প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » সম্পাদকীয় » এক নজরে শেখ হাসিনার সাফল্য

এক নজরে শেখ হাসিনার সাফল্য

  গাজি নাহিদ আহসান (১৫)
0a0044630dbb0279e14dbe44b9ee0be3-01-08-15-sheak-hasina-greeting-3শেখ হাসিনা,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৫ম সন্তানের মধ্যে জেষ্ঠ্য। গোপালগঞ্জ জেলার টুংগিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিনি ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দিতা করে সরকারি ইন্টার মিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্র সংসদের সহসভাপতি থাকার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সকল গনআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের সেই কালো অধ্যায়ের সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহেনা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ৬ বছর ভারতে অবসথান করেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ড এ থাকাবস্থায় তিনি সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে সকলের সম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।সেই তার পথ চলার শুরু। তাকে হত্যার জন্য আজ পর্যন্ত ১৯ বার সশস্ত্র হামলা করা হয়। তারপরও তিনি থেমে যান নি।

শেখ হাসিনা, একজন অনুস্মরণীয় নারী যার কারনে আজ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দারাতে পারে।বাংলাদেশকে তিনি এনেদিয়েছেন নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা। শেখ হাসিনার শাসন আমলেই বাংলাদেশের বেশিরভাগ আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে শেখ হাসিনা সরকারের উল্ল্যেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মাঝে আছে, ভারতের সাথে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি,পার্বত্য এলাকার শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মান, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ভুমিহীন দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চালু করেন এবং আরো নানান দিক দিয়ে ব্যক্তিগত সাফল্য ও বয়ে আনেন।

২০০৯-২০১৩ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্ল্যেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মাঝে আছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,২৬০ মেগাওয়াট এ উন্নিতকরন, গড়ে ৬ শতাংসের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরন, ভারত ও মায়ানমারের সাথে জলসীমা চুক্তির বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরন, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড, ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা, ১৬০০০ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন,দারিদ্র‍্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮.৪ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২৪.৩ শতাংস হ্রাস,এছাড়াও তিনি নিজে জাতিসংঘ কর্তৃক শান্তির মডেল গ্রহন করেন। অভাবনীয় সাফল্যের মধ্য দিয়ে অই বছর ও চলে যায়।

২০১৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সাফল্যগাথা গুলো হলো বাংলাদেশ কে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরন, ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থলসীমা চুক্তির অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান, মাথাপিছু আয় ১৩১৪ ডলারে উন্নীতকরন,দারিদ্র‍্যের হার ২২.৪ শতাংসে হ্রাস, ২৫ বিলিয়ন ডলারের উপর বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন শুরু, শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো নানা সাফল্য। দেশকে তিনি এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যেখান থেকে পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই।

একজন নারী যে কিনা শতবাধা অতিক্রম করে এই উচ্চতায় পৌছেছেন তিনি নিজেও নানা সাফল্যে সাফল্যমন্ডিত। সেগুলোর মাঝে উল্ল্যেখযোগ্য কিছু হলো, ২০০০ সালে “Pearl S.buck”৯৯”” পুরস্কারে ভুষিত করে যুক্তরাষ্ট্র এর রানডলপ ম্যাকন উইমেনস কলেজ। জাতিসংঘ থেকে পান “Seres” সেরেস মেডেল। সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ তাকে “মাদার তেরেসা” পদকে ভূষিত করেন ১৯৯৮ সালে। ১৯৯৭ সালে তিনি সুভাষ চন্দ্র বসু স্মৃতি পদকে ভূষিত হন। ১৯৯৬-৯৭ সালে লাভ করেন “Medal of Distinction” এবং “Head of State”। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনাকে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক প্রদান করা হয়। ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাকে “শান্তিবৃক্ষ” পদকে ভূষিত হন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ ও টেকশই উন্নয়নে অবদান রাখার কারনে ২০১৫ সালে তাকে জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন সংঘ তাদের সর্বোচ্চ পুরষ্কার “চ্যাম্পিয়ন অফ দা আর্থ ” এ ভূষিত করেন। এরপর আবার ICU(International Telecommunication Union) তাকে “ICTs in Sustainable Development Award-2015 ” প্রদান করে। এছাড়াও আরো অসংখ্য পদক তিনি পেয়েছেন।

জায়গা পেয়েছেন মানুষ এর মনে। আদর্শে পরিনত হয়েছেন সকল বাঙালি নারীর। তাকে দেখে একজন নারী জীবনের উদ্দ্যেশ্য খুঁজে পেতে পারে, শিখতে পারে কিভাবে জীবনের কালো অধ্যায়গুলো অতিক্রম করে পৌছাতে হয় সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে।তিনি সত্যি ই একজন আদর্শ এর উদাহরণ। আজ এই মহান নেত্রীর ৭০ তম জন্মবার্ষিকী। আল্লাহ তাকে আরও অনেক বছর বেঁচে থাকার তাগিদ দান করুক যেন বাংলার মানুষ তাদের স্বপ্ন পুরনের পথচলায় শেখ হাসিনার মতো একজন নেত্রী পেতে পারে।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ইনিশিয়েটর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ইনিশিয়েটর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।