প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » বাংলাদেশের শততম জয় পাওয়া হল না

বাংলাদেশের শততম জয় পাওয়া হল না

 নুহাইতুল ইসলাম লাবিব (১৬), বাংলা ইনিশিয়েটর

tiger_103878আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিরিজ এটিই । আর এই তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান ম্যাচটি নিজের করে নিয়ে এখনো সিরিজ জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখলো । এই ম্যাচ জয়ের মাধ্যমে শুধু সিরিজ জয় থেকেই বঞ্চিত হয় নি টাইগাররা, একশটি ওয়ানডে জয়ের স্বাদও গ্রহন করতে পারলো না টাইগারবাহিনী ।  সেঞ্চুরি পূরণ করতে মাশরাফিদের  প্রয়োজন আরও একটি ম্যাচ কিন্তু ৩১৩ টি ম্যাচেই হতে পারতো সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের দেওয়া ২০৯ রানের টার্গেট ৪৯.৪ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানরা।

টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। শুরুতেই মুহাম্মাদ নবি কে বল হাতে তুলে দিয়ে কিছুটা চমক  দেয় আফগান ক্যাপ্টেন আজগর স্টানিকজাই। ব্যাট হাতে গত ম্যাচের মতো আজ আর জ্বলে উঠতে পারেনি তামিম ইকবাল । তবে ম্যাচের প্রথম চারের দেখা কিন্তু তামিমের ব্যাট থেকেই এসেছে । অপরদিকে সৌম্য সরকার রানের দেখা পেতে বেশ সতর্কই ছিলেন বটে । তবে পাকিস্তান, ভারত, আর দক্ষিন আফ্রিকাদের বিরুদ্ধে যে সৌম্য সরকারকে দেখা গিয়েছিল সেই রুপে না পেলেও কিছু চারের দেখা মেলেছে তার ব্যাট থেকে । কিন্তু ওপেনিং জুটি বেশিক্ষন স্থায়ী হয় নি । দলীয় ৪৫ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ২১ রানে চলে যায় তামিম ইকবাল । তামিমের বিদায়ের পর সৌম্যও চলে যায় ব্যক্তিগত ২০ রানে।

ওপেনারদের বিদায়ের পর কোনো ব্যাটসম্যানই নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারে নি । অর্ধশত রান আসে নি কারো ব্যাট থেকেই । আগের ম্যাচের নায়ক মাহমুদুল্লাহ, সাকিব কেউই নিজেকে ব্যাট হাতে মেলে ধরতে পারে নি । মাহমুদুল্লাহ (২৫)এবং সাকিব (১৭) রানে ফিরে গেলে মুশফিক নিজেকে খোলস ছেড়ে বের করে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শর্টের উপহার দেন দলকে। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৮ রানের মাথায় মুশফিকও আউট হয়ে গেলে দল বেশ বিপদেই পড়েই যায় , একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে । মাশরাফিও দলকে কিছু না দিতে পেরে সাজঘরে ফিরে যায় ।

তবে ভুলে গেলে হবে না আজ ইমরুল এর বদলে অভিষেক হয়েছে তরুণ মোসাদ্দাকের। অভিষেকেই নিজেকে মেলে ধরতে ভুল করেনি । দলের ভিত্তি গড়ে তুলতে ৪৫ রানের এক দারুন ইনিংস উপহার দেয় দর্শকদের। ১৩৮ রানে ৬ উইকেট চলে যেতেই মাঠে নামে মোসাদ্দেক। কিন্তু তখন তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়ার মতো সতীর্থ কেউই ছিল না । কেননা ৪২ নম্বর ওভারে টানা দুই বলে তাইজুল এবং তাসকিনকে তুলে নিয়ে হ্যাট্রিক করার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল লেগ ব্রেক বোলার রশিদ খান । অবশেষে তা আর সম্ভব হয় নি রুবেলের ডিফেন্সিভ শর্টে। তারপর বাংলাদেশকে ২০৯ রানের টার্গেট এনে দিতে বেশি অবদান সেই মোসাদ্দেকেরই। ইনিংস এর ৪৭ নম্বর ওভারে নিজের এবং দলেরও প্রথম ছয়টি মেরে তার ক্ষমতা বুঝিয়ে দেন আফগান বোলারদের । গড়ে তুলে রুবেলের সাথে ৪৩ রানের পার্টনারশিপ। দশম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি বাংলাদেশের।

