প্রচ্ছদ » উড়াল » তারুণ্য » কেমন কাটে তরুনদের ক্রিসমাস??

কেমন কাটে তরুনদের ক্রিসমাস??

  এম আর মুগ্ধ, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম দিন আজ। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনেই পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন যীশু খ্রিষ্ট। যীশু খ্রিষ্টের জন্মদিন কে ঘিরে আনন্দের মহোৎসব এ মেতে ওঠে প্রতিটি বিশ্বাসী প্রাণ। সকল দুঃখ কষ্ট, মান- অভিমান ভুলে সবাই নতুন করে মায়ার পথে অগ্রসর হয়। এমনই উৎযাপন এর মুহুর্তে উৎযাপনরত কিছু তরুনের কথা শুনবো যারা বাংলা ইনিশিয়েটরকে জানিয়েছে নিজেদের অনুভূতি।

তন্নি রোজারিও,

ফার্মাসিটি বিভাগ, স্টেট ইউনিভারসিটি

ক্রিস্টমাস মানেই আনন্দ। পরিবার আত্নীয়স্বজন সবার সাথে মিলিত হওয়ার দিন। আগের সকল মন কষাকষি ভুলে গিয়ে সবাই মিলে আনন্দ করার দিন। আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি ২৫ ডিসেম্বর এই দিনটার জন্য। এইদিনে  বাড়িঘর পরিষ্কার করি, সুন্দর করে সাজাই, নতুন কাপড় পড়ি, শীতের পিঠা খাই আর আমাদের কীর্তন। আর হ্যা, সবার জন্য ছোট খাটো উপহার দেওয়া নেওয়া করি।

নিপুণ দারু

নৃত্যশিল্পী

দিনটা আমার জন্য এবং আমাদের জন্য অনেক খুশীর, অনেক আনন্দের। এই দিনেই আমাদের প্রভু যীশু খ্রিষ্ট নিয়েছে আমাদের পাপ মুক্তির পথ দেখানোর জন্য। তাই খুশীর মাত্রাও বেশি। দিনটাকে বরণ করে নেয়ার জন্য নতুন জামা পড়ি। বিশেষ করে খাবারের আয়জন করি। বন্ধুবান্ধব দের নিমন্ত্রণ জানাই, কেউ নিমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। দিনটার জন্য এক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নেই, কিভাবে কি করবো, কিভাবে কি সাজাবো, কোন জামা পড়বো, কাকে কোন উপহার দিবো। আর দিন শেষে রাতে সবাই এক হয়ে কীর্তন করি।

 

প্রিয়ানা গমেজ,
দ্বাদশ শ্রেণী
ক্রিস্টমাস হচ্ছে সবার সাথে আবারো এক হওয়ার আরেকটা বিশেষ সময়। কারো সাথে কোনো মনমালিন্য থাকলে সমস্ত কিছু ভুলে গিয়ে পবিত্র মনে সামনে এগিয়ে চলার দিন। যীশু খ্রিষ্টের জন্ম হয়েছে আমাদের এক করার জন্য। তাই আমরাও এই দিন টাতে সব কিছু ভুলে গিয়ে, সব দোষ ক্ষমা করে সব কিছু নতুন করে শুরু করি। এইদিনে পরিবার আর বন্ধুবান্ধব সবাই মিলে নিজেদের চাওয়া পাওয়া গুলো শেয়ার করি। অনেক বেশি ঘুরাঘুরি করি, চার্চে যাই আর নতুন জামা কাপড় তো আছেই। ও হ্যা, সেলফি তুলতেও ভুলি না। প্রস্ততি বলতে আমি নিজে থেকে তেমন একটা কিছু না করলেও আমার মা সবটা সেরে নেন। আমি শুধু শপিং করি, আর ঘর সাজানোতে কিছুটা সাহায্য করি। চার্চে গিয়ে পাপ স্বীকার করি, ক্রিস্টমাসের আগে আমাদের সব পাপ ক্ষমা হয়ে যায়, যেন দিনটা পবিত্র মনে পালন করতে পারি।

 

রোজলিন স্ক্যলি হালদার,

দ্বাদশ শ্রেণী,হলিক্রস কলেজ

খ্রিষ্টধর্মে ক্রিস্টমাস বা বড়দিন হল যিশুর জন্মোৎসব। মহাপবিত্র এই দিন। ক্রিস্টমাসে আমার বেস্ট অনুভূতি হলো ফ্যামিলিতে যত যা আছে ক্রিস্টমাসে সবাই সব ভুলে যাই। শুধু আমাদের জন্য না, এইদিনে সবাই ই সব ভুলে যায় আর নতুন করে সব শুরু করে। জেসাস জন্মের পর যেমন নিষ্পাপ থাকে তেমনি সবাই একটা নিষ্পাপ শিশু মনে সব নতুন করে শুরু করে। আর নতুন বছরের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার জন্য এই দিন টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পিঠা কেক বানানোর খুবই ধুম পরে যায়। আমাদের গ্রামের চারপাশে কেক পিঠার সুগন্ধে ভরে যায়। আর সব ঘরে পিঠা বানায়। এই দিনটাতে আমি ভোর ৫ টা নাগাদ রেডি হওয়া শুরু করি। তারপর সাড়ে ৬'টায় রেডি চার্চে যাই, অনেক বেশি মজা করি। আমাদের গ্রামের ক্রিস্টমাস কারল এতটা জনপ্রিয় যে, আমি মনে করি এত সুন্দর আর বড় ক্রিস্টমাস কারল বাংলাদেশের আর কোথাও হয় না। চার্চ থেকে বের হয়ে বিভিন্ন আত্নীয় স্বজনদের বাড়িতে যাই। সবার আশীর্বাদ নেই আর ভালো চাই। সেলফি তো আছেই।

