প্রচ্ছদ » উড়াল » জীবনী » সার্জেন্ট জহুরুল হকের জন্মদিন আজ

সার্জেন্ট জহুরুল হকের জন্মদিন আজ

প্রকাশ : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭৭:৩৫:৪০ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ] শাফিন রাহমান | বাংলা ইনিশিয়েটর | ঢাকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অগ্রপথিক শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক। তদানীন্তন পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর যেসব অকুতোভয় কর্মকর্তা পাকিস্তানী স্বৈরশান ও পরে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন তথা স্বাধীনতার দাবীতে সোচ্চার হয়েছিলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক ছিলেন তাদের অন্যতম । আজ তার জন্ম দিন । কিন্তু আক্ষেপ একটাই এতো সাহসীকতা এবং বীরত্বের পরও তিনি বাংলার স্বাধীনতা দেখে যেতে পারেনি

সার্জেন্ট জহুরুল হক ১৯৩৫ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারী নোয়াখালী জেলার সুধারামপুর থানার সোনাগুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কাজী মজিবুল হক।

তিনি ছিলেন বেশ কিছু বিষয়ে পার্দরশী । তিনি ছোট বেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। খেলাধূলায় ছিলেন বেশ পারদর্শী। ততকালীন পাকিস্তানে তিনি একাধারে বেশ কয়েক বছর বিমান বাহিনীর সাঁতার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন । তিনি ছবি আকাতেও ছিলেন বেশ পটু । তার নিজের যে ছবিটি বেশি জনপ্রিয় সেটিও তারই আকা । তিনি কারু কাজেও ছিলেন অনেক অভিজ্ঞ ।  তিনি কাঠ খোদাই করে নানা রকম শিল্পকর্ম করতেন। কাঠের ছোট ছোট টুকরো সংযুক্ত করে ছবি আকতেন। জাতীয় যাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ জাতিঘরে তার স্বহস্তে নির্মিত বেশ কিছু শিল্পকর্ম নিদর্শন রক্ষিত আছে।

১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় যাদের ফাসানো হয় তাদের মধ্যে সার্জেন্ট জহুরুল হক অন্যতম । আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্তরুপে ঢাকা ক্যান্টমেন্টে বন্দী অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী গুলি এবং উপর্যুপরি বেয়োনেটের আঘাতে ১৯৬৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী তারিখে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাকে হত্যা করা টা ছিলো শুধুই আত্যতৃপ্তির জন্য । সেই সময়ে স্বৈরাচারী আয়ুব খানের কুশাসনের বিরুদ্ধে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল অভিযুক্তের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে দেশব্যাপী যে গণআন্দোলন চলছিল সার্জেন্ট জহুরুল হকের হত্যাকান্ডে তা অসাধারণ তীব্রতা লাভ করে।

বাংলাদেশের মানুষ দেশ-মাতৃকার মুক্তি প্রয়াসী এই বীর যুবককে সেদিন কেবল শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেনি, দেশে স্বায়ত্বশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর নামে শপথ গ্রহণ করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ সেদিনই ইকবাল হলের নাম পরিবর্তন করে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল নাম প্রবর্তন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিমান বাহিনীর চট্রগ্রাম ঘাটি সার্জেন্ট জহুরুল হকের নামাংকিত হয় ।

আশা ছিলো এতোটুকুই বাংলাকে স্বাধীন দেখবেন, তাও পারলেন না । এই মহান বীরের জন্মদিনে তার প্রতি বাংলা ইনিশিয়েটর পরিবারের বিনম্র শ্রদ্ধা ।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।