প্রচ্ছদ » সাইন্স ভিউ » জানা-অজানা » পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান এরিয়া ৫১ (২য় পর্ব)

পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান এরিয়া ৫১ (২য় পর্ব)

প্রকাশ : ২ অক্টোবর ২০১৬৩:০০:৫৪ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user ” pfaicolr=”” ]  গাজী নাহিদ আহসান, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

area-51_fotorc

এরিয়া ৫১ নিয়ে নানা গল্প শোনা যায়, সেগুলো রুপকথা না আদৌ ঘটেছে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এরিয়া ৫১ নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম হয় মানুষের চাঁদে যাওয়া নিয়ে। নীল আর্মস্ট্রং এর চন্দ্র অভিযানের যে ইতিহাস সেটা নাকি পুরোটাই একটি সাজানো নাটক। যে নাটকের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো এরিয়া ৫১।

অ্যাপোলো রকেট ডিজাইন করা কোম্পানি রকেটডাইন এর একজন ইঞ্জিনিয়ার ও পর্যবেক্ষক বিল কেইসিং এর লেখা “উই নেভার ওয়েন্ট টু দি মুন” শিরোনামের বইটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়। এ বইয়ে লেখক দাবি করেন, অ্যাপোলো মিশন ছিলো বড় একটা মিথ্যা। পুরোটাই আইওয়াশ। তিনি নানা বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে প্রমান করার চেষ্টা করেন যে বাস্তবে ওই অভিযানের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। শুধুমাত্র বিল কেইসিং ই নন, আরো অনেকেই এই কথা বলেছেন। ষাটের দশকের নাসায় কর্মরত মহাকাশচারী এবং ও অ্যাপোলো মিশনের সায়েন্টিফিক এডভাইজার ‘ব্রাইয়ান ওলেরি’ বলেন, “আমি শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে সত্যিই কি তাঁরা চাঁদে গিয়েছিলো”। সবচেয়ে বেশি মজার বিষয় হলো, খোদ আমেরিকার ২০ শতাংশ মানুষ নীল আর্মস্ট্রং এর চন্দ্র অভিযানের প্রচলিত গল্প বিশ্বাস করে না।

তাহলে এত দিন ধরে যা জেনে আসছিলাম, সেটার পুরোটাই কি একটি সাজানো গল্প? রহস্যের সমীকরণ খুঁজে পেতে চলুন ফিরে যাই চার দশক আগে, যখন আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে শীতল যুদ্ধ চলছিল। দুই দেশই তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছিল। 14543327_1578732342435444_1930088540_nযু্দ্ধজয়ে মরিয়া দুই পক্ষই। তৎকালীন এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো যে, যে দেশ আগে মহাকাশে আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে তারাই জয়ী হবে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর পৃথিবী থেকে প্রথম স্যাটেলাইট ‘স্পুটনিক ‘ মহাকাশে পাঠায়। মহাকাশে সোভিয়েত ইউনিয়নের এমন সাফল্য দেখে মাথাচারা দিয়ে উঠে আমেরিকা। বিল কেইসিং এর মতে ওই সময়ের প্রযুক্তিতে চাঁদে যাওয়া এবং নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসার সম্ভাবনা ০.০০১৭ শতাংশ। কিন্তু এই সোভিয়েত ইউনিয়নকে দমানোর জন্যই নাকি এই অ্যাপোলো মিশন।

কথা হলো গিয়ে, অ্যাপোলো মিশন যদি মিথ্যা হয় তাহলে আমেরিকা কিভাবে এত বড় মিথ্যাকে সত্যে রুপান্তরিত করে পৃথিবীতে প্রকাশ ঘটালো। বিল কেইসিং এর মতে, “অ্যাপোলো মিশনে মহাকাশযানগুলো মহাকাশে গিয়েছিলো। কিন্তু চাঁদে মানুষ পাঠানো হয় নাই। অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযানটি ৮ দিন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরেছিল। এরপর মুলযানটি আলাদা হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে। আর টিভিতে যেটা দেখানো হয়েছিলো তা ছিলো পূর্বে ধারন করা। অনেকেই বলেন এটি ছিলো খুব বড় বাজেটের একটি নাটক যা এরিয়া ৫১ নামের মার্কিন গোপন ঘাঁটিতে মঞ্চায়িত হয়। এইসব কথাগুলোর পক্ষে যুক্তিরও অভাব নেই। কিন্তু কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা তার কোন সঠিক তথ্য এখনো কেউ জানেনা ।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।