ব্যাটিং পর্ব শেষে  বোলিং পর্বে প্রথম থেকেই কিছুটা চাপে ছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারে দলের রান যখন কেবল ১৪ সাকিব আল হাসান তুলে নেয় প্রথম উইকেটটি । কিন্তু প্রথম উইকেট নিয়েই ক্ষান্ত থাকলেন না বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার । এক বল যেতে না যেতেই তুলে নেয় আরেকটি উইকেট । কিন্ত শেহজাদ তখনো ক্রিজে । নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামে শাহিদী । বেশ কিছু ৪ আর ৬ এর দেখাও মিলে এই পার্টনারশিপে । তবে এই পার্টনারশিপে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অভিষেক হওয়া সেই মোসাদ্দেক । ১৫তম ওভারে মাসরাফি বল তুলে দেয় এই তরুণ খেলোয়াড়কে । নিজের প্রথম ম্যাচকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে প্রথম ওভারের প্রথম বলেই তুলে নেয় শাহীদিকে। এর ফলে আফগানিস্তান ৫৯ রানে হারায় তাদের তৃতীয় উইকেট। এর পরের ওভারেই আবার সাকিবের হাতে বল তুলে দেয় মাসরাফি। এবারো মাসরাফিকে নিরাশ করে নি সাকিব । তুলে নেয় আফগান ওপেনার শেহজাদকে । ৬৩ রানে ৪ উইকেট চলে যায় বেশ কিছুক্ষণ সতর্কতার সাথেই খেলতে হয় তাদের। কিন্তু ধীরে ধীরে মোহাম্মদ নবি আর ক্যাপ্টেন স্টানিকজাই যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়ে । সর্বোচ্চ পার্টনারশিপেরও দেখা মেলে এই উইকেট জুটিতেই।

মাশরাফির সব হাতিয়ার যখন উইকেট তুলতে ব্যার্থ হয় নিজেই বল হাতে তুলে নেয় । মোহাম্মদ নবির উইকেটটি তুলে নিতেও ভুল হয় নি টাইগার ক্যাপ্টেনের । ১০৭ রানের বিশাল পার্টনারশিপ ভেঙ্গে দিতেই মোসাদ্দেক এসে স্টানিকজাইয়ের উইকেটটিও তুলে নেয় । কিন্তু তখনো বলা মুশকিল কে জিততে যাচ্ছে আজ । ৪৪ নম্বর ওভারে সাকিবের ব্যাক্তিগত শেষ ওভারে সাত নম্বর উইকেট তুলে নিলেও ম্যাচটি কোনদিকে বাঁক নিয়ে আছে তা আসলেই বোঝার উপায় ছিল না । খেলা গড়ায় শেষ ওভার পর্যন্ত । ৬ বলে দরকার ৩ রান । প্রথম ২ বল ডট হলেও তৃতীয় বলে ওয়াইড দিয়ে ম্যাচ ড্র করে ফেলে আফগানরা । এরপরের বলে উইকেট নিয়ে আরও রহস্যময় করে তুলে ম্যাচটিকে । কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না ৪৯ নম্বর ওভারের ৪র্থ বলে ৪ দিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় । আফগানিস্তানের এই জয়ের মাধ্যমে আরও এক ম্যাচ অপেক্ষা করতে হুচ্ছে এই সিরিজটি কার হতে যাচ্ছে। এখন শুধু ৩য় ম্যাচের অপেক্ষা ।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।