প্রচ্ছদ » ভ্রমন » দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ির দেশ শ্রীমঙ্গল

দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ির দেশ শ্রীমঙ্গল

  আবদুল কাদির জিলানী, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

14712570_1786263538315841_3027035485647610658_o_fotor

৪৫০ কিলোমিটার আয়তনের শ্রীমঙ্গলকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা যেতে পারে। এখানকার বেশকিছু চা বাগানের নজরকাড়া সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে চলেছে। এখানকার মাইলের পর মাইল বিস্তৃত চা বাগান দেখে মনে হবে যেন পাহাড়ের ঢালে সবুজ গালিচা বিছানো রয়েছে। দেশের সবচেয়ে উন্নতমানের চা এখানেই উৎপন্ন হয়ে থাকে।

পাহাড়ের কোলে সবুজময় শতবর্ষী চা-বাগান, হাওড়ের বিস্তির্ণ জলরাশি, বৃষ্টিস্নাত ঘন বন;  শ্রীমঙ্গলের বর্ণনা দেয়ার জন্য এই-ই যথেষ্ট। জলাভূমি, পাহাড় (তবে শ্রীমঙ্গলের পাহাড়গুলোকে পাহাড় না বলে টিলা বলাই শ্রেয় কেননা এদের উচ্চতা খুব বেশি নয়), ঘন বনাঞ্চলের এত অসাধারণ সমন্বয় দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। সাজানো গোছানো চা-বাগানের অবস্থানের কারনে অনেকে শ্রীমঙ্গলকে দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ির দেশও বলে থাকেন।

শ্রীমঙ্গল চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত— এ কথা প্রায় সকলেই জানা আছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চা-বাগান আছে মৌলভীবাজার জেলায়। আর এ জেলার বেশিরভাগ চা-বাগানই শ্রীমঙ্গলে। সাধারণত মে মাস থেকে চাপাতা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। চলে অক্টোবর অবধি। এ সময়ে বাগানও থাকে সবুজ-সতেজ আর কর্মচঞ্চল। তাই পাহাড়-টিলার বাঁকে বাঁকে চা-শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা দেখতে যাওয়ার এখনই মোক্ষম সময়।

fgdfgdfgdf

সিলেটের চা বাগানের ভ্রমন যে কারো জন্যই হবে মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা। এই চা বাগানগুলো ইংরেজ রাজদের শাসনকালের স্মৃতি বহন করছে। ইংরেজরাই এখানে চা চাষের সূচনা করেছিল এবং সেই সময়ের মতো আজও চা বাগানের ম্যানেজারেরা কাঠের তৈরি সাদা রঙের ভবনে বাস করেন। চা বাগানের বাংলোগুলো চমৎকার করে সাজানো বিশাল বাগানের ওপর অবস্থিত। চা বাগানের জীবন যাত্রাও রয়েছে অনেকটা ইংরেজ আমলের মতই।

‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য দেখে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ভ্রমণ শুরু করতে হবে । বাগানে চা- পাতা তুলছে এক তরুণী শ্রমিক— এই আদলে তৈরি সাদা ভাস্কর্যটি শ্রীমঙ্গলের প্রবেশপথেই দৃষ্টি কেড়ে নেবে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন দৃষ্টিনন্দন এ ভাস্কর্যটি তৈরি করেছে সাতগাঁও চা-বাগানের সহায়তায়। ‘চা-কন্যা’র সামনেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সাতগাঁও চা-বাগান। সেটিও দেখে নিতে পারেন।   ‘চা-কন্যা’ থেকে শ্রীমঙ্গল শহরের দূরত্ব বেশি নয়। ছোট্ট শহরকে পিছু ফেলে ভানুগাছ সড়কে উঠলেই চোখে পড়বে ফিনলের চা-বাগান। চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) ভেতর থেকে দক্ষিণমুখী সড়কটি ধরে এগিয়ে গেলে ফিনলের চা-বাগান, এ ছাড়াও আছে বিটিআরআই-এর নিজস্ব বাগান। ভানুগাছ সড়কের টি-রিসোর্ট ফেলে সামনে দুটি বাঁক ঘুরে হাতের ডানের সড়ক ধরে কয়েক কিলোমিটার গেলেই জেরিন টি-এস্টেট।

14647472_1786264174982444_136800524_o_fotor

লাউয়াছড়ার আগে হাতের ডানে জঙ্গলঘেরা পথটি চলে গেছে নূরজাহান টি-এস্টেটের দিকে। এ পথে দেখা মিলবে আরও বেশ কিছু বাগান। শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। পথের মাঝেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। কমলগঞ্জ থেকে আরও ৫ কিলোমিটার গেলে পাহাড়ঘেরা চা-বাগানের মধ্যে বিশাল মাধবপুর লেক। তবে চা-বাগান দেখতে দেখতেও মাধবপুর যাওয়া যায়। এর জন্য ধরতে হবে নূরজাহান টি-এস্টেটের পথ।

বাহন হিসেবে অবশ্যই জিপ নিতে হবে। মাধবপুর লেক থেকে বের হয়ে প্রধান সড়ক থেকে হাতের ডানের রাস্তা চলে গেছে ধলাই সীমান্তের দিকে। এ পথে সীমান্ত পর্যন্ত সড়কের দুপাশে শুধুই চা-বাগান। সীমান্তে আছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ফাঁড়ি। এর পাশেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। এখান থেকেও চা-বাগান দেখতে দেখতে ভিন্নপথে ফিরতে পারেন। ধলাই সীমান্ত থেকে ফিরতি পথে সামান্য এগিয়ে হাতের বাঁয়ে বেশ পুরনো চা-বাগানের বাংলোর পাশ ঘেঁষা রাস্তা ধরে চললে, চা-বাগানের বাঁকে বাঁকে ফেরা যাবে শ্রীমঙ্গল শহরে।

ভ্রমণশেষে পান করতে পারেন নীলকণ্ঠ কেবিনের সাতরঙা চা। শহরের বিজিবি সদর দপ্তরের পাশেই নীলকণ্ঠের একটি শাখা আছে। প্রয়োজনীয় তথ্য যে কোনো চা-বাগানে প্রবেশের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।