প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » তামিমের ব্যাটে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

তামিমের ব্যাটে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

নুহাইতুল ইসলাম লাবিব, বাংলাইনিশিয়েটর, ঢাকা

screenshot_9দুই দলের জন্যই শেষ ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল । কেননা এই ম্যাচটির উপরই নির্ভর করছিল সিরিজটি কার হতে যাচ্ছে। ম্যাচটি জিতে টাইগাররা যেন এক ঢিলে দুই পাখি মারলো । সিরিজ জয় তো নিশ্চিত করলোই পাশাপাশি শততম জয়েরও স্বাদ পেল বাংলাদেশ।

সেঞ্চুরি করতে বাংলাদেশের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩১৪ টি ম্যাচ। তবে এই ম্যাচে কিন্তু কেবল বাংলাদেশই সেঞ্চুরি করেনি, বাংলাদেশের সাথে ব্যাক্তিগত সপ্তম সেঞ্চুরির দেখা পেল ওপেনার তামিম ইকবাল। এই শতকের মাধ্যমে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক হলো তামিম ইকবাল।

টস জিতে ব্যাট করার স্বিদ্ধান্ত নেয় টাইগার ক্যাপ্টেন মাসরাফি। যথারীতি ওপেনার হিসেবে তামিমের সাথে ব্যাট করতে নামে সৌম্য সরকার। সিরিজের প্রতি ম্যাচের মতো এবারো কোনো প্রকার অবদান না রেখেই মাঠ ছাড়লেন সৌম্য সরকার। ব্যাক্তিগত ১১ রানে আফগান কিপার শেহজাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথে হাটতে হয়েছে বামহাতি ওপেনারকে। সৌম্য সরকারের পর মাঠে সাব্বির রহমানের আগমন দেখে সবাই বেশ অবাকই হয়েছিল বটে। কেননা এই সিরিজে প্রথমবারের মতোই সাব্বির রহমানকে ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান হিসেবে দেখা গেল। দীর্ঘদিন পর এই পজিশনে ব্যাটিং করায় মোটেও খেই হারিয়ে ফেলেনি তিনি । বরং অর্ধশত তো করলেনই সেই সাথে তামিমের সাথে গড়ে তুললেন ১৪০ রানের পার্টনারশিপ।মূলত এই পার্টনারশিপই বাংলাদেশকে ২৭৯ রানের মূল ভিত্তি  গড়ে দেয় । বেশ কিছু নান্দনিক শর্ট দিয়ে দুজন ব্যাটসম্যানই আফগান বোলারদের ধরাশায়ী করে তুলে ।তবে নিজের অর্ধশতকে শতকে পূর্ণ করতে পারেননি তিনি, ব্যাক্তিগত ৬৫ রানেই ফিরে যেতে হয় তাকে।

তবে সাব্বিরের মতো তামিম সেঞ্চুরি করতে কোনো  প্রকার ভুল করলো না । সেঞ্চুরির পর যেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে গেলেন । অবশেষে তামিমের ইনিংস গিয়ে থামলো ১১৮ রানে। ১১৮ রানের ইনিংসটির জন্য তামিমের প্রয়োজন হয়েছিল ১১৮ টি বল।কিন্তু তামিমের পর যেন সবাই আসা যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। সাকিব, মুশফিক, মোসাদ্দেককে তুলে নেবার পর বাংলাদেশকে বেশ চাপেই ফেলে দিয়েছিলেন আফগান বোলাররা। শেষদিকে মাহমুদুল্লাহর ২২ বলের ৩২ রানের ইনিংসটিই যেন ২৮০ রানের টার্গেট দিতে সাহায্য করেছিল।

বোলিং পর্বের প্রথম থেকেই আফগান ব্যাটসম্যানদের উপর চড়াও হয়ে উঠে টাইগাররা। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই শেহজাদকে বোল্ড করে শুন্য রানে সাজঘরে পাঠান মাসরাফি। কিন্তু চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে বল করতে গিয়ে ক্রিজে পড়ে যান মাসরাফি। তবে সুখবর হলো তেমন কোনো সমস্যাই হয়নি টাইগার ক্যাপ্টেনের। লাইন লেংথ ঠিক রেখেই বাকি বলগুলো করে বেশ স্বস্তি এনে দেয় বাংলাদেশের দর্শকদের। ১৪ নম্বর ওভারে ২ টি উইকেট নিয়ে বেশ চমক লাগিয়ে দেয় সাড়ে আট বছর পর খেলতে আসা মোশারফ রুবেল। সর্বশেষ উইকেট নিয়েছিলেন ২০০৮ সালে!!!

২০০৮ সালের সেই ম্যাচটির পর বাংলাদেশ খেলে ফেলেছে দেড়শোটি ম্যাচ। কিন্তু মোশারফের খেলা হয়নি একটিও। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার সফরের দলে থাকলেও খেলার আর সুযোগ হয় নি। অবশেষে বাংলাদেশের শততম ওয়ানডের মধ্য দিয়ে আবারো দলে জায়গা করে নিল বামহাতি এই স্পিনার। আফগানদের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট নিয়ে দীর্ঘদিন পর বেশ ভালোভাবেই সূচনা করলেন তিনি। এরপর বাংলাদেশের জয় পেতে আর তেমন কোনো বেগ পেতে হহয় নি । তাসকিন, মোসাদ্দেক, শফিউল মিলে আফগানদের ১৩৮ রানে অল আউট করে সিরিজটা হাসতে খেলতেই জিতে নিল বাংলাদেশ ।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।