প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » সিরিজ নিজেদের করে নিল কিউইরা

সিরিজ নিজেদের করে নিল কিউইরা

 নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব। বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

ছবিঃ এ এফ পি

টসভাগ্যটা সবসময়ই মাসরাফির খারাপ। তবে কিউইদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসটি গেল টাইগারদেরই অনুকূলে। টসে জয় লাভটা বেশ জরুরীই ছিল বটে। কেননা এ ম্যাচ হেরে গেলে যে সিরিজ ছিটকে যাবে হাত থেকে। তাই সিরিজ বাঁচাতে হলে ম্যাচটি জিততেই হবে টাইগারদের। কিন্তু টস জিতেও ফলাফল নিজেদের অনুকূলে আনতে ব্যর্থ বাংলাদেশ ।

৬৭ রানের ব্যবধানে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মাসরাফিবাহিনীকে। টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যটিং করতে পাঠায় মাসরাফিরা। মাসরাফি কেন উইলিয়ামসন জিতলেও ফিল্ডিঙ্গের স্বিদ্ধান্তই নিতেন সম্ভবত। কেননা এ পর্যন্ত নেলসনে মোট ৫টি ম্যাচ হয়েছে যার ৪ টি ম্যাচই জিতেছে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করা দল। গত বিশ্বকাপের কথা নিশ্চয় এতো তাড়াতাড়ি ভুলে যাবে না টাইগাররা। স্কটল্যান্ডের পাহাড় সমান টার্গেট(৩১৮) টপকে ম্যাচটি লুফে নিয়েছিল এই মাঠেই।গতকালের ম্যাচে মুশফিক ইনিজুরড হওয়ায় আজ তার বদলে আজ দলে অভিষেক হয়েছে নুরুল হাসানের। অন্যদিকে সৌম্য সরকার এবং মুস্তাফিজের পরিবর্তে আজ আরো নতুন দুজনের অভিষেক হয়েছে। শুভাশিস রয় , আর তানভীর হায়দারের অভিষেক হলেও বেশ পরিনত বোলারের মতোই বোলিং করেছেন তরুন দুই উদীয়মান খেলোয়াড়।

ম্যাচের বয়স যখন মাত্র চার বল তখন মাসরাফি গাপটিলকে এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরত পাঠান। শুন্য রানে গাপটিল আউট হয়ে গেলে কিছুটা সতর্কই থাকতে হয়েছিল কিউইদেরকে। আগের ম্যাচের নায়ক টম ল্যাথামকে সঙ্গে নিয়ে কিছুদূর আগানোর পর তাতে আঘাত হানে স্পিড মাস্টার তাসকিন আহমেদ। দলীয় ৩৭ রানে তাসকিন আহমেদের বলে সাকিবের হাতে ক্যাচ নিয়ে উইলিয়ামসনকে বাড়ির পথ দেখান তাসকিন। উইলিয়ামসনকে ফিরিয়ে দিতেই সাকিব তার ঘূর্নি জাদুতে এলবিডব্লিউ করে দেয় ল্যাথামকে। এরপর নিজেদের গুছিয়ে নিতে জুটি বাঁধেন জেমস নিশাম এবং কলিন মার্নো। দলীয় ৯৮ রানে তার মাঝে আবার ফাটল ধরায়ে দেয় ডানহাতি অফস্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন।স্টাম্পিং হয়ে ফেরত যেতে হয় নিশামকে। এরপর পুরো ইনিংসটিই নেইল ব্রুমময়। ব্যক্তিগত শতকের পাশাপাশি দলকে নিয়ে যায় একটি সম্মানজনক জায়গায়। নিউজিল্যান্ডদের ২৫১

রানের মধ্যে ১০৯ রানই এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের। ছয় বছর পর আবার ওয়ানডে খেলতে নামলেও এখনো যে ওয়ানডে ভালোভাবেই খেলতে পারেন তা দেখিয়ে দিলেন সবাইকে।

২৫২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে টাইগাররা যেন নেমেছিল আগের ম্যাচের হার পুষিয়ে নিতেই। দলীয় ৩০ রানে তামিম আউট হয়ে গেলেও ১৪ রানের ছোট্ট ইনিংসটিতে ছিল তিনটি চারের মার!! তামিম চলে গেলে সাব্বির আর ইমরুল বেশ শক্ত হাতেই হাল ধরেছিল।। গড়ে তুলেছিল ৭১ রানের বেশ ভালো একটি পার্টানারশিপ। কিন্তু এক ভুল বোঝাবোঝি সব নষ্ট করে দিল। নিজেদের ভুলে রান আউট হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে সাব্বিরকে। এরপরই শুরু হয় ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার পালা। সাব্বিরের পর একে একে মাহমুদুল্লাহ, সাকিব, মোসাদ্দেক, ইমরুলরাও আউট হয়ে যায় অল্প কিছু সময়েই। এরপর আর কোনো অবিশ্মাস্য কিছু হয় নি যা বাংলাদেশকে সে জায়গা থেকে টেনে তুলতে পারে। তাই মেনে নিতে হয় ৬৭ রানের পরাজয়। আগামী ৩১ তারিখ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে যদি একটি শান্তনার জয় তুলে নিতে পারে তাও কিছু প্রাপ্তি ঝুলিতে জমা হবে টাইগারদের।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।