প্রচ্ছদ » উড়াল » ফিচার » তোমায় ভুলি নি এখনো, জন্মদিনের হাজারো শুভেচ্ছা তোমায়

তোমায় ভুলি নি এখনো, জন্মদিনের হাজারো শুভেচ্ছা তোমায়

নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

image_685_200083আমাদের ছেড়ে পরপারে ঘর বেঁধেছেন ২০১২ সালের সেই ১৯ মার্চেই কিন্তু বাংলা সাহিত্যে  যে অসামান্য অবদান রেখে গিয়েছেন তা ভুলে যাওয়া কোনো বাঙ্গালির পক্ষেই সম্ভব নয়।

১৯৪৮ সালের আজকের দিনেই নেত্রকোনার মহাগঞ্জে নানাবাড়িতে জন্ম হয়েছিল তার। বাবা মা দুজনই টুকটাক লেখালেখি করতেন কিন্তু তারাও কি কল্পনা করতে পেরেছিল তাদের সেই ছোট ছেলে একদিন হুমায়ুন আহমেদ হবেন ?

“নন্দিত নরকে” ছিল তার প্রথম প্রকাশিত বই।  বইটি প্রকাশিত হবার পরই সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন তিনি। আর হবেননা বা কেন এতো সাবলীল ভাষায় কে কবে লিখতে পেরেছেন।তারপর ধীরে ধীরে তার পথ চলা। এর মাঝে রচনা করেছেন অসাধারণ কিছু উপন্যাস।

তার উপন্যাসের কল্পিত অন্যতম দুটি চরিত্র হিমু এবং মিসির আলী সবার কাছেই  বেশ জনপ্রিয় । তাই তো  রাতে হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে হিমুর মতো  খালি পায়ে একা একা হাঁটা এখন অনেকের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। তবে শুধু কি উপন্যাস লিখেই খ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি ? কোথায় নেই তাঁর অবদান ?

বাংলা নাটকে ভিন্ন রুপ তো তিনিই এনে দিয়েছিলেন। কে কবে শুনেছে ধারাবাহিক নাটকের একটি চরিত্রের ফাঁসি হবে দেখে রাস্তায় মানুষ নামবে!!! “কোথাও কেউ নেই” নাটকটির মূল চরিত্র ছিলেন “বাকের ভাই” যাতে অভিনয় করেছিলেন আসাদুর জামান নূর। ১৯৯০ সালের বিপুল জনপ্রিয় এই নাটকটিতে শেষ পর্যন্ত  বাকের ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ দেওয়ায় মানুষ রাস্তায় নেমেছিল তার ফাসির আদেশ রুখতে!!! মজার ব্যাপার হলো গল্পের এমন সমাপ্তি দেওয়ায় হুমায়ুন আহমেদের বিরুদ্ধে কেউ কেউ মামলাও করেছিল যেন তিনি তার নাটকের কাহিনী পরিবর্তন করে ফেলে । এছাড়া নানা হুমকিও পেয়েছিলেন তিনি এ কারণে!!! কোথাও কেউ নেই ছাড়াও বহুব্রীহি , এইসব দিনরাত্রি , অয়োময়, আজ রবিবারের মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করে সবার অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন সেই নব্বইয়ের দশকেই। সাধারণ কোনো চরিত্রকে অসাধারণ করে তুলে ধরতে পারার এক জাদুকরি ক্ষমতা ছিল তার মাঝে ।

তবে শুধু উপন্যাস নাটকের মাধ্যমে তাঁর প্রতিভাকে আটকে রাখেন নি তিনি নির্মাণ করেছেন অসাধারণ কিছু চলচিত্র। চলচিত্রে যেসব গান ব্যবহার করেছেন তাও তাঁর নিজেরই সৃষ্টি । আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারি, শ্যামল ছায়া, ঘেটু পুত্র কমলা ছাড়াও আরো বেশ কিছু ছবি দিয়ে তিনি দর্শকদের বাংলা ছবির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন । আজ বেঁচে থাকলে হয়তো  আরো বেশ কিছু অসাধারণ উপন্যাস, নাটক বা ছবি নির্মিত হতে পারতো কিন্তু আমাদের জন্য তিনি যা রেখে গিয়েছেন তাও যুগ যুগ ধরে বাঙ্গালী মনে রাখবে। তার উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালক শাওন বেশ কিছু নাটক, চলচিত্র তৈরী করছেন কিন্তু দুধের স্বাধ কি আর ঘোলে মিটে ?  তার নির্মাণ প্রক্রিয়াই সবার থেকে আলাদা করেছিল তাকে।প্রত্যেকটি কাজই ছিল অত্যন্ত গোছালো।

সর্বশেষ নির্মিত চলচিত্র ঘেটু পুত্র কমলাতেও তিনি তার অসাধারণ নৈপুন্য তুলে ধরেছেন। তাঁর মতো পরিচালক ভবিষ্যতে আদৌ আসবে কি না তার উত্তর জানা নেই তবে তাঁর শুন্যতা কখনোই পূরণ হবার নয় । তিনি হয়তো আমাদের মাঝে স্বশরীরে নেই কিন্তু আমরা যারা পড়তে ভালোবাসি, নাটক বা চলচিত্র ভালোবাসি, গুনগুন করে গান গাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের মাঝে আজীবন তিনি হৃদয়ের একটি বিশাল জায়গা জুড়ে অবস্থান করবেন। আজ এই বীরপুরুষের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী। তাঁর এই জন্মদিনে কিভাবে উদযাপন করলে তাঁকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করা হবে তা ঠিক জানা নেই কেননা তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র । তিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন এবং থাকবেন সবসময়।

স্যার শুভ জন্মদিন, আপনার প্রতি বাঙ্গালীর ভালোবাসা আজীবন থাকবে।   

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।