প্রচ্ছদ » অনিয়ম » রাজধানীতে নিষিদ্ধ জায়গায় বাস থামায় বাড়ছে যানজট সমস্যা

রাজধানীতে নিষিদ্ধ জায়গায় বাস থামায় বাড়ছে যানজট সমস্যা

 মেহেদী হাসান রুমি | বাংলা ইনিশিয়েটর | ঢাকা

মিরপুর ১০ নম্বর গোল চক্কর হতে  ১১নম্বর ও পল্লবি যেতে, গোল চক্কর ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনের রাস্তায় একটি সাইনবোর্ড। ঢাকা পশ্চিম ট্রাফিক বিভাগ, ডিএমপি এর পক্ষ থেকে দেয়া এই সাইনবোর্ডে লেখা আছে , “এখানে বাস দাঁড়ানো নিষেধ, দাঁড়ালেই দন্ড”। তাতে কি ! গাবতলি কিংবা গুলিস্তান থেকে আসা সব বাস এখানেই থামছে, তোলা হচ্ছে যাত্রী। ফলে সিগন্যাল জটে পড়তে হচ্ছে তিনদিকের যানবাহনগুলোকে। এ দূর্দশা চিত্র যেন প্রতিদিনেরই।

রাজধানীতে অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঘুরে এ চিত্র লক্ষ্য করা যায় প্রায় প্রতিদিনই। যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের সাইনবোর্ডের নির্দেশনা কার্যত হলেও তা আসলে অকার্যকর। পরিবহন চালকরাও জানেন না , থামা ও না থামার নির্দেশনা দেয়ার কথা এবং তারা এ বিষয়ে তৎপরও নন। ফলে, চালকদের এই অজ্ঞতার জন্যে নগরীতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট সমস্যা। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে  যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে ?

সত্যিই তাই। নগর পুলিশের কিছু অবহেলার জন্য দিন দিন বেড়েই চলেছে নগরীর এই যানজট সমস্যা।  রাস্তায় নামলে কখন গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে নিশ্চয়তা নেই। নিত্য দুর্ভোগ রাস্তায় রাস্তায়। যানজটে বসে অপেক্ষা করছে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এ কেমন নগরী!  যেখানে যানজটের ভয় নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়।  তাহলে আদো কি এই সঙ্কট থেকে মুক্তি নেই ?  হয়ত উত্তরটি হ্যা অথবা না হবে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছায় স্বল্পমেয়াদী পরামর্শগুলো কার্যকর করা গেলে  পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পগুলোও যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে,  অনেক প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি এখনো।

গবেষকরা বলছেন , যানজটের কারণে দিনে ৪০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। এতে মহানগরীর ৭৩ ভাগ মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিও হচ্ছে।  প্রতিদিন রাজধানীর সকল মানুষকে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে গড়ে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময়ই যানজটে আটকে থাকতে হয়। যার ফলে পরিস্থিতি আস্তে আস্তে আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।

নগরীর যানজট প্রসঙ্গে সংসদে দেয়া এক বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন , ‘যানজটমুক্ত ঢাকা শহর গড়ে তুলতে আমরা মেট্রোরেলের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, ২০১৯ সাল নাগাদ এর কাজ শেষ করতে পারব’। কিন্তু মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেক দিনের ব্যাপার, এত দিন কি তাহলে সাধারন জনগন তাদের এই সমস্যা নিয়েই থাকবে?  এমন প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই ।  সাধারন জনগন  এই সমস্যার দ্রুত বিকল্প সমাধান চায় !

 

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।