প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » শুরু হয়েছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা

শুরু হয়েছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা

মেহেদী হাসান রুমি | বাংলা ইনিশিয়েটর | ঢাকা।

আজ থেকে  শুরু হয়ে গেল বাঙালির প্রাণের মেলা, অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এ বইমেলার মধ্য দিয়েই লেখক-প্রকাশক-পাঠকের মাসব্যাপী মিলনমেলায় পরিণত হবে বইমেলা প্রাঙ্গণ। বাংলা ভাষা সাহিত্যের চর্চা, বিকাশ, বাঙালী সংস্কৃতির বহমান উদার অসাম্প্রদায়িক ধারায় অনন্য এক দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে একুশের বইমেলা।আজ বিকাল ৪ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইমেলার শুভ উদ্বোধন করেছেন। বাংলা একাডেমির আয়োজনে একাডেমির মূল চত্বর ও একাডেমি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৪ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে এবারের গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়েছে। গ্রন্থমেলার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১২টি চত্বরে সজ্জিত করা হয়েছে। বাংলা একাডেমিসহ ১৪ প্রকাশনা সংস্থাকে মোট ৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের ১৫টি প্যাভিলিয়ন করে দেওয়া হয়েছে। ১০০ লিটল ম্যাগাজিনকে বর্ধমান হাউসের দক্ষিণ পাশে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ করে দেওয়া হয়েছে। এবং অধিকাংশ স্টল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশ থেকে সড়িয়ে এনে পশ্চিম পাশে আনা হয়েছে।

এবারই প্রথম বইমেলায় উভয় অংশে মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থা থাকবে। এর আগে শুধুমাত্র বাংলা একাডেমি চত্বরের নজরুল মঞ্চে মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থা ছিল। এছাড়াও এবারই প্রথম বইমেলায় আসা নতুন বইয়ের তথ্য জানানোর জন্য নতুন বইয়ের প্রদর্শনশালা করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রকাশিত নতুন বই দিনভিত্তিক সাজানো থাকবে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান জানান, ‘ ৬০ ইউনিট নিয়ে গড়া চত্বরটি রঙ-বেরঙের লাইটিংয়ে সাজানো হয়েছে। শিশুদের জন্য খেলার সামগ্রীও থাকবে। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারও শুক্র ও শনিবার থাকবে শিশু প্রহর। তিনি আরো জানান, বাংলা একাডেমি ৩০ শতাংশ ও মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে মেলায়। এছাড়াও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রকাশিত বই বিক্রি ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে।

মেলা চত্বরে নিরাপত্তা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমরা সিটি কর্পোরেশন, বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফায়ার সার্ভিসকে নিয়ে একাধিক বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছি। খুঁটিনাটি আলোচনা করে সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে’।

এবার বইমেলায় আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনে ৭ দেশের ২৭ জন কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী-প্রাবন্ধিক অংশগ্রহণ করবেন। অংশগ্রহণকারী কবি-সাহিত্যিকরা আসবেন রাশিয়া, চীন, অস্ট্রিয়া, জার্মানী, পুয়ের্তোরিকো, সুইডেন ও ভারত থেকে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই আসবেন ১৮ জন কবি ও কথাসাহিত্যিক।

এছাড়াও এবারের বইমেলার প্রকাশক দের মধ্যে মনিরুল হক,ফরিদ আহমেদ,শাহাদাত হোসেন অন্যতম। তারা জানান, ‘এবারের বইমেলায় উপন্যাস, ছোটগল্প, সাহিত্য, গবেষণা ইত্যাদি ভিত্তিক তাদের প্রায় ১৪৫ টি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। তারা আশাবাদি তারা তাদের এই প্রকাশিত বই দিয়ে পাঠকদের বই পড়ার স্বাদ পূরণ করতে পারবেন। তাছাড়াও এবারের বইমেলায় নতুন কিছু প্রকাশকদের বইও প্রকাশিত হবে বলে জানা গেছে।

প্রায় প্রতি বছরই বই মেলা প্রকৃতিক দুযোর্গের কবলে পড়ে। এসব কথা চিন্তুা করে বাংলা একাডেমি প্রতিটি স্টলের ছাউনিতে ত্রিপলের বদলে টিনের ছাঊনির ব্যবস্থা করেছে। মেলায় প্রথম বারের মত শিশুকর্নারে ‘মাতৃদুগ্ধ সেবাকেন্দ্র’ চালু করা হচ্ছে। এতে করে দুগ্ধ পান করা শিশুরা উপকৃত হবে। এবারের বইমেলার সময়সীমাও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন মেলা চলবে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত।

সবমিলিয়ে আশা করা যাচ্ছে এবারের বইমেলার যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন কিছুর মাধ্যমেই।এবং আরো আশা করা যায় যে এবারের বইমেলা পূর্বের থেকে আরো জাঁকজমক ভাবেই অনুষ্ঠিত হবে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।