প্রচ্ছদ » উড়াল » তারুণ্য » ভালোবাসা দিবস নিয়ে কী ভাবে এখনকার কিশোর-তরুনেরা?

ভালোবাসা দিবস নিয়ে কী ভাবে এখনকার কিশোর-তরুনেরা?

খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর

প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ভালোবাসা দিবস। আমাদের দেশেও বর্তমানে দিনটিতে এই দিবস উদযাপন করা হয়। ফুল, কার্ড ইত্যাদি এই দিনে প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে দেয় অনেকে। আবার অনেকে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে যেতেও পছন্দ করে । অনেকেই মনে করে ‘ভালোবাসি’ কথাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বলে দেয়ার সঠিক সময় এই দিনটিই। তবে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত এবং সমালোচিত এই ভালোবাসা দিবস। তরুণদের মধ্যে কেউ কেউ এই দিবস পালনের পক্ষে। আবার কেউ কেউ মনে করছে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটছে এই দিবসটির কারণে। তাছাড়া দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ার কারনে সমালোচনাটা ঘুরে ফিরে চলেই আসছে। ইসলাম ধর্ম এমন দিবস পালনে অনুমতি দেয় না । তাই বাংলাদেশে দিবসটি নিয়ে মানুষ দুই দিকেই কথা বলছে। কিন্তু দেশের কিশোর-তরুনেরা কী ভাবছে এই দিবসটা সম্পর্কে? তাদের মতে দিবসটি কতটা গুরুত্বপূর্ন  তাই জানার জন্য কয়েকজন কিশোর-তরুনের সাথে কথা বলেছে রিপোর্টার খাতুনে জান্নাত।

নাইমুর রহমান, শিক্ষার্থী
ঢাকা কমার্স কলেজ

ভালোবাসা শুধু ১ দিন নয় ভালোবাসা হোক ৩৬৫ দিন। ভালোবাসার টানে ছুটে চলা অবিরত । আমার এই দিনটা উৎসর্গ করলাম আমার ভালোবাসার প্রিয় মানুষ দুটির জন্য যাদের জন্য এই পৃথিবীর পরশ পেয়েছি। ভালোবাসার টানেই ছুটে যাচ্ছি তাদের কাছে। পৃথিবীর সব থেকে পবিত্র রং হল ভালোবাসা। যা কখনো পুরানো হয়না, নষ্ট হয়না। সত্যিকারের ভালোবাসার জয় হোক।

আশিকুর রহমান, শিক্ষার্থী
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

ভালোবাসা শব্দটির সাথে এই পৃথিবীর অস্তিত্ব বিরাজমান । আমার ব্যাক্তিগত মতামতে ভালোবাসা দিবস নিছক একটি দিবস। দিবস পালন করা হয় কেন? বিশেষ ভাবে জনগণকে সচেতন (ক্যান্সার, এইডস, মাতৃভাষা) করা বা সেই বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উৎসাহিত করা কিংবা কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সম্মান প্রদর্শনপূর্বক ইত্যাদি । কিন্ত ভালোবাসা এমন কোন কিছু নয় যে এই সম্পর্কে কোন দিবসের প্রয়োজন আছে। ভালোবাসা একটি অনুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বর্তমান সময়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস পালন করা হয়ে থাকে যা আন্তর্জাতিক ভাবে সমাদৃত। তবুও যেই দিবস আমাদের সার্বজনীন ভালোবাসাকে কেন্দ্রীভূত করে একটি দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে তা কতোটুক যুক্তিযুক্ত?

মোঃ রাফিউর রহমান, শিক্ষার্থী
কসমোপলিটান ল্যাব. স্কুল এন্ড কলেজ

সত্যি কথা বলতে ভালোবাসা দিবস সম্পর্কে নানা জনের নানা মত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলা যায় মত টা দুইভাগে ভাগ। কেও এর পক্ষে আর কেও এর বিপক্ষে। পক্ষে যারা তারা বেশিরভাগই দেখা যায় রিলেশন এ আছে বা বিবাহিত। আবার বিপক্ষেও আছে বিবাহিতরা! সিংগেলরা বেশিরভাগ সময়ই উপরে উপরে এর বিরোধিতা করলে মনে মনে এই দিনটা পালন না করতে পারার আক্ষেপ তো করেই। এখন সত্যি কথা বলতে দিবস টা খারাপ না তাৎপর্য বা ভূমিকা কি এই দিবসের পিছনে সেইটা জানাও মূখ্য। এখন প্রেম এর নামে অশ্লীলতা বা এই লাভ-ব্রেকআপ-লাভ করে লাভ নাই সত্যি। বরং যারা এগুলো করে তার কর্মের প্রভাব সবার উপরই পড়ছে। হ্যা দিনটা ভালো… আমার মতো বয়সের ছেলেরা ওইদিন রাস্তায় বের হলে বড় ভাইয়া আপুদের প্রেম দেখে। আর এই বয়সে এগুলা দেখে মজা পাওয়াটাই আসলে মজা! আর আমার মনে হয় আমাদের দেশের ভালোবাসা দিবসের সময়টা খুব সুন্দর। কারণ, এটি আমাদের প্রাণের ফেব্রুয়ারি মাসে। তাই আমরা এই দিনে শ্রদ্ধা জানাতে পারি নিজেদের মাতৃভাষা বাংলাকেও।