 

প্রিয় গমেজ

দ্বাদশ শ্রেণী, নর্দান কলেজ
যীশুর আগমনের জন্য সবাই অপেক্ষা করে থাকে। অনেক ধরনের পিঠা বানায়। বিশেষ করে আকর্ষণীয় কেক। সবাই কে উইশ করি আর বন্ধুবান্ধব আর পরিবারের সাথে মিলে আন্দের সাথে দিনটা পালন করি। আর সব খারাপ ভুলে গিয়ে জীবন গুলো নতুন করে শুরু করা দিনটার অন্যতম কাজ। সবারই ইচ্ছা থাকে এই দিনে নতুন জামা কেনার। শপিং করে আর নতুন জামাও পরে। ক্রিস্টমাসে সবাইকে উপহার দেই। পরিবারের বড়রা ছোটদের সারপ্রাইজ গিফট দেয়। আর যীশুর আগমনকে কেন্দ্র করে সবাই বাড়ি ঘর নতুন করে সাজায়।

হেনরি ত্রিপুরা

দ্বাদশ শ্রেণী, হলিক্রস কলেজ

আমার কাছে ক্রিস্টমাস মানে এই মাসে মনটাকে পরিষ্কার করা আর নতুন পোশাক কেনার এবং পরিধান করার মতই নতুন মন তৈরী করা। নিজের জন্য, বিশেষ করে অন্যের জন্য প্রার্থনা করা, অন্যের মঙ্গল চাওয়া। কারো সাথে শত্রুটা থাকলে তা মিটিয়ে নেয়া। বড় দিন পালন করার জন্য শহর থেকে গ্রামে ছুটে আসি, আর বড় দিনের আগের দিন গুলোতে ছটফট করতে থাকি, কত দিনে গ্রামে যাবো। আর দিনটাতে আমার কর্মকান্ড হলো খাওয়া দাওয়া আর ঘুরাঘুরি করা।

 

স্টেলা আদৃতা গমেজ,

দ্বাদশ শ্রেণী,সেন্ট ইঊফ্রেজীস গার্লস কলেজ

আমার কাছে ক্রিস্টমাস অনেক আনন্দের। সারা বছর এই দিনটার অপেক্ষায় থাকি। আজ যীশু খ্রিষ্টের জন্মদিন। তিনি আমাদের পাপ থেকে মুক্তির তথা পূণ্যের পথ দেখিয়েছেন। আর তার জন্মদিন অবশ্যই মহা পবিত্র। বড়দিনের জন্য আমি অনেক বেশি কেনাকাটা করি। উপহার কিনি সবার জন্য। আমাদের ঘরটা খুব সুন্দর করে সাজাই। দিনটাতে মোটামুটি সব আত্নীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবদের সাথে দেখা হয়, কুশল বিনিময়। খাবার তালিকা বেশ উন্নত থাকে থাকে এইদিনটাতে। এর মাঝে কেক আর পিঠা লোভনীয়।

মেরি অতসী গমেজ,

দ্বাদশ শ্রেণী, সেন্ট ইঊফ্রেজীস গার্লস কলেজ

পৃথিবী থেকে পাপ মুছে দিয়ে পুণ্যের বাহক হয়ে এই দিনে আগমন করেছিলেন জেসাস। তার আগমনী দিন টাকে আমরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে সারাদিন মহোৎসব এর সাথে পালন করি। অনেক অপেক্ষায় থাকি দিনটার জন্য। অনেক মজা করি, ছবি তুলি, নতুন জামা আর আকর্ষণীয় ভাবে গোশালা সাজাই। পরিবারের সবার একসাথে বসে খাওয়া দাওয়ার মুহূর্ত টা সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য।

 

ডেভিভ গমেজ

দ্বাদশ শ্রেণী, নটরডেম কলেজ

আমার কাছে ক্রিস্টমাস হলো মানুষের মাঝে মানুষের ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, দুঃখকে ভুলে গিয়ে সুখকে বরণ করে নেয়া। এই দিনের জন্য আগে থেকেই সবাই শপিং সেরে রাখে, ঘর বাড়ি সাজায়, কেক-পীঠা তৈরীতে ব্যস্ত থাকে। অন্তত পক্ষে এই দিনটা হলো যীশু খ্রিষ্ট কে বরণ করে নেয়ার দিন।
>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।