প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » কবি জীবনানন্দ দাশের ১১৮ তম জন্মবার্ষিকী আজ

কবি জীবনানন্দ দাশের ১১৮ তম জন্মবার্ষিকী আজ

 খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর

কবি জীবনানন্দ দাশ-বিংশ শতাব্দীর এই কবিকে এখনো এক নামেই চিনি আমরা। তার কবিতার ধরণ, ছন্দের মাধুর্য্যতা-সবকিছুরই ছিল এক আলাদা বৈশিষ্ট্য। এই কারণে তার কবিতাগুলো এখনও রয়েছে আমাদের দেশের পাঠ্যবইগুলোতে।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মসূত্রে তার নাম ছিল জীবনানন্দ দাশগুপ্ত। কিন্তু ত্রিশের দশকে তিনি তার নামের সাথে যুক্ত ‘গুপ্ত’ বর্জন করে শুধু দাশ রাখেন। তার ডাকনাম ছিল মিলু। কখনো কখনো ‘শ্রী’, ‘কালপুরুষ’ এ ধরণের ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন তিনি। তাকে বাংলা ভাষার অন্যতম ‘শুদ্ধতম কবি’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

জীবনানন্দ দাশের পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের শিক্ষক, প্রাববন্ধিক, বরিশাল ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক ও মুখপাত্র, ‘ব্রাহ্মবাদী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। তার মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন গৃহিণী, কিন্তু তিনি কবিতা লিখতেন। তার লেখা কবিতা ‘আদর্শ ছেলে’ আজও আমাদের দেশের শিশুদের পাঠ্য। জীবনানন্দ দাশ পিতা-মাতার প্রথম সন্তান। জীবনানন্দ ছিলেন লাজুক স্বভাবের। জীবনানন্দ দাশ বাংলা ভাষার অন্যতম পথিকৃৎ হলেও জীবদ্দশায় তিনি জনপ্রিয়তা পান নি। তার মৃত্যুর পর থেকে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হন। তিনি কবি হলেও মৃত্যুর পর তার লেখা ২১ টি উপন্যাস এবং ১০৮ টি ছোটগল্প প্রকাশ হয়,যা বেঁচে থাকতে তিনি প্রকাশিত করে যাননি।

শিক্ষাজীবনঃ ১৯০৮ সালে জীবনানন্দকে ব্রজমোহন স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভরতি করানো হয়। সেখান থেকেই তার বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শেখার সূচনা। ছবি আঁকার দিকেও তার ঝোঁক ছিল। ১৯১৫ সালে ব্রজমোহন বিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে ম্যাট্রিকিউলেশন (বর্তমানে এসএসসি বা মাধ্যমিক) পাশ করেন। দু’বছর পর ব্রজমোহন কলেজ থেকে আবারও প্রথম শ্রেণিতে ইন্টারমিডিয়েট (উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি) পাশ করেন। ১৯১৯ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অনার্স সহ বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। অতঃপর আইন পড়া শুরু করলেও তা আর শেষ করেননি।

ব্যক্তিগত জীবনঃ জীবনানন্দ দাশ ১৯৩০ সালের ৯ ই মে (২৬ বৈশাখ,১৩৩৭ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ মন্দিরে রোহিনীকুমার গুপ্তের কন্যা লাবণ্য গুপ্তকে বিয়ে করেন। তার ছেলের মেয়ে মঞ্জুরি দাশ ও পুত্র সমরানন্দ দাশ।

সাহিত্যিক জীবনঃ ১৯১৯ সালে জীবনানন্দ দাশের প্রথম কবিতাটি বের হয়,যার নাম ‘বর্ষা আবাহন’। এটি ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় বের হয়েছিল। সম্ভবত মা কুসুমকুমারী দাশের প্রভাবেই তিনি পদ্য লিখতে শুরু করেন। তখন তিনি শ্রী জীবনানন্দ দাশগুপ্ত নামে লিখতেন। ১৯২৭ সাল থেকে তিনি জীবনানন্দ দাশ নামে লেখা শুরু করেন। জীবদ্দশায় তার ৭ টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ছিল ‘ঝরাপালক’। তবে এতে তার কবিতার স্বকীয়তা ফুটে ওঠেনি। দীর্ঘ ব্যবধানে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ধূসর পান্ডুলিপি’। সেটির কারণে বেশ প্রশংসা পান তিনি। তবে তার শেষের দিককার কবিতাগুলোতে অর্থনির্মলতার অভাব ছিল। যার কারণে ‘সাতটি তারার তিমির’ প্রকাশিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দূর্বোধ্যতার অভিযোগ ওঠে। জীবনানন্দ দাশ নিজেই ছিলেন তার কবিতার কড়া সমালোচক। তাই সাড়ে আট’শর বেশি কবিতা লিখলেও জীবদ্দশায় ২৬২ টি প্রকাশিত করেছিলেন।

সম্মাননাঃ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলন ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে পরিবর্ধিত সিগনেট সংস্করণ ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থটি বাংলা ১৩৫৯ এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বিবেচনায় পুরস্কৃত করা হয়। আর তার মৃত্যুর পর ১৯৫৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ (১৯৫৪) সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার লাভ করে।

১৯৫৪ সালের ১৪ ই অক্টোবর কলকাতার বলিগঞ্জে এক ট্রাম দূর্ঘটনায় তিনি আহত হন। ট্রামের ক্যাচারে তার শরীর দলিত হয়ে গিয়েছিল। ভেঙ্গে গিয়েছিল কন্ঠা,উরু ও পাঁজরের হাড়। গুরুতরভাবে আহত জীবনানন্দকে ভরতি করা হয় কলকাতার শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতালে। ডাক্তাররা তাকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টা করলেও তাদের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর রাত ১১ঃ৩৪ এ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেদিন বাংলা সাহিত্য হারায় তার অন্যতম এক পথিকৃৎকে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।