প্রচ্ছদ » সাইন্স ভিউ » জানা-অজানা » পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান এরিয়া ৫১ (শেষ পর্ব)

পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান এরিয়া ৫১ (শেষ পর্ব)

গাজী নাহিদ আহসান, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

area-51_fotor

আগের দুই পর্ব থেকে আমরা জেনেছি যে  এরিয়া ৫১ রহস্যের অন্তরালে থাকা একটি ঘাঁটি যা আমেরিকায় অবস্থিত। এখানে কি কাজ করা হয় এত গোপনীয়তা মান্য করে সেটার রহস্যই আজ পর্যন্ত কেউ জানে  না।  রহস্যের ডামাঢোল বাজানোর যেই কারন তা হলো মানুষ আদৌ চাঁদে গিয়েছে কিনা? আর না গিয়ে থাকলে সেটার মঞ্চায়ন এরিয়া ৫১ তেই হয়েছে কিনা? আসলে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রতেই এইসবের প্রমান পাওয়া যায় না। বিচার করতে হয় যুক্তি দিয়ে। আর যেহেতু একেকজনের যুক্তি একেকরকম, তাই রহস্য আজও বিদ্যমান।

১৯৭৭ সালের ২ জুন হলিউডে মুক্তি পায় ” কেপ্রিকন ১” নামের একটা ছবি। ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেটের মুভিটির দৃশ্য আর চাঁদ থেকে পাঠানো মহাকাশচারীদের ভিডিওর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। প্রযোজক পল এন ল্যাজারুসের মতে, নাসা ৪০ বিলিয়ন বাজেটের প্রোগ্রাম অ্যাপোলো মিশনে যে ভিডিও দেখিয়েছে, সেটা তারা মাত্র ৪ বিলিয়ন বাজেট নিয়ে করে দেখিয়েছে তাও আবার একটা টিভি স্টুডিও তে। আবার বিল কেইসিং এর মতেও চন্দ্র অভিযান হয় নি, এটাকে নাটকের আকারে সাজানো হয়েছে। আসলে সন্দেহের মুল কারন অনেক কিছুই আছে। যেমন,নাসার সরবরাহ করা ফুটেজে দেখা যায় দুটি বস্তুর ছায়া পরস্পরকে ছেদ করেছে।অথচ তা আলোর উৎস হওয়ায় সমান্তরাল হওয়ার কথা। এমনই হাজারো রহস্য আজও লুকিয়ে আছে। প্রমান করার জন্য যুক্তি অনেক উঠানো যায়, কিন্তু বিশ্বাস করার দায়িত্ব তো আপনার।

এরিয়া ৫১ এর অস্তিত্বের কথা স্বীকারঃ গত বছর সিআইএ একটি নথি উন্মুক্ত করে যার মধ্যে এরিয়া ৫১ এর কথা স্বীকার করা হয়েছে। তবে সেখানে একটি কথা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং তা হলো যে এরিয়া ৫১ এ  ভিনগ্রহের প্রানীরা যাতায়াত করতো নাহ। বরং “ইউ-২” নামের গুপ্তচর বিমানের একটি প্রকল্প পরিচালনায় ব্যবহৃত হতো জায়গাটি। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর নজরদারি করাই ছিলো যেটার মুল উদ্দেশ্য।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সিআই এর কাছ থেকে  এসব তথ্য পেয়েছে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা মহাফেজখানা। ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট প্রকাশ করা ওই নথিতে বলা হয়, গোপন-গুপ্তচর বিমান এর পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য ১৯৫৫ সালে নেভাদার জনশূন্য মরুভুমিতে “এরিয়া ৫১” নামের বর্তমান এই জায়গাটি বেছে নেয়া হয়।

নথিতে বলা হয়, অতি উচ্চতায় তাদের এইসব গুপ্তচর বিমান ওড়ানোর ফলে একটি গুজব অতিদ্রুত ছড়িয়ে পরলো যে ভিনদেশি প্রানীরা নাকি আমেরিকা ঘুরে গেছে। আসলে হয়েছিল কি, তৎকালীন বানিজ্যিক বিমানগুলো সাধারনত ১০-২০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তো। বি-৪৭ মডেলের যুদ্ধবিমানগুলো উড়তো ৪০ হাজার ফুট উচ্চতায়। কিন্তু সেখানে ‘ইউ-২’ বিমানগুলো উড়তে পারতো ৬০ হাজারফুট উপর দিয়ে, যার কারনে সাধারন মানুষের ধারনা করতে সময় লাগে নাই যে এটি সাধারন কোনো বিমান নয়, নিশ্চয়ই ভিনদেশ থেকে এসেছে। অতি গোপন এই প্রকল্পের কথা যাতে ফাঁস না হয় সেইকারনে তখন চুপ ছিলো সিআইএ। এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর হয়তো সামনেই বের হবে। যতই তারা এরিয়া ৫১ এর কথা স্বীকার করুক, সাধারণ মানুষ এর মনে আজও সন্দেহ জাগবে তাহলে এখন কি করা হচ্ছে এরিয়া ৫১ এ ? কেন আজও এত নিরাপত্তা দিয়ে ঘেরাও করা ওই এরিয়া ৫১? মনের মধ্যে প্রশ্ন উঠা সাধারন ব্যাপার, কিন্তু এইসব প্রশ্নের উত্তর যখন সারা পৃথিবীর মানুষের নিকটই অজানা থাকে তখনই তাকে সবচেয়ে রহস্যময় বলা যায়।

 

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।