প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ১০২ তম জন্মদিন আজ

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ১০২ তম জন্মদিন আজ

 খাতুনে জান্নাত । বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা
১৯১৪ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর ময়মনসিংহের (বর্তমানে কিশোরগঞ্জ) কেন্দুয়ায় সাধারণ পরিবারে জন্মানো ছেলেটা হয়তো সাধারণ কোন মানুষই হতো। তবে আশেপাশের সবাইকে ছাড়িয়ে সাধারণের গন্ডি থেকে বেরিয়ে সে অসাধারণ হয়ে উঠতে পেরেছে শুধুমাত্র নিজের শিল্পগুণ আর চেষ্টার কারনে। ছেলেটা জয়নুল আবেদীন, যাকে ভালোবেসে এবং শ্রদ্ধাভরে আমরা বলি শিল্পাচার্য।

 

জয়নুল আবেদীনের বাবা তমিজউদ্দীন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা। মা জয়নাবুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী। নয় ভাই-বোনের সংসারে জয়নুলই ছিলেন সবার বড়। তার পড়শোনার হাতেখড়ি পরিবারেরর কাছ থেকেই। তবে পড়াশোনার চেয়ে তার আঁকাআঁকিতে ঝোঁকটা ছিল বেশি। বই-খাতা সবকিছুতেই তিনি ছবি আঁকতেন। ছবি এঁকে এঁকে মা-বাবাকে দেখাতেন তিনি। শিল্পের প্রতি তার এ গভীর ভালোবাসা এবং আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ কারণে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতা গিয়েছিলেন শুধুমাত্র গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখার জন্য। গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখার পর সেখানকার পরিবেশ এবং সেখানকার পড়শোনা দেখে তিনি এতটাই মুগ্ধ হয়ে যান যে সাধারণ পড়াশোনায় তার আর মন বসছিল না। তার ছবি আঁকার প্রতি এ আগ্রহ দেখে তার মা তাকে নিজের গলার হার বিক্রি করে কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে ভরতি করান। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই তিনি সেখানে ভর্তি হন।

জয়নুল আবেদীন ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ পর্যন্ত কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে পড়েন। ১৯৩৮ সালে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরপরের গল্প আমাদের সবার জানা। কেন্দুয়ার জয়নুল নামের ছেলেটি ধীরে ধীরে জয়নুল আবেদীন নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। দেশে ও বিদেশে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত হন ১৯৪৩ সালে তার আঁকা ‘দূর্ভিক্ষ’-এর জন্য।

তিনি যে শুধু একজন শিল্পীই ছিলেন তা না, তিনি ছিলেন শিল্পাচার্য। যে কারণে দেশ ভাগ হওয়ার পর তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন পূর্ব বাংলায় একটি শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা। নতুন প্রজন্মের কাছে যদি শিল্পকে গভীরভাবে পৌঁছে দেয়া না যায়, তাহলে একটি শিল্পমনাহীন জাতি তৈরি হবে তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। যে কারণে তিনি শিল্প আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। এবং তারই নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডের ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুলের একটি জীর্ণ বাড়িতে মাত্র ১৮ জন ছাত্র নিয়ে গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউশনের যাত্রা শুরু হয়।  তিনিই ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম শিক্ষক। ১৯৫৬ সালে এটি শাহবাগে স্থানান্তর করা হয়। পরে এর নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়’। তিনি ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিল্পাচার্যের শিল্প এখনও আমাদের মুগ্ধ করে। তার মৃত্যুর ৪০ বছর পর আজও আমরা তাকে শিল্পাচার্য নামেই ডাকি। তার নৌকা, সংগ্রাম, নবান্ন, মনপুরা-৭০, মুক্তিযোদ্ধা ইত্যাদি এখনও অমূল্য সৃষ্টি।

১৯৭৬ সালের ২৮ মে পৃথিবী ছেড়ে তিনি চলে গেছেন। পৃথিবী হারলো এক গুণী শিল্পীকে আর আমরা হারালাম আমাদের শিল্পাচার্যকে। শিল্পাচার্যের ১০২ তম জন্মদিনের তার জন্য রইলো অনেক ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।