প্রচ্ছদ » উড়াল » সংগঠন » মানবতার ডাক দিয়ে যাচ্ছে Siren of Humanity

মানবতার ডাক দিয়ে যাচ্ছে Siren of Humanity

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারী ২০১৭৮:৫৮:০৭ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ] নিশাত তনিকা, বাংলা ইনিশিয়েটর, ঢাকা

দারিদ্র্যতায় জর্জরিত পথশিশুদের ও অসহায় মানুষদের সাহায্য করতেই সবাই কে মানবতার ডাক দিয়ে যায় Siren of Humanity নামক ফাউন্ডেশনটি।

গ্রীষ্মের গরম রোদে রাস্তায় এক পথশিশুকে মাথায় ইট টানতে দেখে তারেক। তারপরই বন্ধুরা মিলে ঠিক করলো তাদের কিছু একটা করা দরকার। দুই দিনের প্ল্যানের পরে তৃতীয় দিনেই তারা সাহায্যে নেমে পড়ে। গরমের শাস্তি কমানোর জন্য, শরীরে আরেকটু শক্তি জোগানোর জন্য ২০১৬ সালের ২০ এপ্রিল একনাগাড়ে প্রায় ৮০০জন মানুষকে স্যালাইন খাওয়ানোর মাধ্যমে তাদের প্রথম ইভেন্ট “প্রোজেক্ট স্যালাইন” কে সফল করে তারা। টেকনিক্যাল থেকে যাত্রা শুরু করে শ্যাওড়াপাড়া পর্যন্ত হেঁটে হেঁটে অসহায়, গরীব শিশুদের, শ্রমজীবী মানুষদের স্যালাইন খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে তারা।

এরপর থেকেই শুরু হয় একাদশ শ্রেণী পড়ুয়া কিছু শিক্ষার্থীর নতুন স্বপ্ন নিয়ে পথচলা।  ফান্ড সংগ্রহের জন্য ফুল বিক্রির পদ্ধতিটি বেছে নেয় তারা। ঈদের জন্য দ্বিতীয় ইভেন্ট সফল করার উদ্দেশ্যে আঁগারগাও থেকে সকালবেলা ফুল কিনে নিয়ে আসা হয়। ৫০০পিস গোলাপ ভাগ করে দলের সকলের হাতে দেয়া হয়। ফুল হাতে হাতে দল করে আলাদা হয়ে যায় তারা। ফুল বিক্রির টাকা উঠবে কিনা এই ভয় থাকলেও পিছিয়ে পড়েনি কখনোই। বার বার ইভেন্ট সফল না হতে পারে এমন ভাবলেও বন্ধুদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সারাদিনের পরিশ্রমের পরে দিনশেষে ঠিকই হাসি ফুটতো তাদের মুখে। দ্বিতীয় ইভেন্ট “100 smiles” এর জন্য তিন দিনে ফুল বিক্রি করে ফান্ড সংগ্রহের পর পুরো মিরপুরে পথশিশুদের ঈদের জামা বিতরণ করে Siren of Humanity দল।

তৃতীয় ইভেন্টের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হাতে নেয় তারা। পাঁচ দিনের ফান্ড সংগ্রহের পর শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য রাজশাহী ও খুলনার চারটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে যায় তারা। প্রথম ধাপে মাদারীপুরের এর গ্রামের ইয়াতিম খানায় তারা ১০০কম্বল তুলে দেয় শিশুদের হাতে। এছাড়াও রাজশাহী চারটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ২০০কম্বল এবং খুলনার চারটি জেলায় ১৫০টি কম্বল বিতরণ করে দলটি।

মাদারীপুরে কম্বল বিতরন করে দলটি

Siren of Humanity দলের প্রধান উদ্যোক্তা সাঈদ হাসান তারেক জানায়, তাদের দলে মোট ৫২জন ভলান্টিয়ার রয়েছে। তাদের যে কোনো ফান্ড সংগ্রহে তারা বেশ কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে ফুল বিক্রি করে। কখনো ধানমন্ডি, কখনো বনানী,কখনো মিরপুরে ফুল বিক্রি করতে দেখা যায় একদল ছেলে মেয়েকে। ‘রাস্তায় এভাবে ফুল বিক্রি করো সবার কাছে, কেও কখনো অপমান করে কথা বলেনি?’ প্রশ্নটির উত্তরে তারেক বলে,

“অনেকেই করে। একবার এক মার্সিডিজ বেঞ্জ এর মালিক বলেছিলো, ‘খেঁটে খাইতে পারো না?’ তবে অপমানের চেয়ে সবার সহযোগীতা পেয়েছি বেশি। প্রথম ইভেন্ট এর প্ল্যান করার পরে আমার সাপোর্টে অনেকেই ছিলো। প্ল্যানটা বড় কথা না। সাপোর্ট পাওয়াটাই আসল।  অনেক সময় ১০টাকা পিস গোলাপের জন্য কেও ৫০টাকা, ১০০টাকাও দেয়। কখনো ৫০০টাকাও”

Siren of Humanity কে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে দলের প্রতিটি সদস্য। তাদের বিশ্বাস কোনো একসময় অনেক মানুষ এগিয়ে আসবে। তারাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে। দরিদ্র, অসহায় শিশু কিশোর এবং মানুষরা একসময় তাদের অবস্থাটি কাটিয়ে উঠবে। সম্পূর্ণ নিজেদের চেষ্টায় এগিয়ে নিয়ে ফাউন্ডেশনটি নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন। তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। তাদের বিশ্বাস মানবতার সাইরেন একদিন গভীরভাবে বেজে উঠবে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।