প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » দীর্ঘদিন পর হোয়াইটওয়াশের স্বাদ নিল বাংলাদেশ!

দীর্ঘদিন পর হোয়াইটওয়াশের স্বাদ নিল বাংলাদেশ!

 নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

ইমরুল কায়েস ক্যাচ ছাড়ার পর হতাশ উইকেটকিপার নুরুল হাসান

ম্যাচটি জিতলেও সিরিজ জেতা হতো না তবে স্বস্তির নিশ্বাস নেওয়ার একটা সুযোগ থাকতো। তবে সেটিও কেড়ে নিল কিউইরা। সবগুলো ম্যাচ জিততে চাওয়াটাই খুব স্বাভাবিক। কেননা তাদের নিশ্চই ২০১০ আর ২০১৩ সালের কথা মনে আছে। দেশের মাটিতে স্বাগতিকরাও তাই ছাড় দিবে কেন? তাই তো ২৩৭ রানের টার্গেটকে একেবারেই মামুলি টার্গেট বানিয়ে আট উইকেটের জয় ছিনিয়ে নিল কিউইরা।

তৃতীয় ম্যাচেও মাসরাফি টসে জয় লাভ করেছে ঠিকই কিন্তু যেখানে জয়লাভ একেবারে জরুরী হয়ে পরেছিল সেখানেই হেরে গেল টাইগার ক্যাপ্টেন মাসরাফি। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়মিত বাজে পারফরম্যান্স , সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে বড় কোনো স্কোর করতে না পারায় তৃতীয় ম্যাচটিকে একেবারে নিজের মতো করে খেলতে চেয়েছিলেন বোধ হয় টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। ব্যক্তিগত শতরান না করতে পারলেও অর্ধশত পূরন করতে কোনো ভুল করেননি বামহাতি ওপেনার। তামিম ইকবালের সাথে যোগ্য সঙ্গও দিয়েছিলেন অপর প্রান্তে থাকা ইমরুল কায়েস। ইনিংসের শুরুটা ছিল একেবারে টাইগারদের মমমতো। একের পর এক সাবলীল শট খেলে কিউই বোলারদের নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছিল এই দু ওপেনার। বিনা উইকেটেই দলীয় শতরান পূর্ন করে ফেলে বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরেই ঘটে অঘটন।স্যান্টনারের বলে ইমরুল উড়িয়ে মেরেছিল ঠিকই কিন্তু নেইল ব্রুমের দারূন এক ক্যাচে অর্ধশত না করতে পারার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০২ রানে প্রথম উইকেটের পতনের পর টাইগাররা হঠাৎ করেই তালছাড়া হয়ে যায়।

সাব্বির, মাহমুদুল্লাহ, সাকিব, তামিম, মোসাদ্দেক, তানভীর সবাই তাদের উইকেটটি এক প্রকার বিলিয়েই দিয়ে এসেছিল যেন। তবে আউট হওয়ার আগে তামিম ইকবাল করেছিল ৫৯ রান। তানভীর হায়দারের আউটের পর দলীয় রান গিয়ে দাড়ায় ১৭৯। আর এই রান তুলতে খোয়াতে হয় সাত সাতটি উইকেট!!

দলীয়ভাবে দুইশত রান ছোঁয়া যখন প্রায় অসম্ভবে পরিনত হওয়ার ইশারা দিচ্ছিল তখন ক্রিজে থাকা নুরুল হাসানের সাথে দলকে টেনে তুলতে টাইগার ক্যাপ্টেন মাসরাফি নামেন মাঠে। শেষের দিকে এসে এই জুটিটিই বাংলাদেশকে আশার বাতি দেখাচ্ছিল। দুজন মিলে দলীয় রানকে দুইশত এর কোটায় নিয়ে যায়। তবে ৩৩ রানের পার্টনারশিপে গিয়ে থামতে হয় তাদের। মাসরাফির লফটেড একটি শটকে বাউন্ডারি লাইন থেকে ক্যাচে পরিনত করে জিতান প্যাটেল। তবে মাসরাফিকে হারিয়ে নুরুল হাসান দলে যায় নি লড়াই করে গিয়েছেন শেষ পর্যন্ত। তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়েই দলকে ২৩৬ রানের পুঁজি এনে দেয় এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। ৫০ তম ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে যাওয়ার আগে তরুন এই উদীয়মান খেলোয়াড় ৩৯ বলে ৪৪ রানের এক মূল্যবান ইনিংস খেলে গিয়েছেন।

২৩৭ রানের টার্গেটটি যে একেবারেই নিরাপদ না নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তা সবারই জানা। কেননা নেলসনেই গত ম্যাচে টাইগারদের বিরুদ্ধে কিউইরা করেছিল ২৫২ রান। তাই ২৩৭ রান যে কিউইদের সামনে নিতান্তই ক্ষীণ টার্গেট তা বলাই বাহুল্য।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ওভার থেকেই মাসরাফিরা দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে চেপে ধরে। আর প্রতিফলন হিসেবে দলের দ্বিতীয় ওভারে এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে ফেলে টম ল্যাথামকে ড্রেসিং রুমের টিকেট ধরিয়ে দেয় কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। খেলার বয়স যখন দুই ওভার চার বল তখন হার্মস্ট্রিঙ্গের ব্যথা তীব্র অনুভব করায় মাঠ ছেড়ে বিশ্রামে যায় গাপটিল। গাপটিল চলে গেলে মাঠে আসে নেইল ব্রুম। ম্যাচটি নিজেদের করে নিতে ব্রুম আর উইলিয়ামসন একাই খেলে যান। দুর্দান্ত কিছু শটের মাধ্যমে ২৩৭ রানের টার্গেটকে একেবারেই নস্যি বানিয়ে ফেলেন এই দুজন।তবে ব্যক্তিগত ৯৭ রানে মুস্তাফিজের বলে মাসরাফির হাতে ধরা পরে শতক থেকে বঞ্চিত হতে হয় নেইল  ব্রুমকে । এতে অবশ্য কোনো প্রভাবই ফেলে নি দলে । কেননা ইতিমধ্যেই জয়ের বীজ বুনে দিয়েছিলেন তিনি। আর অন্য প্রান্ত আগলে রেখে কেইন উইলিয়ামসন ছিলেন ভরসা হয়ে। ব্যক্তিগত শতক না করলেও ৯৫ রানে অপরাজিত এক ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গিয়েছেন। আর তাই দিন শেষে আট উইকেটের বিশাল জয় নিয়েই ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে নিউজিল্যান্ড।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।