প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের প্রথম দিন

আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের প্রথম দিন

খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর

“আহা,আজি এ বসন্তে,এত ফুল ফোটে

এত বাঁশি বাজে,এত পাখি গায়।”

কবিগুরুর চোখে বসন্ত ধরা দিয়েছে এভাবেই। আমাদের একেকজনের কাছে বসন্ত একেক রকমভাবে ধরা দেয়। কারো কাছে বসন্তের মানেই রঙিন পৃথিবী, কারো কাছে বসন্ত মানে কোকিলের গান, কারো কাছে বসন্ত মানে বাসন্তী শাড়ি পরে ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু সবার কাছেই বসন্তের একটি মানে আছে; আর তা হলো তারুণ্য, তারুণ্যকে জাগিয়ে তোলা।

আজ পহেলা ফাল্গুন। অর্থাৎ ফাল্গুনের প্রথমদিন। ঋতুরাজ বসন্ত এবার এসেই পড়লো। বসন্তকে বরণ করে নেয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত হবে বিভিন্ন উৎসব। এর মধ্যে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ এই দিনকে বরণ করতে চারুকলার বকুলতলায় এবং ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর উন্মুক্ত কক্ষে প্রতিবছরের মতো আয়োজন করবে ‘জাতীয় বসন্ত উৎসব’। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে কনসার্টসহ আয়োজিত হবে বেশ কিছু অনুষ্ঠান।

বসন্তকে বরণ করে নিতে আজ তরুণ-তরুণীরা বর্ণিল এক সাজে বসন্তের আমেজকে আরেকটু বাড়িয়ে তুলবে। মেয়েরা পরবে বাহারি রঙের শাড়ি আর ছেলেরা পরবে পাঞ্জাবী। এমনিতেই বসন্ত মানেই রং, নানা ফুলের আনাগোনা, তার উপর তরুণদের এই উচ্ছাসিত বসন্ত বরণ সেই রংকেই আরো বেশি করে রঙিন করে তোলে।

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৩ ই ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন পালিত হয়। বসন্তকে শুধু বাংলাদেশ নয় বরং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খন্ড, ওড়িশাসহ বিভিন্ন রাজ্যে দিনটিকে বিশেষভাবে বরণ করা হয়। বসন্ত আসার মানেই হলো শীতের রুক্ষতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন কমোদ্দীপনায় ঝাঁপিয়ে পড়া। তবে জলবায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কারণে এবারে শীত এসেছে কিছুটা দেরিতে যার কারণে এখনো বসন্তের কোনো আমেজ পাওয়া যাচ্ছেনা।

বসন্তে বিভিন্নরকম ফুল ফোটে। যার মধ্যে অশোক, আকড়কাঁটা, হিমঝুরি, ইউক্যালিপটাস, রক্তকাঞ্চন, কুরচি, কুসুম,গ্যামারী, ঘোড়ানিম, জংলীবাদাম, জ্যাকারান্ডা, দেবদারু, নাগেশ্বর, পলকজুঁই, পলাশ, পাখিফুল, পালাম, বুদ্ধনারিকেল, মনিমালা, মহুরা, মুচকুন্দ, রুদ্রপলাশ, শাল, শিমুল, স্বর্ণশিমুল, ক্যামেলিয়া উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশে বসন্ত মানুষের হৃদয়ে অন্য এক আবেদন নিয়ে আসে। এই বসন্তেই হয়েছিল আমাদের ভাষার জন্য আন্দোলন, শুরু হয়েছিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। তাই এই বসন্তে আমরা প্রকৃতির কাছ থেকেই যেন বারবার আবেদন পাই দেশকে ভালোবাসার, ভাষাকে ভালোবাসার। বর্ণিল বসন্ত আরো বর্ণিল হয়ে উঠুক দেশকে ভালোবাসার মাধ্যেমে, মাতৃভাষাকে ভালোবাসার মাধ্যেমে।

বসন্ত রংয়ের ঋতু, বৈচিত্র্যের ঋতু। এ রং, এ বৈচিত্র্য যেন শুধু প্রকৃতিতে লাগে না, আমাদের মনেও লাগে। তাই তো বসন্তে যখন প্রকৃতি রঙিন হয়ে ওঠে, আমরাও তখন হয়ে উঠি রঙিন। যখন কোকিল ডেকে ওঠে, তার সঙ্গে কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে আমরাও গেয়ে উঠি গান। গেয়ে উঠি, “বসন্ত এসে গেছে…..”

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।