প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কথা » ওদের হাসি-কান্নাময় জীবন

ওদের হাসি-কান্নাময় জীবন

 নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

প্রাণবন্ত এই হাসিমাখা মুখগুলো দেখলে কেউ কি বলতে পারবে ওদের  একেকটি দিন পাড়ি দিতে হয় অবর্ণনীয় কষ্টের সঙ্গে সংগ্রাম করে। দিনে দুবেলা দু মুঠো ভাত কপালে জুটবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই জেনেও তারা হাসি মুখে একের পর এক দিন পার করে যাচ্ছে। যে বয়সে একটি শিশুর পরিপূর্ণভাবে বেড়ে ওঠার কথা সে সময় তাদের মাথার উপরে আকাশের চাঁদ দেখেই রাত্রি পার করে দিতে হচ্ছে।  হ্যা, কথা বলছি সেইসব শিশুদের কথা যাদেরকে আমরা সুবিধাবঞ্চিত শিশু বলে অবজ্ঞা করে আসছি।

একটি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য চাই খাদ্যের অভাব পূরণ, একটি সুস্থ পরিবেশে মাথা গোজার ঠাই, শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিনোদনের ব্যবস্থা , বন্ধুদের সাথে মিশতে শেখা। তাছাড়া শিশুদের পূর্নাংগ বিকাশের জন্য চাই একজন সচেতন অভিভাবক যিনি শিশুকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখনো বাংলাদেশে ৪৫ শতাংশ শিশু দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। তাই দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থিত শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরন এখনো স্বপ্নই থেকে গেছে আর যোগ্য নাগরিক হয়ে বেড়ে ওঠার কথা তাই ওই কথাতেই শেষ হয়ে যায়। বরং অন্নের ব্যবস্থা করতে গিয়ে শিশু বয়সেই বেছে নিতে হচ্ছে তাদের কর্মসংস্থান।

এতো দুঃখ কষ্টে বড় হলেও তারা হাসতে ভুলে যায় নি। অবাককরা হলেও সত্যি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম হাসি এই শিশুদের মুখেই খেলা করে।

সামান্য আনন্দেই ওরা ভুলে যেতে পারে সকল দুঃখ, কষ্ট।

“আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ” কথাটি আমাদের সবারই জানা কিন্তু যে জাতির প্রায় ৫০ ভাগ শিশু তাদের মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ কার কাছে রেখে যাচ্ছি তা সত্যি প্রশ্নবিদ্ধ।

সুন্দর জাতি গড়তে চাই শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ। আর আমরা তাই আর একটি শিশুকেও দেখতে চাই না রাস্তা কিংবা রেলস্টেশনে রাত্রি যাপন । দেখতে চাই না শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাক।আর এজন্য  সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।

মনে রাখতে হবে এ দেশ শুধু সরকারের একার না সকল জনগণেরও। তাই দেশের সমস্যাকে নিজের ভেবে কাজ করাটাই প্রকৃত দেশপ্রেমিকের লক্ষণ।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।