প্রচ্ছদ » অনিয়ম » অন্যের বাজার টেনে পেট চলে রাজুদের

অন্যের বাজার টেনে পেট চলে রাজুদের

 ইফতেখার তাসনিম , বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

ছবিঃ ইফতেখার তাসনিম

রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন একটি বাজার।  ক্যান্টনমেন্ট ও আশেপাশের এলাকার জনগন নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিস এখান থেকেই সংগ্রহ করে। এখানে আসলেই দেখা মিলবে ৯-১০ বছর বয়সী শিশু কুলি। মানুষের কেনা জিনিস বহন করেই তাদের পেট চলে।

আজ কথা বললাম ১০ বছর বয়সী শিশু রাজুর সাথে । সে গত ২ বছর ধরে এখানে কুলিগিরি করে।  তার পরিবারে মা-বাবা ও তিন ভাই বোনের মধ্যে সে ২য়। বাবা রিক্সা চালায়, বাবার একার ইনকামের টাকা দিয়ে সংসার চলে না তাই তাকে বাধ্য হয়ে এই পেশায় আসতে হয়েছে।

রাজু বলে ” আমরা ছোডো তাই আমাগোরে মাইনষে বেশি ট্যাকা দেয় না ।” । ভারী মাল কিভাবে টানে এই প্রশ্ন করলে রাজু মৃদু হাসি দিয়ে বলে ” বেশী ওজনের বাজার টানা অনেক কষ্ট , কিন্তু কি করুম না টানলে ট্যাকা কে দিব?”

পড়ালেখার কথা জিজ্ঞাসা করলে বলল-” আগে ইশকুলে এ যাইতাম এখন আর যাই না।”

রাজু ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। সে নিজের নাম পরিচয় লিখতে পারে। স্কুলে যাওয়া কেন বন্ধ করেছ এমন প্রশ্নে রাজু বলে – “ ট্যাকা নাই তাই পড়তে পারি না।”

রাজুর পড়ালেখা করার খুব ইচ্ছা।  কুলির কাজ সে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত করে, তার প্রতিদিন এর ইনকাম ২০০- ২৫০ টাকা। মাঝে মাঝে সে তার প্রাপ্প মজুরির থেকে কম টাকা পায়। অনেক সময় কেউ কেউ খারাপ ব্যবহার করে তাদের সাথে।

এভাবেই তার দিন চলে যায়।  রাজুর সাথে কথা বলার সময় তার কিছু বন্ধুরা পাশে এসে দাঁড়াল । তারা ও কুলির কাজ করে। তাদের অবস্থা ও রাজুর রাজুর মতই । রাজু এদের প্রতিচ্ছবি মাত্র ।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।