কাজী মোয়াজ্জমা তাসনিম, শিক্ষার্থী
বিসিআইসি কলেজ

ভালোবাসার জন্য আসলে কোন নির্দিষ্ট দিন লাগে না। ভালোবাসা যায় যে কোন দিনে, যে কোন সময়ে, যে কোন পরিস্থিতিতে। তবুও একটা দিন তো শুধু ভালোবাসার জন্য রাখাই যায়। আমি ভালোবাসা দিবসের বিপক্ষে নই। কিন্তু ভালোবাসা যেন শুধু দিবসকেন্দ্রিক না হয়। ভালোবাসার জন্য যেন ভালোবাসা দিবস হয়। ভালোবাসা দিবসের জন্য ভালোবাসা নয়।

মুস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষার্থী
তেজগাঁও কলেজ

ভ্যালেন্টাইন ডে যদি ভালবাসা দিবস হয়, আমি বলবো আমাদের জীবনে এমন দিনের কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের পরিবার, প্রিয়জন আর জীবনসঙ্গী কে ভালবাসতে কোনো দিনের প্রয়োজন হয়না। এসব ভালবাসা লোক দেখানো নয়, আন্তরিক। পৃথিবীতে আর যত দিবস পালিত হয় তার সবই ওই বিষয়বস্তুর উপর গুরুত্বারপ করে ভালবাসার যোগান দেবার জন্য। তাই আমার মনে হয়না আমাদের ভালবাসা দিবসের দরকার। আমরা সবাই কাউকে না কাউকে ভালবাসি। কিন্তু কোনো পার্কে বা খোলা ময়দানে গিয়ে সং সেজে আর লজ্জাহীনতার পরিচয় ফুটিয়ে তুলে সেই ভালবাসার প্রকাশ হয়না। বরঞ্চ এটা ভ্যালেন্টাইন ডে এর সেই পৈশাচিক অতীতকে সমর্থন করে যেখানে অবৈধ কোনো সম্পর্কের জন্য সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন কে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। আফসোস আমাদের সেই জাতির জন্য যারা ভ্যালেন্টাইন বলতে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন কে নয়, কোনো ভুল সমাজের প্রচলিত ভালবাসা বোঝে।

মাহফুজুল হক, শিক্ষার্থী
শিক্ষার্থী শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ

ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন এর প্রয়োজন নেই। তবে বহুল প্রচলিত ১৪ ফেব্রুয়ারি এই ভালোবাসা দিবস নিয়ে শুধু তরুন-তরুনী না বয়স্ক মানুষরাও অনেক বেশি আগ্রহে থাকে। কারো কারো কাছে এই দিনের কোন বিশেষ মানে থাকেনা, সব সময়ের মতো আজকের দিনটাও তাদের কাছে। আর কারো কারো ভালোবাসা প্রকাশ পায় এই দিনে তার প্রিয় মানুষের সাথে। দেশের সব শ্রেণীর মানুষের প্রতিই আমার ভালোবাসা।

সামিউর রহমান, শিক্ষার্থী
শিক্ষার্থী বিএএফ শাহিন কলেজ

আসলে আমার মতে বর্তমানে সত্যিকারের ভালোবাসা আছে খুবই কম তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। কিন্তু তবু সত্যিকারের ভালোবাসা বর্তমানে টিকে আছে বলেই এই গোটা বিশ্ব টিকে আছে ভালোবাসায়। বর্তমানের তরুণ-তরুণীদের সম্পর্কগুলিতে অপসংস্কৃতির প্রভাবই বেশি বলে মনে করি আমি। দেখা যায় যে,কবে কোন ফিল্মে বা নাটকে প্রেমিক-প্রেমিকা কিভাবে ভালোবাসার জীবন কাটাচ্ছে, সেটা বাস্তব জীবনে নকল করতে যেয়ে এরা সবকিছু গুলিয়ে ফেলছে। আসলে বর্তমানে সবকিছুতে এতোই ভেজাল এসে গেছে যে সেজন্য সবকিছুর ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে আমাদের প্রজন্ম, এমনকি ভালোবাসার সম্পর্ক গুলির মধ্যেও। আমাদের সবার শুধুমাত্র একে অপরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা উচিত আর সৎ থাকারও প্রয়োজন বটে। বেঁচে থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি ভালোবাসা, সেটাই কাম্য।

 

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।