প্রচ্ছদ » উড়াল » তারুণ্য » মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলা ইনিশিয়েটরের ‘ইতিহাসের জলসা’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলা ইনিশিয়েটরের ‘ইতিহাসের জলসা’

 খাতুনে জান্নাত । বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

৩১ ডিসেম্বর ২০১৬। ইংরেজি বছরের শেষ দিন। আর কয়েক ঘন্টা পরেই আসবে নতুন বছর – ২০১৭। নতুন বছরকে বরণ করার জন্য পুরো দেশ মেতেছে উৎসবে। চলছে বছরকে জাঁকজমকভাবে পালনের প্রস্তুতি। এর মধ্যেই মিরপুরের জল্লাদখানা বধ্যভূমিতে দেখা গেল কিছু কিশোর-তরুণকে। ব্যস্তভাবে ছোটাছুটি করছে তারা। যেন কোনকিছুর আয়োজন করছে।

ঘটনাটা বোঝা গেল একটু পর। আয়োজনই তারা করছিল বটে, কিন্তু সে এক অন্যরকম আয়োজন। সারা পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে পুরো বাংলাদেশ যেখানে ফানুস উড়িয়ে,বাজি পুড়িয়ে নতুন বছর উদযাপন করে, সেখানে তারা উদ্যোগ নিয়েছে এক অন্যরকম নববর্ষ পালনের। যাদের জন্য আজ এদেশের মাটিতে আমরা স্বাধীনভাবে নিজেদের মতো করে নববর্ষ পালন করতে পারছি, তাদের কাছ থেকে তাদের কথা শুনেই তারা  বরণ করবে নতুন বছরকে। হ্যাঁ,জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান  মুক্তিযোদ্ধাদের কথাই বলছি।

আয়োজনটি করা হয় শিশু-কিশোরদের অনলাইন পত্রিকা ‘বাংলা ইনিশিয়েটর’ থেকে। আয়োজনটির নাম ‘ইতিহাসের জলসা’। বিকাল পাঁচটায় যখন বাংলা ইনিশিয়েটরের কুঁড়ি-পচিশজন কিশোর – তরুণ গভীর আগ্রহে জল্লাদখানা বধ্যভূমির মাঠে বসে অপেক্ষা করছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার জন্য, তখনই সেখানকার ইনচার্জ কে এম নাসিরুদ্দীনন হাজির হয়ে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল আমান আর শহীদ পরিবারের এক সদস্য ফরিদুজ্জামানকে নিয়ে।

প্রথমেই পরিচয় পর্ব হয়। পরিচয় পর্ব শেষে বাংলা ইনিশিয়েটরের সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ার খান বাংলা ইনিশিয়েটর সম্পর্কে তাদেরকে কিছু তথ্য দেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংক্ষেপে বলে নেন জল্লাদখানা বধ্যভূমির ইনচার্জ জনাব কে এম নাসিরুদ্দীন। কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ” পুরো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। কিন্তু এই মিরপুর স্বাধীন হয়েছে ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বরের পর এই স্বাধীন দেশে বর্বর পাকিস্তানিরা ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে। যারা যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন দেয়নি,তারা স্বাধীন দেশের স্বাধীন মাটিতে শত্রুদের হাতে জীবন দেয়। এটি আমাদের অনেক বড় দুঃখ।”

কে এম নাসিরুদ্দীনের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলা শেষ হলে কথা বলা শুরু করেন মুক্তিযোদ্ধা কামরুল আমান। তিনি প্রথমেই শুরু করেন আমাদের স্বাধীনতা আর বিজয় দিবস নিয়ে। তিনি বলেন, “২৬ মার্চ আমাদের বিজয় দিবস,তাইনা?” সকলে তার কথার ভুল শুদ্ধ করে দিয়ে বলে, “না না, ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস।” তিনি হেসে বলেন, “আমি অবাক হয়ে দেখি, আমি এই কথাটা বললে এখনও অনেকেই আমার সাথে একমত হয়! এখনও অনেকে আমাদের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস কবে তা জানে না।”

তিনি আরও বলেন তাদের সংগঠনের কথা। যেই সংগঠন থেকে তারা সারা পৃথিবী ঘুরে ঘুরে বিশ্বের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতেন। জানাতেন – এটি ধর্মযুদ্ধ নয়, মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তির লড়াই, স্বাধীনতার লড়াই। সংগঠনটির নাম ছিল ‘বিশ্ব বিবেক জাগরণ পদযাত্রা’।

এছাড়া তিনি তার কিছু রোমহর্ষক স্মৃতি বলেন সেসময়ের,যা শুনে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে সকলের। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার কোন প্রয়োজন ছিল না। তালিকা করা প্রয়োজন ছিল রাজাকারদের আর শহিদ বুদ্ধিজীবিদের। বাকী যারা ছিল সবাই মুক্তিযোদ্ধা। ” তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হলে বক্ত শুনতে যেতে হবে,পড়তে হবে, খুঁজতে হবে। তা না হলে তোমরা সঠিক ইতিহাসটি জানতে পারবে না।”

তার কথা শেষ হলে শহিদ পরিবারের সন্তান জনাব ফরিদুজ্জামান কথা বলেন। তার বাবার মারা যাওয়ার বেদনাদায়ক স্মৃতি তিনি সকলকে বলেন। স্বাধীন দেশ পাওয়ার পরও এই মিরপুরে তার বাবাকে জীবন দিতে হয়েছিল।

সবার কথা শেষ হলে কিশোর-তরুণরা তাদের কাছে কিছু প্রশ্ন করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে শেষ হয় ‘ইতিহাসের জলসা’ আয়োজনটি।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।