প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কথা » সেচ্ছাসেবীদের আচরন ও আমার কিছু কথা

সেচ্ছাসেবীদের আচরন ও আমার কিছু কথা

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭৮:০২:৫২ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-user fa-spin ” pfaicolr=”” ] নিশাত তনিকা | বাংলা ইনিশিয়েটর

সমাজকল্যাণমূলক কাজ করতে চাইলে সবার প্রথমে যে কথাটা মনে হয় তা হলো, “সবার সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা”। নিজেদের ভালোগুণ, সততা, আত্মবিশ্বাস নিয়ে সুন্দর একটি পরিবর্তন এর সূত্রপাত। আজকাল অনেক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন দেখা যায়। বড়-ছোট সবার অংশগ্রহণে পরিবেশ, সমাজ এবং দেশের উন্নতির কাজ চলছে। কখনো কখনো কটু কথা শুনতে হলেও বেশিরভাগ সময় আশেপাশের মানুষের কাছে থেকে উৎসাহ পাচ্ছে তারা।

কখনো রাস্তাঘাট পরিষ্কার, কখনো বা শীতবস্ত্র বিতরণ, ছোটদের মেহেদী উৎসব, ঈদে নতুন জামা বিতরণ, নারীর অধিকারের পক্ষে নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনগুলো। অনেক মানুষ এদের বিশ্বাস করে, ভরসা করে। তারা আশায় থাকে এদের হাত ধরেই দেশ একদিন উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। কিন্তু ব্যাপারটা যদি “সরিষার ভেতর ভূত” এর মত হয়ে যায়?

যখন কোনো ভালো কাজের জন্য একজন মানুষ এগিয়ে যাবে, তখন আশেপাশের আর দশজন মানুষ তাকে দেখবে। তাকে অনুসরণ করতে চাইবে। তার ভালোগুণ গুলো নিতে চাইবে। বাবা-মা শিক্ষকরা চাইবে তাদের সন্তানরাও এগিয়ে যাক। কিন্তু সেই মানুষগুলো আদৌ মনের দিক থেকে ভালো হয় কি? যে ব্যক্তি একটি সংগঠন এ কল্যাণমূলক কাজ, জনসেবামূলক কাজ করে সেই ব্যক্তিটি যদি টং এর দোকানে বসে আড্ডার ছলে একটি মেয়েকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে, ফ্রেন্ডদের সাথে মিলে উত্যক্ত করে অথবা বারবার কিছু খাওয়ার জন্য হাত পেতে টাকা চাওয়া ছোট একটি শিশুর উপর বিরক্ত হয়ে আজেবাজে গালি দেয় তবে তা কি শ্রেয়?

শুধু শুধুই কথাগুলো বলছিনা। নিজ চোখে দেখেছি তাই বলছি। কিছুদিন আগেও শীতবস্ত্র বিতরণের এক ইভেন্টে  তাদেরই এক পুরান ভলান্টিয়ার নতুন একজন মেয়ে ভলান্টিয়ারকে আজেবাজে কথা বলে বিব্রত করে দিয়েছিলো। যে নিজের বাবা-মা-ভাই-বোনকে সম্মান করতে পারেনা সে অন্য কাওকে কিভাবে সম্মান করবে? স্বেচ্ছাসেবক হয়ে যখন সে আরেকজন স্বেচ্ছাসেবককে অশ্লীল কথা বলে তখন সে কিভাবে রাস্তায় হওয়া ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করবে? নাকি কোনো একদিন সংগঠনটির আইডি কার্ড বা টি শার্ট গায়ে না থাকলে সে নিজেই হয়তো টিজ করবে।

নটরডেম কলেজে Nature Summit fest 2016 Digital Story গ্রুপে প্রথম পুরষ্কার পায় সাদেকীন হায়দার নামের একটি ছেলে। তার উপস্থাপন করা বিষয়টি ছিলো ‘Save the environment Vs Our hypocrisy.’ গল্পটির বিষয় এমন ছিলো যে, সে একজন সমাজ সেবক। পরিবেশ পরিষ্কারের জন্য সে আন্দোলন করছে।আন্দোলন এর সময় খাওয়া কোকটা আন্দোলন শেষ করে সে ডাস্টবিন এ না ফেলে রাস্তায় ফেলে দিয়েই চলে গেলো। হ্যাঁ, প্রায় সময় এমনটা হয়। বেশিরভাগ সময়ই এমনটা হয়। আজকাল ফেসবুকে নিজের এবাউটে কিছু লাগানোর জন্য হলেও একটা কিছু দরকার। হয়তো কাজগুলো সে মন থেকে করেনা। তবে যখন করে তখন শুধু মাত্র সমাজে নিজের একটা ভালো অবস্থান সৃষ্টি করার জন্য। আর মন থেকে সম্মান, ভালোবাসা না আসলে লোক দেখানোর জন্য সব সময় সেটা করা যায় না।

