প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » আজ বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস

আজ বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস

খাতুনে জান্নাত, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

আজ বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস। প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বরে সারাবিশ্বে একসঙ্গে দিবসটি পালিত হয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহযোগিতা প্রদর্শন ও তাদের কর্মকান্ডের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই দিবসটির সূচনা।

প্রতিবন্ধী কারাঃ প্রতিবন্ধী- এই শব্দটার সাথে আমরা সবাই খুব ভালোভাবেই পরিচিত। সাধারণত শারীরিক বা মানসিকভাবে সাধারণ মানুষের মতো কিছু কাজ করতে অক্ষম হয় প্রতিবন্ধীরা। ইমপেয়ারমেন্টের কারণে এ কাজগুলো করতে অক্ষম হয় তারা। ইমপেয়ারমেন্ট বলতে দেহের কোন অংশ বা তন্ত্র যদি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে, ক্ষণস্থায়ী বা চিরস্থায়ীভাবে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়-সে অবস্থাকে বোঝায়।

প্রকারভেদঃ প্রতিবন্ধী বিভিন্ন রকমের হতে পারে। এখন পর্যন্ত মোট ২০ রকমের প্রতিবন্ধী শনাক্ত করা গিয়েছে। এর মধ্য দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শ্রবণ প্রতিবন্ধী, বাক প্রতিবন্ধী, মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী উল্লেখযোগ্য।

বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসের ইতিহাসঃ বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালনের ইতিহাসের পেছনে লুকিয়ে আছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। ১৯৫৮ সালের মার্চ মাসে বেলজিয়ামে এক সাংঘাতিক খনি দূর্ঘটনা হয়। সেই দূর্ঘটনায় বহু মানুষ মারা যায়। আহত পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ সারাজীবনেরর মতো প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বেশ কিছু সামাজিক সংস্থা এগিয়ে আসে। এর পরের বছর জুরিখে বিশ্বের বহু সংগঠন সম্মিলিতভাবে এক সম্মেলন করে। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিবন্ধী কল্যাণে বেশকিছু প্রস্তাব ও কর্মসূচী গৃহীত হয় এবং খনি দূর্ঘটনায় আহত প্রতিবন্ধীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রতিবন্ধী দিবস পালন করতে আহ্বান জানানো হয়। সেই আহ্বানের ভিত্তিতে ১৯৯২ সাল থেকে দিবসটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সারাবিশ্বে পালিত হয়ে আসছে।

প্রতিবন্ধী মানুষকে শুধু শারীরিকভাবেই নয়, সামাজিকভাবেও অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। সমাজের অনেক মানুষই তাদের প্রতি সহমর্মিতামূলক আচরণ প্রদর্শন করেন না। ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়ে। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে অনেক সময় তাদের শিক্ষা এবং কর্মজীবন বাধাগ্রস্থ হয়। অনেকেই মনে করেন প্রতিবন্ধীরা স্বাভাবিক মানুষের মতো কোন কাজই করতে পারে না। তবে তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত করে অনেক প্রতিবন্ধীই পূর্বে এবং বর্তমানে শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে নিজের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন। তাদের মধ্যে শ্রবণ,বাক এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হেলেন কেলার উল্লেখযোগ্য। তিনি তার কর্মের মাধ্যমে আজও স্বরণীয় হয়ে আছেন।

প্রতিবন্ধীরাও পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে না পারলেও অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে। দরকার শুধু আমাদের একটু সহযোগিতা। এই কথাটি সবার মাঝে পৌঁছে দিতেই পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসটি।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।