প্রচ্ছদ » অনিয়ম » অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে খাবার

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে খাবার

 মেহেদী হাসান রুমি, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

মেঘনা বেকারি এন্ড ফুড প্রোডাক্টস। রাজধানীর সুপরিচিত বেকারি গুলোর মধ্যে একটি। এই বেকারিতে তৈরী হয়  বিভিন্ন ধরনের রুটি, বিস্কুট, কেক, ড্যানিস, নুডুলস, সেমাই, চানাচুরসহ শিশুদের জন্য ফাস্টফুডের খাবার। কিন্তু ছবি হতেই দেখা যাচ্ছে এই বেকারির পরিবেশ কতটা অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা।

রাজধানী সহ দেশের অনেক আনাচেকানাচে রয়েছে এমন বেকারি। বেকারিগুলোতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন ধরণের খাবার তৈরি হচ্ছে। এ খাবার খেয়ে শিশুসহ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে চলেছে, যা দেখারও কেউ নেই বলে অভিযোগ জনসাধারণের। এসকল অস্বাস্থকর পরিবেশে তৈরীকৃত খাবার খেয়ে শিশু সহ নানা বয়সের জনসাধারণ আক্রান্ত হচ্ছে পেটের পীড়া সহ বড় ধরনের রোগে।

নগরীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য বেকারি। এসকল বেকারিতে তৈরিকৃত খাবার আকর্ষণীয় মোড়কে বাজারজাত করছে বেকারি মালিকরা। কিন্তু এসব খাবার তৈরি করা হয় অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে।

ছবিঃ রুমী

কারিগরদেরকে খালি হাতে নোংরা পোশাক পড়েই কাজ করতে দেখা গেছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী তাদের হাতে গ্লাবস ও মুখে মাস্ক পড়ার কথা। তাছাড়া খাবার প্রস্তুতের জন্য নেই কোনো স্বাস্থ্যসম্মত টেবিল বা স্থান। বেকারির ভেতরের পরিবেশ ভীষণ উত্তপ্ত হওয়ায় গরমে কারিগরদের শরীরের ঘাম মিশে যাচ্ছে খাদ্যদ্রব্যের সাথে।

আবার স্বল্প খরচ বাঁচাতে গিয়ে কিছু শিশুদেরকেও শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বেশ কিছু কারখানায়। এর ফলে শিশু শ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি কিছু বেকারিতে সরকারি অনুমোদন না থাকায় সরকারি ফিও দেন না কারখানা মালিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ বেকারিতে পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। নেই বিএসটিআই’র অনুমতি এমনকি নেই বিসিসি’র ট্রেড লাইসেন্সও। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বেকারি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা।

নিয়ম অনুসারে বেকারিতে তৈরিকৃত পণ্যে মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক সত্ত্বেও কোন পণ্যের নেই নির্দিষ্ট মেয়াদের তারিখ। এসকল মেয়াদহীন খাবার খুব সহজেই জনসাধারণের মাঝে চলে আসে। বিশেষকরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষগুলো এসব খাবারের উপর বেশি নিভরশীল হয়ে থাকে।

তাই সকল জনসাধারণের এখন একটাই দাবী, এসকল অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর নজরদারী ও ভোক্তা অধিকার আইনের মাধ্যমে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।