প্রচ্ছদ » সাইন্স ভিউ » জানা-অজানা » সিভি লিখার সময় যে বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতে হবে

সিভি লিখার সময় যে বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতে হবে


সিভি বা Curriculum Vitae , বাংলায় যাকে বলা হয় জীবন বৃত্তান্ত। আমাদের বেশিরভাগই সিভি বলতে ছোট বেলায় পড়া My self রচনা বুঝি । আমার নাম আবুল, আমার বয়স ২০ বছর, আমার উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, আমি অবিবাহিত, দেখতে ফর্সা, দুই ভাই-তিন বোন , অবসর সময়ে ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করি ইত্যাদি ইত্যাদি । আমরা অনেকেই সিভি লিখতে গিয়ে এই কমন বিষয়গুলোই লিখে দেই । কিন্তু মনে রাখতে হবে যে পেশাদার জীবনে প্রবেশই হোক বা চাকরি বদলের জন্য— সিভি–র গুরুত্ব কখনই কমে না। চাকরিপ্রার্থীর সম্পর্কে প্রথম ধারণাটাই গড়ে ওঠে তাঁর সিভি-র মাধ্যমে। তাই  সিভি তৈরি করতে বেশ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা উচিত। আপনার যতই অভিজ্ঞতা থাকুক না কেন, ভুলে ভরা সিভি-তে চাকরির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। আসুন এবার দেখে নেয়া যাক সিভি লেখার সময় কোন কোন বিষয় গুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ।

সিভি-তে ভুলত্রুটি এড়িয়ে চলুন

কি-বোর্ডে সিভি টাইপ করার সময় অনেক সময় বানান ভুল বা টাইপো হয়ে যায়। এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সিনিয়র এইচআর ম্যানেজার মীরা নায়ার বলেন, “সিভি-তে টাইপো থাকলে তা ফিরেও দেখবে না কেউ।” চাকরিপ্রার্থীর যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও তা বেশির ভাগ সময়ই বাতিল করে দেন চাকরিদাতা। তাঁদের বক্তব্য, নিজের সিভির যত্ন না নিতে পারলে সংস্থার প্রতিও যত্নশীল হতে পারবেন না ওই প্রার্থী।

 

কখনোই ফাঁপা বাক্য লিখবেন না

সিভি-তে ফাঁপা বাক্য না লেখার পরামর্শ দিলেন ট্যালেন্ট ম্যানেজার বিশ্বজিৎ চৌধুরী। তাঁর মতে, ‘আমি ভবিষ্যতে উন্নতি করতে চাই’ বা ‘চ্যালেঞ্জিং কাজ করতে চাই’—এ ধরনের ফাঁপা কথায় চাকরিদাতাদের মন ভেজে না। বরং, কেন কোন কাজের জন্য ওই সংস্থার উন্নতি হতে পারে সিভি-তে তা উল্লেখ করুন।

 

কাজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে লিখবেন না

নিজের কাজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে লিখবেন না। বরং যা সত্যি তা-ই লিখুন। এইচআর পরামর্শদাতা কল্যাণ চন্দ বলেন, “আজকাল আমরা সকলেই প্রার্থীর ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করি। এমনকী, ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার প্রার্থীর পোস্টগুলিও দেখা হয়। ফলে এ ক্ষেত্রে মিথ্যা কথা না বলাই ভাল।

 

অপ্রয়োপজনীয় তথ্য লিখবেন না

কাজের অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত যোগ্যাতা-সহ নিজের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সব কথাই সিভি-তে লিখুন। মনে রাখবেন, আদর্শ সিভি বলে কিছু হয় না। তবে খেয়াল রাখবেন, তা যেন দু’তিন পাতার মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। এর বেশি পড়ার মতো ধৈর্য থাকে না অনেকেরই। তবে সিভি ছোট রাখতে গিয়ে আবার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেবেন না।

 

সিভি অতিরিক্ত কালারফুল করবেন না

বিভিন্ন রঙের কালি দিয়ে সিভি-তে হাইলাইট করবেন না। বোল্ড ফন্ট ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। এইচআর অফিসার আকাশ শাহ বলেন, “সিভি আকর্ষণীয় করার চেষ্টায় তা বেশি জটিল করবেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এতে চাকরিদাতা বিরক্ত হন।

 

ফর্ম্যাট নকল করে সিভি বানাবেন না

অনেকেই বন্ধুবান্ধবদের থেকে সিভি-র চেয়ে নিয়ে তা হুবহু নকল করেন। এটা একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত বলে মত এইচআর পরামর্শদাতা মোহিনী দত্তের। তিনি বলেন, “সিভি-তে আপনার পেশাদার জীবনের কথা থাকে। ফলে অন্যের থেকে তা নকল করে সে ফর্ম্যাটের সিভি বানাবেন না।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।