প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » আজ শুভ বড়দিন

আজ শুভ বড়দিন

 মেহেদী হাসান রুমি, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

আজ শুভ বড়দিন। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ এটি। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরে এই দিনে খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট জন্মগ্রহণ করেন। ।  খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, সৃষ্টি-কর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে প্রভু যিশুর এ ধরায় আগমন ঘটেছিল।

সারা বিশ্বের যিশুর অনুসারীদের মতো বাংলাদেেশও আজ খ্রিষ্টান সম্প্রদায় আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বড়দিনের উৎসব উদ্যাপন করবেন।
বড়দিন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে জমকালো সজ্জায়। যিশুর জন্ম হয়েছিল গোয়ালঘরে। সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে বড়দিনে গির্জাগুলোতে প্রতীকী গোয়ালঘর তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি। অনেকে তাঁদের বাড়িতেও গোয়ালঘর সাজান। রাজধানীর পাঁচতারা হোটেলগুলোতেও সান্তা ক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি, আলোকসজ্জায় বড়দিনের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। গির্জাগুলোতে হবে বিশেষ প্রার্থনা। থাকবে ধর্মীয় গান। বাড়িতে বাড়িতে তৈরি করা হবে কেক, পিঠাসহ সুস্বাদু খাবার। আপ্যায়ন করা হবে অতিথিদের। আজ সরকারি ছুটির দিন।

তবে ধর্মীয় এ উৎসবটি এবার বাংলাদেশে অন্যান্য বছরের চেয়ে ভিন্নমাত্রায় এবং আরো জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে। কারণ, এই প্রথম কোন বাঙালী কার্ডিনাল নির্বাচিত হয়েছেন।  বাঙালী হিসেবে আগে এমন গৌরব আর কখনো আসেনি বলে গির্জা সূত্রে জানা গেছে। সারাবিশ্বে মাত্র ১২১ জন কার্ডিনাল রয়েছেন। যারা পোপ হিসেবে প্রার্থী হতে পারবেন, আবার পোপ নির্বাচনের জন্য ভোট দিতে পারবেন। সেই ভোটদানের অধিকারটা আজকে একজন বাঙালি অর্জন করেছেন। কাজেই শুধু খ্রিস্টান সম্প্রদায় নয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র বাঙালি জাতি আজকে খুবই আনন্দিত এ অর্জনে। তাই অন্যান্যবারের মতো এবার এ উৎসব হবে আরো সার্বজনীন।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ সম্প্রীতি আমাদের আবহমান কাল ধরে। এখানে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। দেশে বিদ্যমান সম্প্রীতির এই সুমহান ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে”।

বড়দিন দেশের খ্রিষ্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিরাজমান সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর বাণীতে বলেন, “আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমানাধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে রয়েছে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা”।

উৎসব উদযাপন উপলক্ষে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রীতি পরিষদ,সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্যে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে।।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।