প্রচ্ছদ » অনিয়ম » ঢাকায় পাবলিক টয়লেট সংকট

ঢাকায় পাবলিক টয়লেট সংকট

  মেহেদী হাসান রুমি | বাংলা ইনিশিয়েটর

বর্তমান সময়ে ফুটপাত দিয়ে হাটতে গেলেই দেখা যায়, রাস্তার পাশে বিভিন্ন বয়সের ছেলেরা দলভেদে দাড়িয়ে যখন তখন মুত্র ত্যাগ করে । এই অবস্থা সম্পূর্ণ ঢাকা শহরের সর্বত্র বিরাজ করছে। এ ধরনের খোলা প্রসাব খানার দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলার পথে সাধারন লোকজনদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। চলাচলরত লোকজন যখন রাস্তার পাশ দিয়ে যান তখন নাকে কাপড় না ধরলে তারা এই দীর্ঘ রাস্তাটুকু পার হতে পারেন না । এধরনের কর্মকান্ডের ফলে বায়ু ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় দেড় কোটি মানুষের জন্য মাত্র ৯৫টি পাবলিক টয়লেট রয়েছে। এবং অনেক সময় এই ৯৫টি দুর্লভ পাবলিক টয়লেটের পানি ও বিদ্যুৎ ঠিকমতো থাকে না। ২০১৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২৫টি পাবলিক টয়লেট ঠিকঠাকভাবে ব্যবহার উপযোগী।

ঢাকা সিটি করপোরেশন ২০১০ সালের স্যানিটেশন কর্মসূচির আওতায় নতুন নতুন পাবলিক টয়লেট নির্মাণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাইভেট ঠিকাদারদের সে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ নতুন পাবলিক টয়লেট করার মতো ক্ষমতা বা জনবল সিটি করপোরেশনের নেই। কিন্তু এই পদ্ধতি কাজে লাগেনি। কারণ প্রাইভেট ঠিকাদাররা জায়গাগুলো নিয়ে পাবলিক টয়লেটের বদলে সেখানে পানি বিক্রি করেন বা গাড়ি ধোয়ার কাজে ব্যবহার করেন। এমনকি মাঝে মাঝে সেখানে ভাড়ায় নিম্ন আয়ের লোকজনকে রাতে ঘুমাতে দেওয়া হয়।

ঢাকায় পাবলিক টয়লেটের এই সংকটে নারী-পুরুষ সবাই ভুক্তভোগী। পুরুষদের খোলা রাস্তায় সে কর্ম সম্পাদনের সুবিধা রয়েছে। ফুটপাত, গলির রাস্তায় বা রেলের পাশে প্রায়ই পুরুষদের মূত্রত্যাগের ব্যাপারটা খুব চেনা দৃশ্য। বৃষ্টির দিনে ড্রেনের পাশে সারি সারি ছাতা দেখবেন যার নিচে বসে পুরুষরা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিচ্ছেন। ঢাকায় রাস্তার আশপাশের প্রায় সব দেয়ালেই প্রস্রাবের কাজটি করার স্বাধীনতা পুরুষদের রয়েছে।

নগরে নাগরিক সুবিধাগুলোর মধ্যে পাবলিক টয়লেট স্থাপন অন্যতম প্রনিধানযোগ্য। এর সাথে জড়িয়ে আছে নাগরিক সুবিধা, জন স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের উন্নয়ন সাধন। দুই সিটি কর্পোরেশন কতৃপক্ষ ইদানীং কিছূ নতুন পাবলিক টয়লেট বানানোর উদ্যোগ গ্রহন করেছেন কিন্তু তা একেবারেই চাহিদার তুলনায় সামান্য। সর্বপরি রাজধানির বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারযোগ্য পাবলিক টয়লেট বানানোর উদ্যোগ সম্পূর্ণরুপে গ্রহনযোগ্য হোক এটাই জনগনের কাম্য।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।