অদ্ভুত ব্যাপার এটাও, এরাও জঘন্য ভাষায় রাস্তায় গালিগালাজ করে। যা নিজেদের ফ্রেন্ডরা একসাথে থাকা অবস্থায় বেশি হয়। অশ্লীল গালিগালাজ অবশ্যই কোনো সভ্য কেও করেনা। “মা, জানো ওই ভাইয়া/আপুটা না গরীবদের অনেক সাহায্য করে। আমি ওদের সাথে কাজ করে তাদের সাহায্য করতে চাই। ” এমন একটা প্রস্তাবে প্রায় বাবা-মা তাদের সন্তানকে উৎসাহ দিবে। তবে কাজ শেষ করে দল বেধে সিগারেট খাওয়া বা হাসতে হাসতে নিজের দেশ, ভাষাকে অপমান করলে সেই অভ্যাসটাও কি নতুন যুক্ত হওয়া ছেলেটি অর্জন করবেনা?

যখন কোনো ভালো কাজ করার উদ্যোগ নেয়া হয় তখন টিম মেম্বার সিলেক্ট করার সময় অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত। তাদের লেখাপড়ার যোগ্যতার চেয়ে তাদের মানবিকতা, সকল মানুষের প্রতি সম্মান করার মনোভাব এর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যে মন দিয়ে ভালোকাজ করতে পারবেনা তাদের জন্য স্বেচ্ছাসেবক নামটি কখনওই উপযুক্ত হতে পারেনা। তাদের যখন তাদের ভুল গুলো বলা হয়, অনেক সময় তারা অহংকার করে অথবা তারা বলে, “আমি সংগঠনে আছি জন্য কি আমার নিজের বলতে কিছু নেই? আমি মন খুলে কথা বলতে পারবোনা?” কিন্তু তাদের কথাগুলো অন্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলবে বা ফেলছে এটা তারা মানতে চায়না। কেমন মন খুলে কথা বলে সে, যার জন্য অন্যকে নিয়ে হাসাহাসি ঠাট্টা হয়? অন্যকে গালিগালাজ করে, মেয়েদের টিজ করে,সিগারেট এর ধোঁয়া মানুষের নাকেমুখে উড়িয়ে দেয়?

যখন তুমি একটা প্রতিষ্ঠান এর হয়ে কাজ করবে তখন অবশ্যই তুমি তোমার প্রতিষ্ঠানটিকে সবার সামনে তুলে ধরছো। তোমার কথা,ব্যবহার সবকিছু ‘প্রতিষ্ঠানটি আসলে কেমন’ এই প্রশ্নটির জবাব দেয়। কোনো ভালো কিছুই কখনো খারাপের শিক্ষা দেয়না। তবুও বেশিরভাগ মানুষ অনেক ভালোর মাঝে খারাপটিকেই খুঁজে নেয়, বেছে নেয়। যেহেতু এরা পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করে তাই প্রতিষ্ঠান এর উদ্যোক্তার উচিত একজন মানুষের মানবিকতা, সহযোগিতার মনোভাব এবং অন্যকে সম্মান করার ইচ্ছা আছে এমন মানুষকেই বেছে নেওয়া। আর ভুলক্রমে যদি এমন কাওকে নিয়েও নেয় তবে তাকে বুঝানো এবং পরবর্তীতেও সে পরিবর্তন না হলে তাকে আর যাই হোক, মানবিকতার কাজ থেকে অন্তত বাদ দেয়া। মানবিকতার শিক্ষাই হলো বড় শিক্ষা,প্রধান শিক্ষা। অনেক তো হলো, “২+২=৪” শিখা, একবার নাহয় ৪টাকার একটা পাউরুটি কোনো অসহায় শিশুকে কিনে দিলাম?

লেখকঃ শিক্ষার্থী

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ইনিশিয়েটর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ইনিশিয়েটর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।