে একটি কন্যা, তখনও তার মা জানতেন না তার মেয়েই একদিন স্বাধীন বাংলাদেশের দায়িত্ব নেবে। বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের পর তিনিই হবেন উপমহাদেশে অন্যতম এবং বাংলাদেশের সবচাইতে প্রাচীন রাজনৈতিক দল  আওয়ামী লীগের সভাপতি। পিতার রেখে যাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশকেও নিয়ে যাবেন এক অনন্য উচ্চতায়। তিনিই শেখ হাসিনা, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

খুব সাধারণভাবেই জীবনযাপন শুরু করেছিলেন তিনি, আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই। জন্ম টুঙ্গিপাড়ায় হওয়ার কারণে সেখান থেকেই পড়াশোনায় হাতেখড়ি । ১৯৫৪ সালে পরিবারসহ তিনি ঢাকায় বসবাস শুরু করলে সেখানেই শুরু হয় পড়াশোনা। এভাবেই অতিবাহিত হয়েছে তার ছেলেবেলা। খুব সাধারণ আর গোছালো। কিন্তু তার জীবনের চাকা অন্যদিকে ঘুরে যায় যখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট তিনি ও তার ছোট  বোন শেখ রেহানা জার্মানিতে অবস্থানকালে তার পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। তার গোছালো জীবন তখন এলোমেলো হয়ে যায়।

মা-বাবা, ভাইসহ নিকটাত্মীয়দের হারানোর পরের পথটা মোটেও সরল ছিল না শেখ হাসিনার। সে সময় তাঁকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন দেশ ঘুরে ভারতে আশ্রয় নেন তিনি। দেশের স্থপতির সন্তান শেখ হাসিনা সে সময় অর্থাভাবে যুক্তরাজ্যে নিজের একমাত্র ছোট বোনের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ছয় বছর ভারতে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার আগেই আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ৩৪ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহত্ দলের সভাপতির দায়িত্ব নেন। সে সময় প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ, পুরুষশাসিত সমাজে রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় তাঁকে বহু প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করতে হয়েছে। নিজ দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাও খুশি ছিলেন না কম বয়সী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব নিয়ে। দলের ভেতরে-বাইরে সব প্রতিবন্ধকতা তিনি কাটিয়ে উঠেছেন বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে।

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বেই আাওয়ামী লীগ জয়ী হয়। ২য় বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন শেখ হাসিনা। মূলত এর পরই শুরু হয় শেখ হাসিনার লক্ষ্য পূরণের এক অবিশ্বাস্য যাত্রা। তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে মনোনিবেশ করেন শেখ হাসিনা। এখন পর্যন্ত তিনি সফলভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা যে শুধ আওয়ামী লীগের সভাপতি আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তা নয়, তিনি বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারীদের মধ্যে ৭ম (২০১১)। এশীয় পর্যায়ে এশিয়ার আট ক্ষমতাধর নারীর যে তালিকা সিএনএন প্রকাশ করে, সেখানেও তিনি ৬ষ্ঠ তম স্থানে অবস্থান করছেন। তিনি এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ২৯টি পুরস্কার ও পদক অর্জন করেছেন  ; যা শুধু তাকে নয়, গর্বিত করেছে পুরো বাংলাদেশকে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ৭০ তম অধিবেশনে পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’ , ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’‘শান্তিবৃক্ষ পদক’ ‘সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন পদক’, ‘ওম্যান ইন পার্লামেন্ট (ডাব্লিউআইপি) গে্লাবাল অ্যাওয়ার্ড’ অন্যতম।

সপ্রতি জাতিসংঘ সদর দফতরের ইউএন প্লাজায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে গ্লোবাল পার্টনারশিপস ফোরাম-এর পক্ষ থেকে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ এবং জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন-উইম্যান-এর পক্ষ থেকে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সম্মাননা ও ডিগ্রি প্রদান করেন।

আজ সবদিক থেকে তিনি যেমন একজন সফল  প্রধানমন্ত্রী, তেমনি একজন সফল  মানুষ। তবে একজন নারী হিসেবে তার পথযাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না। অনেকটা রুপ কথার মতই ছিল তার জীবনগাথা। জার্মানিতে থাকা কালে যখন তিনি তার পুরো পরিবারের মৃত্যু-সংবাদ পান, স্বাভাবিক ভাবেই একজন নারী হিসেবে তিনি ভেঙ্গে পড়েন। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পুরো একটা দেশের দায়িত্ব নেয়া সহজ ব্যাপার ছিল না। আর যেহেতু তিনি একজন নারী , প্রতিকূলতা তো ছিলই। ছিল চ্যালেঞ্জও। অনেকেরই ধারণা ছিল শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগের হাল শেখ হাসিনা কখনোই ধরতে পারবেন না। কিন্তু তিনি তাদের ধারনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেখিয়ে দেন যে,আওয়ামী লীগের মতো বড় একটি রাজনৈতিক দল এবং বাংলাদেশ পরিচালনা- দুটোই তিনি সফলভাবে করতে পারেন। শুধু তাই নয়, প্রথমদিকে তার দেশ পরিচালনা করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এখন তিনি দেশ সুন্দরভাবে পরিচালনা করার পাশাপাশি এশিয়ার এবং পুরো বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে একজন।  তার ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ক্ষমতা এখন আর কারোই নেই।

বাংলাদেশের কতজন নারী পারে নিজের পরিচয় তৈরি করতে? একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে তিনি আজ সফল। তিনি বৃত্তের বাইরে বেরোতে পেরেছেন, পেরেছেন প্রতিকূলতাকে জয় করতে, সাধারন একজন গৃহবধু হাসু থেকে হয়েছেন দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,  হয়েছেন কোটি মানুষের অনুসরণীয়।

সফল এই মানুষটির জন্মদিনে তার প্রতি বাংলা ইনিশিয়েটর পরিবারের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা ।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।